জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রতিষ্ঠার ১০৭ বছর পরেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোয়াঁ লাগেনি বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসায়। ফলে জরাজীর্ণ ভবনেই পড়া লেখা করছে ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী।
জানা গেছে ১৯১৯ সালে বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় বীরগাও গ্রামে প্রতিষ্ঠা হয় বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসা। এর প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী রিয়াজুল ইসলাম মন্ডল। ৪ একর জমি জুড়ে মাদরাসার ক্যাম্পাস। এ মাদরাসার নামে মোট জমি রয়েছে ৫০ একর। মাদরাসাটি এবতেদায়ি থেকে কামিল শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৩৫ জন। শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে রয়েছে ৪০ জন।
বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ১২ জন ব্যাক্তি সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন- নোয়াখালী হজুর( তার প্রকৃত নামের ইতিহাস নেই), কারী মাওলানা বুদু মিয়া, আব্দুল আজিজ খন্দকার, মীর হাসমত আলী, আজিজ খন্দকার, নূর আহমদ শরীফ, আব্দুল আজিজ খন্দকার, লুৎফর রহমান, আব্দুল ওয়াহাব, মীর হাসমত আলী, বজলুছ সোবহান ও এএনএম কামরুজ্জামান।
বর্তমান অধ্যক্ষসহ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালিন করেছেন মোট ৬জন। তারা হলেন- আমজাদ হোসাইন, আব্দুল কুদ্দুছ আকন্দ, এএসএম শফিকুর রহমান, আদেল ইবনে আওয়াল, মাহমুদুর রহমান ও বর্তমান অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ খসরু।
শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় থাকলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়। পড়া লেখার আগ্রহ বাড়ে। বর্তমানে এ মাদরাসায় অবকাটামোগত সমস্যাসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। আধুনিক যুগেও বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসায় মান্ধ্যাতা আমলের পরিবেশ বিদ্যমান। ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে সব চেয়ে প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসা। তার পরেও সরকারিভাবে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা বলেন, দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসায়। বকশীগঞ্জ উপজেলার ১৬টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানে পাবলিক পরীক্ষা দিয়ে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমান অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।
শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসা। এই মাদরাসায় পড়া লেখা করে অনেক শিক্ষার্থী দেশে - বিদেশে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদরাসাটি উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি পাবলিক ফলাফল সন্তোষ জনক। ধর্মীয় শিক্ষা সম্প্রসারণে মাদরাসাটির অবদান যথেষ্ট। কিন্তু মাদরাসার উন্নয়ন হয়নি।
এব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ খসরু বলেন, মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর যে সব ভবন গুলো করা হয়েছে প্রতিটি ভবন জরাজীর্ণ। বর্তমানে জরাজীর্ণ ভবন গুলোতেই পাঠদান চলমান আছে। ক্যাম্পাসে যথেষ্ট পরিমান জায়গা আছে। কিন্তু সরকারিভাবে মাদরাসার উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবগাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি বিজ্ঞানগার সমস্যাও বিদ্যমান। মাদরাসা প্রতিষ্ঠার বয়স ১০৭ বছর। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বহুতল ভবন নির্মাণ হয়নি। মাদরাসার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে বার বার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সাড়া মিলেনি। ১০৭ বছরে ৩ কক্ষের একটি একতলা ভবন ছাড়া মাদরাসার কোন উন্নয়ন হয়নি।
মতামত