বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা, কন্টেইনারে মিলল BMW স্পোর্টস কার



গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা, কন্টেইনারে মিলল BMW স্পোর্টস কার
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি কন্টেইনারে মিলেছে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার। একই কন্টেইনারে পাওয়া গেছে আরেকটি বিএমডব্লিউ সেডানের সামনের অংশ এবং ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক।

কাস্টমসের নথিতে কন্টেইনারটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অমিল ধরা পড়ে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’-এর আমদানি করা কন্টেইনারে এসব পণ্য পাওয়া যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’ থেকে চালানটি পাঠানো হয়। আর খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড’।

পরীক্ষার সময় কন্টেইনারের ভেতরে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২৫০০ সিসি। ঘোষণায় সাধারণ ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের কথা বলা হলেও গাড়িটি সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় থাকায় তা ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে মেলেনি।

এ ছাড়া কন্টেইনারে পাওয়া যায় ২০১৬ সালের প্রায় ৩০০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ-কাট। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে খালাস করা হয়েছে কি না, অথবা পরবর্তী চালানে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

একই কন্টেইনারে ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাকও পাওয়া যায়। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতর বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ কৌশলে প্যাক করে রাখা হয়েছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় আলাদা আলাদা চালানে এনে পরে দেশে পুনঃসংযোজনের একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এভাবে প্রকৃত পণ্য ও এর মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এদিকে কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া সব পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকৃত শুল্ক মূল্যও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩ ও বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে গাড়ি বা গাড়ির বিভিন্ন অংশ আমদানির সম্ভাব্য চক্র ঠেকাতে চট্টগ্রাম বন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা, কন্টেইনারে মিলল BMW স্পোর্টস কার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি কন্টেইনারে মিলেছে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার। একই কন্টেইনারে পাওয়া গেছে আরেকটি বিএমডব্লিউ সেডানের সামনের অংশ এবং ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক।

কাস্টমসের নথিতে কন্টেইনারটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অমিল ধরা পড়ে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’-এর আমদানি করা কন্টেইনারে এসব পণ্য পাওয়া যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’ থেকে চালানটি পাঠানো হয়। আর খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড’।

পরীক্ষার সময় কন্টেইনারের ভেতরে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২৫০০ সিসি। ঘোষণায় সাধারণ ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের কথা বলা হলেও গাড়িটি সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় থাকায় তা ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে মেলেনি।

এ ছাড়া কন্টেইনারে পাওয়া যায় ২০১৬ সালের প্রায় ৩০০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ-কাট। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে খালাস করা হয়েছে কি না, অথবা পরবর্তী চালানে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

একই কন্টেইনারে ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাকও পাওয়া যায়। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতর বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ কৌশলে প্যাক করে রাখা হয়েছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় আলাদা আলাদা চালানে এনে পরে দেশে পুনঃসংযোজনের একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এভাবে প্রকৃত পণ্য ও এর মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এদিকে কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া সব পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকৃত শুল্ক মূল্যও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩ ও বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে গাড়ি বা গাড়ির বিভিন্ন অংশ আমদানির সম্ভাব্য চক্র ঠেকাতে চট্টগ্রাম বন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream