অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হওয়াকে জাতির জন্য চরম দীনতা ও ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ:
ভোগান্তি মুক্ত সেবা: অতীতে প্রাপ্য টাকা তুলতে শিক্ষকদের নানা হয়রানি ও ঘুষ দিতে হলেও, বর্তমান সরকার কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি অনলাইনে শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে।
বিপুল সংখ্যক শিক্ষক উপকৃত: এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের আর্থিক অনিশ্চয়তার অবসান হবে। সামগ্রিকভাবে ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আসছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ স্মরণ: প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিরোমন্থন করে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে ‘শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর চালু করা নারী শিক্ষা উপবৃত্তি ও বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
তহবিলের অর্থ সংকটের কারণ: আগের সরকারের সময়ে জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে টাকা সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নষ্ট করে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা ভাতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বর্তমান সরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় টাকা সংগ্রহ করে তা পরিশোধ শুরু করেছে।
শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা ও চাকরিজীবন শেষে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোগান্তি আর হতে দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
মতামত