সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

নীলফামারীতে চার দফা দাবিতে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান



নীলফামারীতে চার দফা দাবিতে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান

স্থায়ী পুনর্বাসন, নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে লংমার্চ করেছেন বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত অবাঙ্গালী (উর্দুভাষী) জনগোষ্ঠীর কয়েকশ মানুষ। পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই স্মারকলিপি কেন্দ্রীয় ভাবে ঢাকায় লংমার্চ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার এসপিজিআরসি কার্যালয় থেকে ওই লংমার্চ শুরু হয়। অটোরিকশা যোগে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা নীলফামারী জেলা শহরে যান। বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন স্ট্র্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির (এসপিজিআরসি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।

সৈয়দপুর শহরের ২২টি ক্যাম্প থেকে লোকজন এতে অংশ নেন। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা স্থায়ী পুনর্বাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও প্লেকার্ড বহন করেন। পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন।

এসপিজিআরসির দাবির মধ্যে রয়েছে উচ্ছেদকৃত ক্যাম্পবাসীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, স্থায়ী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাম্প উচ্ছেদ না করা, পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীদের নাগরিক ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা এবং সব ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জানমালের যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া।

সৈয়দপুর এসপিজিআরসির নেতা মোবারক বলেন, আমাদের শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়নি। নাগরিক হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, আমরা তা পাচ্ছি না। এখনো ৪ বাই ৪ ফুটের কক্ষে ১০ থেকে ১২ জন করে ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। আমরা করুণা চাই না, আমাদের মৌলিক অধিকার চাই।

সংগঠনটির আরও কয়েকজন নেতা ওয়াসিম, নাসিম ও মেরাজ বলেন, নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবে তারা অন্য নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। তাদের ভাষায়, রাস্তার পাগল ও কুকুরও ভালো আছে, কিন্তু আমরা ভালো নেই। শুধু নামের নাগরিক করা হয়েছে আমাদের।

তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটছে। নারায়ণগঞ্জে ২৫০ পরিবারের একটি ক্যাম্প উচ্ছেদ করা হলেও তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হয়নি। ফলে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে দাবি করেন তারা।

বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়ে তারা বলেন, তারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ চান না। অন্যান্য নাগরিকের মতো তারাও বিদ্যুৎ বিল দিতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তাদের অন্যান্য নাগরিকের মতো প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে সকাল থেকেই সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি এলাকায় এসপিজিআরসি কার্যালয়ে ২২টি ক্যাম্প থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে সংগঠিতভাবে লংমার্চ নিয়ে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এসপিজিআরসির নেতারা জানান, শুধু সৈয়দপুর নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


নীলফামারীতে চার দফা দাবিতে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

স্থায়ী পুনর্বাসন, নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে লংমার্চ করেছেন বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত অবাঙ্গালী (উর্দুভাষী) জনগোষ্ঠীর কয়েকশ মানুষ। পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই স্মারকলিপি কেন্দ্রীয় ভাবে ঢাকায় লংমার্চ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার এসপিজিআরসি কার্যালয় থেকে ওই লংমার্চ শুরু হয়। অটোরিকশা যোগে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা নীলফামারী জেলা শহরে যান। বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন স্ট্র্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির (এসপিজিআরসি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।

সৈয়দপুর শহরের ২২টি ক্যাম্প থেকে লোকজন এতে অংশ নেন। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা স্থায়ী পুনর্বাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও প্লেকার্ড বহন করেন। পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন।

এসপিজিআরসির দাবির মধ্যে রয়েছে উচ্ছেদকৃত ক্যাম্পবাসীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, স্থায়ী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাম্প উচ্ছেদ না করা, পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীদের নাগরিক ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা এবং সব ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জানমালের যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া।

সৈয়দপুর এসপিজিআরসির নেতা মোবারক বলেন, আমাদের শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়নি। নাগরিক হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, আমরা তা পাচ্ছি না। এখনো ৪ বাই ৪ ফুটের কক্ষে ১০ থেকে ১২ জন করে ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। আমরা করুণা চাই না, আমাদের মৌলিক অধিকার চাই।


সংগঠনটির আরও কয়েকজন নেতা ওয়াসিম, নাসিম ও মেরাজ বলেন, নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবে তারা অন্য নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। তাদের ভাষায়, রাস্তার পাগল ও কুকুরও ভালো আছে, কিন্তু আমরা ভালো নেই। শুধু নামের নাগরিক করা হয়েছে আমাদের।

তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটছে। নারায়ণগঞ্জে ২৫০ পরিবারের একটি ক্যাম্প উচ্ছেদ করা হলেও তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হয়নি। ফলে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে দাবি করেন তারা।

বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়ে তারা বলেন, তারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ চান না। অন্যান্য নাগরিকের মতো তারাও বিদ্যুৎ বিল দিতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তাদের অন্যান্য নাগরিকের মতো প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে সকাল থেকেই সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি এলাকায় এসপিজিআরসি কার্যালয়ে ২২টি ক্যাম্প থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে সংগঠিতভাবে লংমার্চ নিয়ে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এসপিজিআরসির নেতারা জানান, শুধু সৈয়দপুর নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream