তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের জনজীবন। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই চলছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা। দিনের প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি রাতেও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র শিল্প, পোল্ট্রি খামারসহ বিভিন্ন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আজ রোববার দিনাজপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এমন গরমের দিনে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর পৌর এলাকায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৫৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৫ থেকে ৩৬ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে প্রায় ২১ মেগাওয়াট। এ ঘাটতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে এক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় সরবরাহ চালু রাখতে হচ্ছে।
দিনাজপুর নেসকো-১ বিভাগের আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এ বিভাগে ঘাটতি প্রায় ৯ মেগাওয়াট। অন্যদিকে নেসকো-২ বিভাগের চাহিদা প্রায় ৩২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২০ মেগাওয়াট। ফলে এ বিভাগে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১২ মেগাওয়াট। দুই বিভাগ মিলিয়ে শহরে বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২১ মেগাওয়াট।
দিনাজপুর নেসকো-১-এর ম্যানেজার রুবেল হাওলাদার বলেন, দুপুরে তাদের বিভাগের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ২৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকায় এক পাশের লাইন বন্ধ রেখে অন্য পাশে সরবরাহ দিতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দিনাজপুর নেসকো-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, দিনাজপুর পৌর এলাকায় দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে শহরে মোট চাহিদা প্রায় ৫৬ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ মেগাওয়াট। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
দিনাজপুর শহরের নিমতলা এলাকার অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। অনেক সময় রাত ৮টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে বিক্রি কমে গেছে। দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ওয়ারিং ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করেই তাদের কাজ করতে হয়। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিং এবং সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করে দিতে হওয়ায় ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মতামত