রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

সৌদিতে আগুনে দুই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

সৌদিতে আগুনে দুই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা
‘আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তানকে হারিয়ে চরম দিশেহারা নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মা ময়না খাতুন। নিহত দুই ভাই সুমন প্রামাণিক ও মোহন প্রামাণিক পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচানোর আকুতির মাঝেই মা ময়না খাতুনকে শেষ ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন মেজো ছেলে মোহন। আতঙ্কে থরথর কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, “মা, দুইটা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।” এটিই ছিল মায়ের সঙ্গে তার জীবনের শেষ যোগাযোগ।

অগ্নিকাণ্ডের স্থান ও সময়: গত রোববার দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে।

বড় ছেলে সুমন সাত বছর এবং মেজো ছেলে মোহন দুই বছর ধরে সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। দেনা শোধ করে কেবল ঘরের কাজ শুরু করেছিলেন তারা। দেশে ফিরে বিয়ে করা এবং নতুন বিল্ডিং তৈরির স্বপ্ন ছিল মোহনের।

সন্তানদের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন মা ময়না খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দে বাবা। আমার বাবাদের দেখে আমি কলিজা শান্তি করব।”

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রিয়াদের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও স্বসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিষয় : সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৌদিতে আগুনে দুই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তানকে হারিয়ে চরম দিশেহারা নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মা ময়না খাতুন। নিহত দুই ভাই সুমন প্রামাণিক ও মোহন প্রামাণিক পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচানোর আকুতির মাঝেই মা ময়না খাতুনকে শেষ ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন মেজো ছেলে মোহন। আতঙ্কে থরথর কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, “মা, দুইটা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।” এটিই ছিল মায়ের সঙ্গে তার জীবনের শেষ যোগাযোগ।

অগ্নিকাণ্ডের স্থান ও সময়: গত রোববার দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে।

বড় ছেলে সুমন সাত বছর এবং মেজো ছেলে মোহন দুই বছর ধরে সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। দেনা শোধ করে কেবল ঘরের কাজ শুরু করেছিলেন তারা। দেশে ফিরে বিয়ে করা এবং নতুন বিল্ডিং তৈরির স্বপ্ন ছিল মোহনের।

সন্তানদের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন মা ময়না খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দে বাবা। আমার বাবাদের দেখে আমি কলিজা শান্তি করব।”

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রিয়াদের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও স্বসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় করা হচ্ছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream