শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ

গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবগুলো সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরি গ্যাস না থাকায় বন্ধ রয়েছে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন। এতে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জানা গেছে, সংকট শুরু হয় গত বুধবার থেকেই। প্রথমে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে একে একে সব স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হলেও চাহিদা রয়েছে এর প্রায় দ্বিগুণ। সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গ্যাসের চাপ ছিল অস্বাভাবিক কম। নির্ধারিত ১৫ পিএসআইয়ের পরিবর্তে অনেক সময় মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

শেষ পর্যন্ত বুধবার থেকে সরবরাহ আরও কমিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন রাত থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় গ্যাস।

এর প্রভাব পড়েছে সড়কে। গ্যাসের অভাবে কমে গেছে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা। কিছু চালক বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করলেও বাড়িয়ে দিয়েছেন ভাড়া।

একজন যাত্রী জানান, নিয়মিত ৪০ টাকার ভাড়ার পথ যেতে তাকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অটোরিকশা পেলেও ৮০ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় যেতে হয়েছে তাকে।

চালকদের দাবি, গ্যাস না থাকায় এলপিজিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় যানবাহনে জ্বালানি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কোনো স্টেশনকে আগামী রোববার বা সোমবার গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলেও নিশ্চিত সময় জানানো হয়নি।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা বলছে, এলএনজি সংকটের কারণেই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট কবে নাগাদ কাটবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

ফলে গ্যাস সংকট শুধু ফিলিং স্টেশনেই থেমে নেই—এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও যাত্রীদের পকেটে। কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি, সেটিই এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের বড় প্রশ্ন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবগুলো সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরি গ্যাস না থাকায় বন্ধ রয়েছে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন। এতে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জানা গেছে, সংকট শুরু হয় গত বুধবার থেকেই। প্রথমে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে একে একে সব স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হলেও চাহিদা রয়েছে এর প্রায় দ্বিগুণ। সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গ্যাসের চাপ ছিল অস্বাভাবিক কম। নির্ধারিত ১৫ পিএসআইয়ের পরিবর্তে অনেক সময় মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

শেষ পর্যন্ত বুধবার থেকে সরবরাহ আরও কমিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন রাত থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় গ্যাস।

এর প্রভাব পড়েছে সড়কে। গ্যাসের অভাবে কমে গেছে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা। কিছু চালক বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করলেও বাড়িয়ে দিয়েছেন ভাড়া।

একজন যাত্রী জানান, নিয়মিত ৪০ টাকার ভাড়ার পথ যেতে তাকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অটোরিকশা পেলেও ৮০ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় যেতে হয়েছে তাকে।

চালকদের দাবি, গ্যাস না থাকায় এলপিজিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় যানবাহনে জ্বালানি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কোনো স্টেশনকে আগামী রোববার বা সোমবার গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলেও নিশ্চিত সময় জানানো হয়নি।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা বলছে, এলএনজি সংকটের কারণেই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট কবে নাগাদ কাটবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

ফলে গ্যাস সংকট শুধু ফিলিং স্টেশনেই থেমে নেই—এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও যাত্রীদের পকেটে। কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি, সেটিই এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের বড় প্রশ্ন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream