শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

মতামত

পারিবারিক ঐতিহ্য বনাম রাজনৈতিক ভাষার মার্জিত রূপ: রাশেদ খানের বক্তব্যে ক্ষোভ, ক্ষমা প্রার্থনার জোর দাবি

পারিবারিক ঐতিহ্য বনাম রাজনৈতিক ভাষার মার্জিত রূপ: রাশেদ খানের বক্তব্যে ক্ষোভ, ক্ষমা প্রার্থনার জোর দাবি

বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি সবসময়ই বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যে সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত—আর তা হলো ভাষা ও আচরণের পারিবারিক শালীনতা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—কাউকে কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে কুৎসিত বা কটু ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। বেগম খালেদা জিয়া প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করলেও তাঁর ভাষার ভেতরে উচ্চমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও বিনয় প্রকাশ পেত। এই ঐতিহ্য ও শালীন ভাষার কারণেই সাধারণ মানুষ বিএনপিকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলাদা হিসেবে সম্মান করে এসেছে।​তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান কর্তৃক জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে লক্ষ্য করে চরম আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ প্রয়োগের ঘটনায় নাগরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।রাজনীতিতে ভুল বক্তব্য বা আবেগের বশবর্তী হয়ে মন্তব্য করা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু যখন তা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখ থেকে আসে, তখন তা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে দেয়। লেখক ও সচেতন সমাজের মতে, নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর মতো তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেমতপার্থক্য থাকলেও কোনো অবস্থাতেই অশালীন শব্দ বা গালিগালাজ সমর্থনযোগ্য নয়। এমন আচরণে প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক ইমেজ ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।​দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবং দলের দায়িত্বশীল সমর্থক মহল স্পষ্টভাবে মনে করেন, রাশেদ খানের এই মন্তব্যের জন্য তাঁর নিজের ভুল স্বীকার করে অবিলম্বে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়, কিন্তু ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করাই হচ্ছে একজন রাজনীতিবিদের প্রকৃত শালীনতার পরিচয়।​যদি তিনি নিজ থেকে ক্ষমা না চান, তবে দেশের সচেতন জনসাধারণ ও নাগরিক সমাজ এর প্রতিবাদ জানাবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক শিষ্টাচারের ঐতিহ্য রক্ষা করতে যেকোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যের ক্ষেত্রে সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক থাকা জরুরি।

ডিজিটাল স্লোগান বনাম বাস্তব চিত্র: কেন যুগের পর যুগ পিছিয়ে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার?

​'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার কথা আমরা হরহামেশাই শুনি, অথচ দেশের পুঁজিবাজারে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী পা রাখলেই টের পান বাস্তবতার কঙ্কালসার রূপ। প্রতিনিয়ত অ্যাপ হ্যাং করা বা প্রযুক্তিগত বিভ্রাট কেবল একটি সাময়িক সমস্যা নয়; এটি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা গভীর কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।  ​কেন এতদিনেও ঠিক হচ্ছে না বাংলাদেশের শেয়ার বাজার? সমস্যাগুলো আসলে কোথায়?  ​দুর্বল ও জরাজীর্ণ আইটি অবকাঠামো: ডিএসই (DSE)-র সার্ভার ডাউন হওয়া বা সফটওয়্যার জটিলতা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কোটি কোটি টাকার লেনদেন যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়, তার প্রযুক্তিগত মান বিশ্বমানের তো দূরের কথা, সাধারণ অ্যাপের চেয়েও ধীরগতির। অথচ বহু আগে ডিএসইর প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ ও বিদেশি কৌশলগত অংশীদারদের যুক্ত করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন থমকে আছে।  ​পুঁজিবাজারের প্রতি পলিসি মেকারদের অবহেলা: ব্যাংকনির্ভর ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে শিল্প খাত বা বড় বড় প্রজেক্ট কখনোই শেয়ার বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত হয় না। ফলে বাজারটি অর্থায়নের মূল হাতিয়ার না হয়ে স্রেফ একটি সেকেন্ডারি কেনাবেচার জায়গায় পরিণত হয়েছে।  ​ভালো কোম্পানির তীব্র অভাব (আইপিও খরা): বাজারে বছরের পর বছর ধরে ভালো ও মৌলিকভাবে শক্তিশালী (Fundamentally Strong) মাল্টিন্যাশনাল বা স্বনামধন্য দেশীয় কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার (IPO) আসা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। বাজারে ভালো শেয়ারের জোগান না থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে কীভাবে?  ​কারসাজি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা: শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে ওঠানামা করানো এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকিয়েছে।​ব্রোকারেজ হাউসগুলোর উদাসীনতা: অনেক ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ইউজার-ফ্রেন্ডলি অ্যাপ বা দ্রুতগতির এপিআই (API) সুবিধা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ।কারিগরি সমস্যা হলে সময়মতো সাপোর্ট দেওয়ার মতো দক্ষ জনবলও তাদের নেই।  ​শেয়ার বাজার কেবল কয়েকজন ট্রেডারের জুয়া খেলার জায়গা নয়; এটি যেকোনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। খালি মুখে 'স্মার্ট' না বলে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BSEC) ও এক্সচেঞ্জগুলোর উচিত অবিলম্বে আধুনিক ও শক্তিশালী আইটি অবকাঠামো নিশ্চিত করা, ভালো কোম্পানি বাজারে আনা এবং বাজারের সুশাসন নিশ্চিত করা। সাধারণ বিনিয়োগকারীর ঘাম ঝরানো টাকা আর প্রযুক্তির বলি  না হন!

ডিজিটাল স্লোগান বনাম বাস্তব চিত্র: কেন যুগের পর যুগ পিছিয়ে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার?

সুশাসনের অভাব, কারসাজি ও নীতিগত অস্থিরতায় মুখথুবড়ে পড়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সূচক সাময়িক বৃদ্ধি পেলেও স্থায়ী ও টেকসই মন্দাভাব বা দীর্ঘমেয়াদী দরপতন এখানে সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে—কেন অন্যান্য দেশের অর্থনীতি বৃদ্ধির সঙ্গে বাজার এগোলেও বাংলাদেশের বাজারে উত্থান স্থায়ী হয় না?​১. ভালো ও মৌলিক শেয়ারের তীব্র অভাব (Low Quality IPOs)বাজারে মানসম্মত কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা অত্যন্ত কম। বহুজাতিক ও শক্ত ভিতের দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। বহু দুর্বল ও নামসর্বস্ব কোম্পানি ভুল এবং অতিরঞ্জিত আর্থিক বিবরণী জমা দিয়ে বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।​২. কারসাজি ও সিন্ডিকেট (Market Manipulation)বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের চেয়ে গুজোব ও সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক লেনদেন বেশি দেখা যায়। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা চক্র দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে। পরবর্তীতে তারা লাভ তুলে নিয়ে কেটে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হন।​৩. নিয়ন্ত্রক সংস্থার (BSEC) নীতিগত অস্থিতিশীলতাবাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (BSEC) নীতিমালায় ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারের গতিশীলতা নষ্ট করে। যেমন: দীর্ঘ সময় ধরে 'ফ্লোর প্রাইস' (Floor Price) কার্যকর রাখার ফলে বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের হস্তক্ষেপ প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করেছে।​৪. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দুর্বল ভূমিকাএকটি পরিপক্ক শেয়ারবাজারে ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার বদলে নিজেরাও অনেক সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো জল্পনা-কল্পনানির্ভর (speculative) ট্রেডিংয়ে জড়িয়ে পড়ে।​৫. সুশাসনের অভাব ও দুর্বল তদারকি (Lack of Corporate Governance)অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করে না। অনিয়মিত লভ্যাংশ ঘোষণা, ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন এবং অর্জিত মুনাফা সঠিকভাবে বণ্টন না করার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। একইসাথে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব রয়েছে।​৬. ব্যাংকিং খাতের অস্থিতিশীলতাবাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সাথে দেশের ব্যাংকিং খাত গভীরভাবে যুক্ত। ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং তারল্য সংকট সরাসরি পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলে।​কারও একক দোষ দিয়ে এই জটিল পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। DSE/CSE-র দুর্বল তদারকি, BSEC-র নীতিগত ভুল ও প্রয়োগের দুর্বলতা, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সুশাসনের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দায়িত্বহীনতা—সব মিলিয়েই আজকের এই অবস্থা।​পুঁজিবাজারকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি বন্ধ করা, অনিয়মকারীদের কঠোর শাস্তি প্রদান এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

সুশাসনের অভাব, কারসাজি ও নীতিগত অস্থিরতায় মুখথুবড়ে পড়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

এক দুর্ম্মদ প্রেম

বলেছো, বিশেষ কিছু বলবার মতো সময় নাকি পেরিয়ে গেছে—আমি বলি, সময়ের শেষ স্টেশনেও তোমার জন্য আমার ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে।শেষ বাঁশি বেজে গেলে পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল থেমে যাবে,তবু তোমার নামটি আমার বুকের ভেতর নিঃশব্দে বাজতেই থাকবে।বৃষ্টি-শূন্য মেঘে যদি আকাশ ভেসে যায়, আমি দু’হাত বাড়িয়ে রাখব,তোমার চোখের কাজল থেকে ধার নেব এক ফোঁটা শান্ত সমুদ্র।উইন্ডস্ক্রিন ঝাপসা হলে পথ চিনব না—তোমার মুখ চিনব,দর্শকশূন্য আসনগুলোতে বসে একাই তোমার জন্য হাততালি দেব।মেয়াদোত্তীর্ণ প্রেমের কবিতাগুলো ফেলে দিও না—আমি তাদের প্রতিটি পুরোনো অক্ষরে নতুন করে তোমাকে ভালোবাসব।যে নাবিক বেঁচে গেছি বলে প্রাণ খুলে গান গাইত, সে যদি মৃতও হয়,তার অসমাপ্ত গান আমি তুলে নেব আমার রক্তের ভেতর থেকে।তোমার প্রেমের বারো হাতের বুনন খুলে গেলে ভয় পেয়ো না,আমি অর্বাচীনের মতো নয়—উন্মাদের মতো তোমার ছেঁড়া সুতোয় নিজেকে বুনব।আর তুমি যদি স্বপ্ন দেখতে গিয়ে রাতের ভেতর কেঁদে ওঠো,জেনে রেখো, অন্য কোনো ঘুমে আমি তোমার কান্নার পাশে জেগে আছি।বলেছো তো, স্মৃতিচারণে বিশেষ কিছু বলবার নেই—তাহলে এসো, স্মৃতি নয়, আমরা দু’জন মিলে ভবিষ্যৎ লিখে ফেলি।জন্মের পর থেকেই যদি নিজেকে সত্তর বছরের বৃদ্ধ বলে মনে হয়ে থাকে,আমার কাছে এসো—আমি তোমার কপালে একটি নতুন শৈশব এঁকে দেব।শৈশব, কৈশোর, যৌবন—এসব বায়বীয় শব্দ না হয় থাকলই,তোমার হাতের উষ্ণতাই হোক আমার কাছে বয়সের একমাত্র সংজ্ঞা।ভাগাভাগি করে যদি বেঁচে থাকো, এবার তোমার অর্ধেক জীবন আমাকে দাও,আমি আমার জীবনটারে তোমার কাছে রেখে দেব।নামবার মতো সুলভ কোনো স্টেশন না পেয়ে এতদিন নামোনি—আমি তোমার জন্য নির্জন এক প্ল্যাটফর্ম হবো, যেখানে কোনো শেষ ট্রেন নেই।যদি মনে হয় এখনও কিছু বদলে দেওয়া সম্ভব,তবে আমার হাত ধরো—আমরা দু’জনে মিলে সময়ের বুক উল্টে দেব।দুর্লভ জীবন-নদী যদি তোমাকে ডুবিয়ে দিতে চায়,আমি সাঁতার জানি না তবু তোমার সঙ্গে ডুবতে রাজি আছি।হে অপরিচিত, ক্ষমা চেও না—তোমার অপরাধ যদি ভালোবাসা হয়, তবে সেই অপরাধের একমাত্র সাক্ষী আমি।করুণা করার আগে আমাকে ভালোবেসো,আর ভালোবাসার পর ক্ষমা কোরো না—কারণ তোমাকে একবার ভালোবেসে ফেললেতোমার মৃত্যুর জবানবন্দীতেও আমিআমার জীবনের স্বাক্ষর রেখে যাব।

এক দুর্ম্মদ প্রেম

মেগা প্রজেক্ট থেকে ক্ষমতা বদল: আওয়ামী লীগ আমলের হিসাব-নিকাশ ও বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত দেড় দশকের ইতিহাস এক জটিল ও বহুমুখী পরিক্রমা। একদফা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতি বাংলাদেশকে এক নতুন মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। তাদের প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে উন্নয়ন ও অনিয়মের এক বৈপরিত্যপূর্ণ চিত্র ফুটে ওঠে, যা দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর দাগ রেখে গেছে।​অবকাঠামোগত মাইলফলক: আওয়ামী লীগ আমলের ইতিবাচক দিক​ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের দৃশ্যমান যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামোয় অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে।  ​ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল: প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা (২১০-২২০ বিলিয়ন টাকা) ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের ৩য় টার্মিনাল প্রকল্প। এই আধুনিক টার্মিনালটি দেশের বিমান যোগাযোগ খাতকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।  ​স্বপ্নের মেগা প্রজেক্টসমূহ: নিজেদের অর্থায়নে তৈরি 'পদ্মা বহুমুখী সেতু', ঢাকার যানজট নিরসনে 'মেট্রোরেল' ও 'এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে', চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম 'বঙ্গবন্ধু টানেল' এবং দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বহুলাংশে প্রসারিত করেছে।​প্রযুক্তিগত ও বিদ্যুৎ খাতের বিপ্লব: 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ধারণার বাস্তবায়ন, সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মতো প্রাথমিক সাফল্যগুলো দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি এনেছিল।  ​অপরিকল্পিত ব্যবস্থা ও দুর্নীতি: ক্ষয়ক্ষতির খেসারত​তবে বড় বড় অবকাঠামোগত অর্জনের আড়ালে নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া দুর্বলতাগুলো দেশের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল:  ​মেগা প্রকল্পে বিপুল দুর্নীতি ও ব্যয় বৃদ্ধি: বিমানবন্দর টার্মিনাল, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ প্রায় প্রতিটি বড় প্রকল্পের বাজেট বারবার বাড়ানো, অনুমোদনহীন ব্যয় এবং কেনাকাটায় অনিয়মের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।  ​বিদ্যুৎ খাত ও একপাক্ষিক চুক্তি: ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে একপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়ে।  ​জবাবদিহিতাহীন শাসন ব্যবস্থা: সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, ব্যাংক খাতের লুটপাট এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর চরম দলীয়করণের ফলে জনরোষ চরম আকার ধারণ করে, যা শেষ পর্যন্ত একটি বড় সংগঠনকে অমার্জনীয়ভাবে বিদায় নিতে বাধ্য করে।  ​১৮ মাসের ক্রান্তিকাল ও ক্ষমতা পরিবর্তন​আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর দেশে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকে। ক্রান্তিকালীন সময় হওয়ায় এই ১৮ মাসে নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দা সামাল দিতে সাধারণ মানুষকে তীব্র ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতির পূর্ণ স্বাভাবিকতা না আসায় জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ ঘনীভূত হতে থাকে।  ​এরপর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনরায় পেয়ে ২১২টি আসন নিয়ে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন সরকারের ওপর এখন দেশ পুনর্গঠনের বিশাল দায়িত্ব।​নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও জনভাবনা​সরকার পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী ও কঠোর:​১. সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরীক্ষা: বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের প্রথম দায়িত্ব দুর্নীতি, সুবিধাভোগী, দখলদার ও চাঁদাবাজদের শক্ত হাতে দমন করা। যদি বিএনপির ভেতরে এসব অরাজকতা প্রশ্রয় পায়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত হ্রাস পাবে।২. অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা: দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এত শক্ত রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও জনরোষের মুখে আওয়ামী লীগ যেভাবে টিকে থাকতে পারল না—তা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির জন্য অনেক বড় রাজনৈতিক শিক্ষা রয়েছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, সুশাসন ও জনগণের ট্রাস্টই টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।৩. ‘আগের দিনই ভালো ছিল’ মানসিকতার ঝুঁকি: বর্তমান অরাজকতা ও অর্থনৈতিক সংকট যদি বিএনপি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তবে ক্ষুব্ধ জনগণ পূর্বের আমলের প্রতি ভুল সহানুভূতি দেখাতে পারে। মানুষ কোনো রূপকথার পরিবর্তন চায় না—তারা দেখতে চায় দ্রুত বাজারে স্বস্তি, নিরাপদ সড়ক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা।  ​উপসংহার​রাজনৈতিক ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাজনৈতিক শক্তিকে রাতারাতি পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু তারা জনগণের কাছে ফিরে আসতে পারবে কি না, তা নির্ভর করে ক্ষমতাসীন সরকারের চালচলন ও কার্যকারিতার ওপর। অতীতকে কেবল দোষ না দিয়ে নতুন ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি স্বচ্ছতা ও সঠিক নীতি নিয়ে এগিয়ে যায়, তবেই দেশ দীর্ঘদিনের সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে পারে।

মেগা প্রজেক্ট থেকে ক্ষমতা বদল: আওয়ামী লীগ আমলের হিসাব-নিকাশ ও বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল নীতি ও আস্থার সংকটে পঙ্গু ডিএসই: ৭ দশক পেরিয়েও পুঁজিবাজারের ব্যর্থতায় ক্ষোভ

পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো চরম সংকটাপন্ন দেশগুলোর বাজার রেকর্ড গড়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে। ৩৫১টিরও বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানি নিয়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আটকে আছে মাত্র ৬ হাজার পয়েন্টের ঘরে।​ আমাদের বাজার ৭২ বছর আগে যাত্রা শুরু করা একটি শেয়ারবাজার যেখানে পূর্ণাঙ্গ সাবালক হয়ে ওঠার কথা, সেখানে এখনো এটি চরম স্থবিরতায় হামাগুড়ি দিচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারের এই ব্যর্থতা ও দৈন্যদশার মূল কারণ হলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অদক্ষতা, ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন এবং বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণের’ নামে দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।আঞ্চলিক বাজারের তুলনামূলক চিত্র​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের আড্ডায় এখন আঞ্চলিক সূচকের এই চরম বৈষম্যের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসছে:​ভারত: বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (NSE) ৫,০০০-এর বেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত। বর্তমানে নিফটি ৫০ সূচক ২৪,০০০–২৫,০০০ পয়েন্টের ঘরে এবং সেনসেক্স ৮০,০০০ পয়েন্টের ওপরে অবস্থান করছে।​পাকিস্তান: চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট পার করার পরও পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের (PSX) কেএসই-১০০ (KSE-100) সূচকটি সম্প্রতি ৮০,০০০ থেকে ৮৫,০০০ পয়েন্টের ওপরে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে।​শ্রীলঙ্কা: কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জে (CSE) তালিকাভুক্ত কোম্পানি মাত্র ২৯০টির মতো। অথচ সঠিক নীতিমালার কারণে সংকট কাটিয়ে তাদের অল শেয়ার প্রাইস ইনডেক্স (ASPI) বর্তমানে ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থান করছে।​বাংলাদেশ: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) মূল বাজারে ৩৫১টিরও বেশি কোম্পানি থাকা সত্ত্বেও প্রধান সূচক (DSEX) দীর্ঘদিন ধরে ৫,০০০ থেকে ৬০০০ পয়েন্টের ঘরে বন্দি হয়ে রয়েছে।​আস্থার সংকট ও নিয়ন্ত্রণের নামে নীতিগত ভুল​বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নীতিনির্ধারকদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।বাজারকে স্বাভাবিক নিয়মে ওঠানামা করতে দেওয়ার বদলে দীর্ঘ দিন কৃত্রিম 'ফ্লোর প্রাইস' দিয়ে আটকে রাখা, ভালো কোম্পানির ক্ষেত্রে অহেতুক তদন্ত কমিশন বসানো এবং স্বাধীন লেনদেনে হস্তক্ষেপের ফলে দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।বিজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ ও উত্তরণের দাবি​বাজার সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞদের মতে, বিএসইসি যদি ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো বাজার পরিচালনায় অভিজ্ঞ কোনো আন্তর্জাতিক মানের অর্থনীতিবিদ বা বিশেষজ্ঞকে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করত, তবে সঠিক কৌশল ও নীতিমালার জোরে ডিএসই সূচক খুব সহজেই ৮ থেকে ১০ হাজার পয়েন্টে উন্নীত হতে পারত।​একটি শেয়ারবাজারের প্রাণ হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করা, নিজে খেলোয়াড় হয়ে বাজার কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। ভুল নীতির কারণে ৭২ বছরের পুরোনো একটি বাজারকে পঙ্গু করে রাখা কেবল ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের মূলধন ধ্বংস করছে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নীতি সংশোধন না করলে এই বাজার কখনোই স্বাবলম্বী হতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল নীতি ও আস্থার সংকটে পঙ্গু ডিএসই: ৭ দশক পেরিয়েও পুঁজিবাজারের ব্যর্থতায় ক্ষোভ

বিএনপির নীতি ও নীরবতা: একটি নাগরিক পর্যবেক্ষণ

​সম্প্রতি অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করছেন—আমি কেন বিএনপি সরকারের বা তাদের কার্যক্রমের ইতিবাচক দিকগুলোর কথা বলছি, কিন্তু তাদের নীতিগত জায়গাগুলো নিয়ে কোনো সমালোচনা করছি না? আজকের বাস্তবতা অনুভব করে বিএনপিকে নিয়ে দুটি কথা না লিখে পারলাম না।​ক্ষমতা বা রাজনীতিতে যেকোনো দলের সাফল্যের পাশাপাশি তাদের ব্যর্থতাগুলোও চিহ্নিত করা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির কিছু জায়গায় দৃশ্যমান ব্যর্থতা ফুটে উঠছে, যা জনগণের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে:​অর্থপাচার ও ব্যাংক লুটেরাদের তালিকা প্রকাশে ব্যর্থতা: বিএনপির অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা হলো—বিগত সময়ে যারা দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং ব্যাংক খাত ধ্বংস করেছে, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক তালিকা তারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা লুট হয়েছে, কার কত টাকার অবৈধ সম্পদ ছিল এবং তারা কীভাবে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছে—এমন একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা তাদের দায়িত্ব ছিল। গত ছয় মাস ধরে তারা এই বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে আসার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি।​বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে স্পষ্ট রূপরেখার অভাব: বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। এই সংকট কেন হচ্ছে, এর পেছনে মূল কারণ কী এবং কীভাবে তা সমাধান সম্ভব—তা সহজ ভাষায় জনগণকে বুঝিয়ে বলতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কেবল সংবাদপত্র বা সংবাদের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে না থেকে বিএনপিকে নিজেদের তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জনগণকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া উচিত ছিল।​তবে এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির একটি ভালো অবস্থান তৈরি করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। দেশের মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি অবিলম্বে ৩টি বড় পদক্ষেপ নিতে পারে:​১. ১৯৭১ ও ২০২৪-এর আহত-নিহতদের সঠিক তালিকা: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছেন, কতজন আহত হয়েছেন এবং কারা রাজাকার ছিলেন—তাদের একটি নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক আন্দোলনে কতজন সাধারণ মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতির সামনে পেশ করা।​২. প্রত্যক্ষ স্মৃতিকথা সংগ্রহ: ১৯৭১ সালের শহীদ ও আহতদের অনেক আত্মীয়-স্বজন এখনো জীবিত আছেন। তাদের কাছ থেকে সরাসরি সাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহ করে সঠিক ইতিহাস নথিবদ্ধ করা এখনো সম্ভব।​৩. স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থান: কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে মেধা ও তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সত্য ইতিহাস ও অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরা।​বিপুল জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছিল। তাই জনগণের কাছে নিজেদের কার্যকারিতা ও সততা প্রমাণ করতে হলে সমালোচনা এড়িয়ে না গিয়ে, এই দায়িত্বগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তাদের বাস্তবায়ন করা উচিত।

বিএনপির নীতি ও নীরবতা: একটি নাগরিক পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: নীতিগত স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্ন

আনোয়ার আলমগীর​পুঁজিবাজার ও জাতীয় অর্থনীতি কেবল কয়েকটি সূচক বা টেবিল-চেয়ারের পরিবর্তনের খেলা নয়; এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, সুশাসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভূমিকা এবং পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি মন্দাবস্থা নিয়ে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।​সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলামের মেয়াদে বাজারে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেলেও, বড় ধরনের নীতিগত ভুল, সিদ্ধান্তহীনতা ও অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী চক্রের প্রভাবে বাজার কখনো টেকসই ভিত পায়নি। এর মধ্যে অন্যতম বড় বড় আঘাত ছিল বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক (Beximco Green Sukuk) বন্ডের ৩,০০০ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি আমার বন্ডের প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা।​তারল্য শূন্যতা ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের খেসারতসাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বন্ডগুলোর প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে একপ্রকার বাধ্যতামূলকভাবে সুকুক বন্ড কিনতে বাধ্য করা হয়। এককভাবে একটিমাত্র গ্রুপের হাতে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে দেওয়ার ফলে পুরো পুঁজিবাজারে ভয়াবহ তারল্য সংকট (Liquidity Crisis) তৈরি হয়। যে প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডগুলোর সাধারণ শেয়ার কিনে বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল, তাদের হাত সম্পূর্ণ শক্ত হয়ে যায় এই লোকসানি বন্ডে টাকা আটকে যাওয়ার কারণে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের সুকুক বন্ডের দাম পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো আজ বিপুল লোকসানের মুখে।যেখানে পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশগুলোর শেয়ারবাজার রেকর্ড ভেঙে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নির্দেশক তাদের চেয়ে ভালো হওয়া সত্ত্বেও আমাদের পুঁজিবাজার কেন তলানিতে?​পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা তাদের মূল সংকটগুলো স্বীকার করে আইএমএফ (IMF) ও বৈশ্বিক কাঠামোর সাথে সংগতি রেখে বাজারে দ্রুত নীতিগত স্বচ্ছতা এনেছে, সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে এবং বড় বড় কারসাজিকারীদের শক্ত বার্তা দিয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের ওপর আস্থা ফেরত পেয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনৈতিক পটের পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নেতৃত্ব বদল হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রায় আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। শুধু আইওয়াশমূলক জরিমানা, শোকজ আর ইচ্ছা মতো নীতি পরিবর্তন করে বাজার চালানো হচ্ছে—যা কাজের চেয়ে ক্ষতি বেশি করছে।​১. তারল্য সংকট নিরসন ও নীতিগত স্বাধীনতা​বিএসইসি-কে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।​ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আটকে থাকা তারল্য মুক্ত করতে বিশেষ রিফাইন্যান্সিং বা সহায়তা তহবিল তৈরি করা প্রয়োজন, যেন তারা মূল শেয়ারবাজারে ক্রয়ক্ষমতা ফেরত পায়।​২. শুধুমাত্র জরিমানা নয়, কঠোর আইনগত জবাবদিহিতা​বাজারে নামমাত্র জরিমানা করে ফাইল বন্ধ করার কালচার বন্ধ করতে হবে। যারা ভুয়া ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট দিয়ে বা কারসাজি করে বিনিয়োগকারীর টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা ও বাজার থেকে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।​৩. মানসম্পন্ন ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ​দুর্বল, জাঙ্ক বা অস্তিত্বহীন কোম্পানিকে আইপিও (IPO) দিয়ে বাজারে আনার পথ বন্ধ করতে হবে।​দেশের বড় বড় লাভজনক বহুজাতিক ও দেশীয় গ্রুপগুলোকে আকর্ষণীয় পলিসি সুবিধা দিয়ে বাজারে আনা নিশ্চিত করতে হবে।​৪. ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা​হুটহাট নিয়ম পরিবর্তন না করে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছরের একটি স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি পুঁজিবাজার পলিসি ঘোষণা করা আবশ্যক।​অডিটিং ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে কোনো কোম্পানি ভুয়া হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করতে না পারে।​পুঁজিবাজার ভালো করতে হলে কোনো আইওয়াশ বা টেবিল-চেয়ারের পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন সদিচ্ছা ও কাঠামোগত বাস্তব সংস্কার। নীতি নির্ধারকরা যখন মুখের কথা বা আইওয়াশ জরিমানার বাইরে এসে অনিয়মের মূল জায়গায় হাত দেবেন এবং বাজারকে সুশাসনের ভিত্তিতে নিজস্ব গতিতে চলতে দেবেন, তখনই কেবল সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: নীতিগত স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্ন

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি খুবই স্বাভাবিক

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। দীর্ঘদিনের আর্থিক ক্ষতি এবং বাজারের অস্থিরতা যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্যই চরম মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও কমিশন সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা যায়:বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান: নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বাজারের গতি ফেরাতে দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপের আশা থাকে। তবে নীতিগত পরিবর্তন, কারসাজি রোধে তদন্ত কার্যক্রম এবং কাঠামোগত সংস্কারের সুফল বাজারে প্রভাব ফেলতে প্রায়শই কিছুটা সময় নেয়।​মৌলভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা: পুঁজিবাজারের ওঠানামা কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিমালার ওপর নির্ভর করে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।নিয়ন্ত্রণ বনাম বাজারের স্বাভাবিক গতি: একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কৃত্রিমভাবে সূচক ধরে রাখার চেয়ে নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অধিক জরুরি। অতীতে ফ্লোর প্রাইসের মতো সাময়িক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করেছিল, যা থেকে বের হতে নতুন কমিশনকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।আস্থার সংকট: দীর্ঘমেয়াদি দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়, তা দূর করতে কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও নিয়মিত যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি খুবই স্বাভাবিক

মেননকে হত্যাচেষ্টার ৩৪ বছর : বিচার অধরাই রয়ে গেছে!

“মেনন এখনো – আমাদের সাহসের পতাকাশোনো সবাই!মেননের বুক আজও কাঁপিয়ে দেয় সময়কে—সেই বুক, যেটা গুলির ঝাঁঝরা হয়েছিল,তবুও থামেনি হৃদস্পন্দন,থামেনি মুক্তির মিছিলের ধ্বনি।যখন রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল,বাংলার মাটি শপথ নিয়েছিল—এ মানুষ বাঁচবে,কারণ তাঁর শ্বাসে আছেআমাদের সাহসের জ্যোতি।ছয় মাস—দেশে বিদেশে,হাসপাতালের বিছানায় লড়াই,কিন্তু বুলেট পারেনি তাঁর চোখের আগুন নিভাতে।তিনি ফিরেছেন—বুকে ক্ষতের দাগ নিয়ে,আর হাতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে দিয়ে।আজ মেননের বুক শুধু এক শরীরের গল্প নয়,এটা এক পতাকা—যেটা বলে, “বুলেট আমাকে থামাতে পারবে না।”যেটা বলে, “ভয়কে আমরা বন্দী করব,সাহসকে আমরা মুক্ত করব।”তাঁর বুকের ক্ষত আজ আমাদের শপথের প্রতীক—যেখানে প্রতিটি দাগ মানে নতুন সংগ্রাম,প্রতিটি শ্বাস মানে বৈষম্য মুক্তির নতুন ঘোষণা।তুমি যদি ভীত হও—তবে মেননের দিকে তাকাও।তুমি যদি দুর্বল হও—তবে মেননের কাছ থেকে শক্তি নাও।কারণ তিনি বেঁচে আছেন—আমাদের সাহসের রক্ত হয়ে।”—(“মেনন এখনো–আমাদের সাহসের পতাকা” —সৈয়দ আমিরুজ্জামান)১৭ আগস্ট বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননকে হত্যাচেষ্টার ৩৪ পূর্ণ হলেও আততায়ীরা অধরাই রয়ে গেছে। অথচ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এবং সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়োজনেই এর একটা ফয়সালা হওয়া জরুরী।বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এ দিনটিকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী দিবস’ পালন হিসেবে পালন করে আসছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় ও মৌলভীবাজারসহ সারাদেশে জেলা-উপজেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনাসহ সভা-সমাবেশ করা হতো।বিএনপি’র শাসনামলে ১৯৯২-এর ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় পার্টি অফিসের সামনে কমরেড রাশেদ খান মেননকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। মৃতবৎ কমরেড মেননকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর সিএমএইচ-এ লিভারে অপারেশন করা হয় এবং অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে পুনরায় অপারেশন করা হয়। পাঁচমাস লন্ডন ও ব্যাংককে চিকিৎসা নেবার পর ১৯৯৩ এর ১০ জানুয়ারী বিমান বন্দরে বিপুল সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে এই ৩৪ বছরেও তার ঐ হত্যাচেষ্টার বিচার হয়নি। আততায়ীরা অধরাই রয়ে গেছে। অন্যদিকে একই সময়কালে চুয়াডাঙার কুলবিলা গুচ্ছগ্রাম, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয় যার বিচার আজও হয়নি।রাশেদ খান মেননের হত্যাচেষ্টার বিরুদ্ধে ওই সময়ে দেশব্যাপী যে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল তার জন্য পার্টি ও তিনি নিজে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু দেশে সন্ত্রাস নির্মুল হয় নাই পক্ষান্তরে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলছে।জননিরাপত্তার স্বার্থেই এটা বন্ধ হওয়া দরকার।পার্টির তরফ থেকে এই হত্যাচেষ্টার পিছনে সেই সময় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ একটি দায়সারা তদন্ত করে কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। পরে পার্টির তরফ থেকে পুনঃতদন্তের দাবির প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের পদক্ষেপ নেয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। পুলিশের দায়েরকৃত ওই মামলা বিচারের জন্য উঠলেও তার পরিণতি নেয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।রাশেদ খান মেননের হত্যাচেষ্টায় সারাদেশে সৃষ্ট তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভের মুখে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপি সরকার রাশেদ খান মেননের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার কথা প্রচার করলেও পরিবার ও পার্টি সহকর্মীদের উদ্যোগেই তার চিকিৎসা হয় এবং এ কারণে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে তাকে তার বাড়ি বিক্রি করতে হয়।২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রকাশ্যে গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা, পরের বছর, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডেও ১৫ আগস্টের আদর্শিক কুশীলবরা জড়িত।আবার ১৫ ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলির সম্পৃক্ততার বিষয়টি দলিল-দস্তাবেজসহ প্রমাণ করার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন করা জরুরী। গোয়েন্দা অনুসন্ধান এবং একাডেমিক গবেষণার মাধ্যমেও বিষয়টি বেরিয়ে আসতে পারে। ঘটনা গুলোর পরের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে অবস্থাগত ও ধারণাগতভাবে এটি আন্দাজ করা যায় যে, এসব ঘটনায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা একই সমান্তরালে অবস্থান করছিল। একই কুশিলবরা ১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। এ হত্যাচেষ্টার আমরা বিচারে চাই। এখনো দেশি বিদেশি চক্রান্ত চলছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অর্জিত বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শন ও ধারাকে নস্যাৎ করার জন্য। জন্যগণের সামগ্রিক প্রয়োজনেই এ ধারা রক্ষায় পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তন অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক বৈষম্যহীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের এই দিনে সন্ধ্যায় পার্টি কার্যালয়ের সামনে রাশেদ খান মেননকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলী করা হয়েছিল। দেশে- বিদেশে চিকিৎসা ও দেশবাসীর ভালবাসা আর দোয়ায় তিনি জীবন ফিরে পান এবং মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করেছেন।১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা রাশেদ খান মেনন তাঁর প্রিয় স্বদেশভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন। জনগণের মেনন ফিরে আসেন জনগণের মাঝে। বিমান থেকে নেমে সরাসরি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল গণসংবর্ধনায় যোগ দেন এবং মেহনতি মানুষের অতলস্পর্শী ভালোবাসায় সংবর্ধিত হোন।রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তাঁর রাজনীতি গ্রামবাংলার কোটি কোটি গরিব খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের মুক্তির রাজনীতি – শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার রাজনীতি।শোষণ বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার, জনগণের সামগ্রিক মুক্তির জন্য নিবেদিত প্রাণ রাজনীতির এক বাতিঘর কমরেড রাশেদ খান মেনন। তাঁর পিতা বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের কর্মস্থল ফরিদপুরে ১৯৪৩ সনের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃভূমি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে।ষাটের দশকের তুখোর ছাত্রনেতা রাশেদ খান মেনন বাষট্টির আয়ুববিরোধী সামরিক শাসন ও শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আসেন। তারপর নিরন্তর দুর্গম কণ্টকাকীর্ণ পথ চলা। যে পথ চলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি কোনো শক্তি। মেনন মৃত্যুকে কখনো ভয় করেননি আজও করেন না। ১৯৬৩-৬৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) ও ‘৬৪-৬৭ সালে পূর্বপাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। বাষট্টি সালে নিরাপত্তা আইনে প্রথম কারাবন্দী হওয়ার পর ‘৬৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন মেয়াদে নিরাপত্তা আইন, দেশরক্ষা আইন ও বিভিন্ন মামলায় কারাবরণ করেন। ‘৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধে ছাত্র সমাজের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কুখ্যাত মোনেম খানের আগমনকে বিরোধীতা করতে গিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন ও পরে সুপ্রীম কোর্টের রায়ে ঐ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে জেল থেকে এম.এ পরীক্ষা দেন। ‘৬৭-৬৯ জেলে থাকাকালীন অবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তিনি ক্যান্টনমেন্টে নীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দেশের বাইরে তার যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন।ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কৃষক সমিতিতে যোগ দেন ও সন্তোষে ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।১৯৭০-এর বাইশে ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’ কায়েমের দাবি করায় এহিয়ার সামরিক সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ও তার অনুপস্থিতিতে সামরিক আদালতে সাত বছর সশ্রম কারাবাস ও সম্পত্তির ষাট ভাগ বাজেয়াপ্তের দণ্ডাদেশ প্রদান করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপনে যান ও স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রস্তুতি গ্রহণের কাজ শুরু করেন।পচিশে মার্চ পল্টনের শেষ জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।পচিশে মার্চের কালরাতের গণহত্যার পর তিনি আর এক মুহূর্ত দেরী না করে ঢাকার অদূরে নরসিংদীর শিবপুরকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজ শুরু করেন এবং পরে ভারতে গিয়ে সকল বামপন্থী সংগঠনকে নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে প্রবাসী সরকারের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে এবং দেশের অভ্যন্তরে কেন্দ্র স্থাপন করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।১৯৭৪-এ ভাসানী ন্যাপ থেকে বেরিয়ে এসে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি) গঠিত হলে তার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৭৮-এ ইউপিপি সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে যোগ দিলে রাশেদ খান মেনন ইউপিপি ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গঠন করেন এবং ১৯৭৯ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৮২ জেনারেল এরশাদ সামরিক শাসন জারি করলে রাশেদ খান মেনন সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ঐ সামরিক শাসনবিরোধী প্রথম বিবৃতিটি যা পরবর্তীকালে পনের দল গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে তার রচয়িতাও ছিলেন তিনি। ‘৮৩-এর মধ্য ফেব্রুয়ারির ছাত্র আন্দোলনের কারণে তাকে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে চোখ বেঁধে সামরিক ছাউনির নির্জন সেলে আটক রাখা হয়।পাঁচদল নেতা হিসেবে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ঐক্য পুনঃস্থাপনে রাশেদ খান মেনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পাঁচদল, সাত দল ও আট দলের ঐতিহাসিক তিন জোটে’র ঘোষণার ভিত্তিতে ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাহীর পতন হয়। ১৯৯১-এর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাশেদ খান মেনন পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য সংসদের ‘বিশেষ কমিটি’তে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী প্রণয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সংসদে তিনি জামাত-শিবিরের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক তৎপরতা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সশস্ত্র আক্রমণ, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী তৎপরতা, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর কাছে সরকারের নতজানু নীতি, কাঠামোগত সংস্কার, বিশেষ করে পাটকলের কাঠামোগত সংস্কারের নামে পাট শিল্পের ধ্বংস সাধন, মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটের অর্থনীতিক নীতি অনুসরণের এবং দৃঢ় বিরোধীতা, কৃষক, খেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের স্বপক্ষে দৃঢ় ভূমিকা গ্রহণ করেন। সংসদের বাইরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন সংগঠিত করতেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।এই সব মিলিয়ে রাশেদ খান মেনন সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী গোষ্ঠীর আক্রমণের টার্গেটে পরিণত হন এবং তার বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরসহ ধর্মাশ্রয়ী দলগুলোর পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক প্রচারণা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২-এর ১৭ আগস্ট নিজ পার্টি কার্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা হয়। প্রথমে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও পরে লন্ডনে কিংস কলেজে দু’বার অস্ত্রোপচার হলে তিনি জীবনে বেঁচে যান।রাশেদ খান মেনন গুলিবিদ্ধ হলে সারা দেশে যে অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্য দিয়ে তার প্রতি দেশবাসীর ভালবাসার বিশেষ প্রকাশ ঘটে। দেশবাসীর দেয়া রক্ত, দোয়া, আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছার বরকতে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। এই সময় তিনি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জাতীয় সংগ্রামেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন।১৯৯৮ সালে বিকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগার দল গঠন করে বিভিন্ন জাতীয় ও অর্থনৈতিক, শ্রমজীবী মানুষের ইস্যুতে তিনি আন্দোলন গড়ে তোলেন। এর মধ্যে তেল-গ্যাস-বন্দর জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন, গ্যাস বিদেশে রপ্তানি ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার বিরুদ্ধে ঐ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে দেশব্যাপী লং মার্চ সংগঠিত করে গ্যাস রপ্তানি প্রতিরোধ করেন।২০০১ সালে বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে, এ সময় দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব শুরু হলে তিনি তার বিরুদ্ধে অন্যান্যদের নিয়ে প্রতিরোধ সংগঠিত করেন। জোট সরকারের সময়ে যে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে তার বিরুদ্ধেও প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে ওয়ার্কার্স পার্টি। দু:শাসন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে প্রথমে এগার দল ও পরে আওয়ামী লীগ, জাসদ, ন্যাপসহ চৌদ্দ দলের আন্দোলন গড়ে ওঠে। চৌদ্দ দলের ৩১ দফা নির্বাচনী সংস্কার ও ২৩ দফা ন্যূনতম কর্মসূচি প্রণয়নে তিনি মুখ্য ভূমিকা রাখেন। ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই শেখ হাসিনা ওই নির্বাচনী সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলে তা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সংসদের তিনি কার্যউপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিরও তিনি সদস্য।তিনি এ বছর গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার বিদেশীদের দেয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার সুপ্রীম পিপলস এসেম্বলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে তাঁকে এই পদকে ভূষিত করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সুং-এর জন্মশতবর্ষ পালনের জন্য অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উৎসবের শেষ দিনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সুপ্রীম পিপলস এসেম্বলীর ভাইস-প্রেসিডেন্ট উ সুংহুক তাকে এই পদক গলায় ঝুলিয়ে দেন।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও গবেষণার কাজ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা, বিশেষ করে জাতীয় দৈনিকসমূহে তার নিয়মিত কলাম লিখেছেন। তার ঐ কলামসমূহ একত্রিত করে এ পর্যন্ত পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে কমরেড রাশেদ খান মেননের আত্মজীবনীর প্রথম পর্ব ‘এক জীবন : স্বাধীনতার সূর্যোদয়’।ব্যক্তি জীবনে রাশেদ খান মেনন ১৯৬৯-এর মে মাসে তার ছাত্র আন্দোলনের সহকর্মী লুৎফুন্নেছা খান বিউটিকে বিয়ে করেন। লুৎফুন্নেছা খান বিউটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং এর সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে অবসর নিয়েছেন। কন্যা ড. সুবর্ণা খান ক্যান্সার সেলের ওপর পিএইচডি করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। পুত্র আনিক রাশেদ খান আইনের ছাত্র।রাশেদ খান মেনন রাজনৈতিক বিভিন্ন সভা, সম্মেলন ও সেমিনার উপলক্ষ্যে ভারত, নেপাল, গণচীন, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, আলজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপের জার্মানী, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স, বুলগেরিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেন।রাশেদ খান মেনন ৬০-এর দশকের সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ. ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা রাখার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন ৮ অক্টোবর ২০০৮ সনের রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তা হতে বাংলামটর রোড পর্যন্ত এই সড়কের নাম রেখেছে “রাশেদ খান মেনন সড়ক”।২০১২ সনের ১৩ সেপ্টেম্বর মহাজোট সরকারের পক্ষ থেকে রাশেদ খান মেননকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে অবশ্য দেশের কী পরিস্থিতিতে সরকারে যোগ দিয়েছিলেন, তা সকলেই অবগত। দেশের সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেয়ার বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনকালীন সরকারে ২০১৩ সালে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে পুনরায় সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহাজোট সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।রাশেদ খান মেনন রাজনীতিক হিসেবে সর্বজনপরিচিত। লেখালেখির জন্যও তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন। ছাত্রআন্দোলনের প্রচারপত্র, বিবৃতি আর বিভিন্ন সংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই লেখার শুরু। রাজনীতির প্রয়োজনেই বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন তিনি। জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকগুলোতেও নিয়মিত লিখেছেন।এবার আসি, ভিন্ন একটা প্রসঙ্গে। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কমরেড রাশেদ খান মেনন ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, পরিকল্পিত এক ব্লেম গেইমের অংশ হিসেবে কমরেড মেনন ভাইকে গ্রেপ্তারের পর দুর্নীতি নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য প্রমাণ উল্লেখ না করেই এ ধরনের মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। আর তাইতো সিনিয়র সাংবাদিক পুলক ঘটক লিখেছেন, রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করার কয়েকদিন পর একটি নিউজ ছাড়া হয়। “মেননের ২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ”! গত ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ মিডিয়ায় এটি ছিল লিড নিউজ। সংবাদ প্রকাশের পর বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে আমাদের সৎ, মেধাবী ও দলদরদমুক্ত সাংবাদিক বন্ধুরা ফেসবুকে এটি সশব্দে পোস্ট করতে থাকেন। বিএনপি ও বামৈসলামিক যৌথ বিপ্লবীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদটির আরও কয়েকগুণ প্রসার ঘটান। পিছিয়ে ছিলেন না নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরাও। সবাই সৎ ও দেশপ্রেমিক।একজন মানুষের পক্ষে ২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুকিয়ে রাখতে পারা বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য। এই সংবাদ কোনো মিডিয়া আগে প্রকাশ করল না?আমি বেশ কয়েকজন সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করেছি, বর্তমান সরকারের লোকেরা বলার আগে মেননের গোপন টাকশালের কথা কেউ প্রকাশ করেননি কেন? “আমার কুড়ে ঘরের ছাদে একটি হাতি উঠেছে”-এ কথা কেউ বললেই তা যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করা যায় কিনা?২৫-এর পরে কয়টা শূণ্য দিলে ২৫ হাজার কোটি টাকা হয় গবেষণা করেছি। ক্যালকুলেটরে হিসাব করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছি। হিসাবে দেখা গেল, এই সম্পদ বাংলাদেশের মোট বাজেটের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। বসুন্ধরা গ্রুপের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫০০ কোটি টাকা (গ্রুপের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য)। অর্থাৎ প্রায় ১৭টি বসুন্ধরা গ্রুপের সম্পদ একত্রে মিলালে মেননের সমান হবে। লোকটা যদি ঘুষ গ্রহণের দোকান খুলে বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন ১ কোটি টাকা ঘুষ নেয় তবুও এই টাকা জমাতে ২৫ হাজার দিন (প্রায় ৬৯ বছর) সময় লাগবে।মেননের ঘরের গোপন কক্ষে বিশাল হিমালয় পর্বতমালা ঢেকে রাখার সংবাদটি জোরেসোরে প্রচার হয়েছে এবং হচ্ছে। যেমন প্রচার হয়েছে বাংলাদেশে ২৬ লাখ ভারতীয় চাকরি করে। প্রচার করতে তো বিবেক বা সততা লাগে না! পাঠকের মনে প্রশ্নও তৈরি হয় না!!! আমার মামার বাড়ির খেজুর গাছে গতকাল যে হাতিটি উঠেছিল সে সংবাদ কোনো মিডিয়া প্রচার করল না, কোনো সৎ বুদ্ধিজীবী তা ফেসবুকে শেয়ার দিল না- এটাই আপসোস!”হয়তো এসব কারণেই বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়, কমরেড মেননের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৮টি হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। যে গুলো সবই মিথ্যা। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে পথ বেছে নিয়েছে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এদেশের দেশপ্রেমিক সন্তান, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক শাসন বিরোধী লড়াইসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রথম সারির একজন প্রবীণ সংগ্রামী জননেতা, ৬বারের নিবাচিত এমপি ও মন্ত্রি ছিলেন। রাজনীতির নীতিবোধে একজন কিংবদন্তি বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন বিপ্লবী মানুষ।ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছে, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করতে বুঝা জরুরি; সকল অন্যায়কে ন্যায় বলে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার করা উচিত হবে না, রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করুন, সেটিই হবে উত্তম পন্থা। এ পন্থা পরিহার না করলে ইতিহাসই আপনাদের ভবিষ্যত রাস্তা নির্দেশ করবে। অবিলম্বে কমরেড রাশেদ খান মেননকে মুক্তি দিতে হবে।মহান ও কীর্তিমান মানুষদের নিয়ে সব সময়ই লেখা যায় আমরা এটা বিশ্বাস করি। পরিশেষে, সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমতা-ন্যায্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনেই বিশ্বজনীন মহান এই গুণীর রাজনীতি, জীবন সংগ্রাম, কীর্তি, ইতিহাস, তত্ত্ব ও অনুশীলন সম্পর্কে পাঠ প্রাসঙ্গিক ও জরুরী।জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ২১ দফার ভিত্তিতে সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও জনগণের একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে গেছেন এই অবিসংবাদিত নেতা। হত্যাচেষ্টার ৩৪তম বার্ষিকীতে মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের মুক্তি চাই এবং কমরেড মেননের প্রতি অভিবাদন এবং রেড স্যালুট।সৈয়দ আমিরুজ্জামানমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;সম্পাদক, আরপি নিউজ;কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।E-mail : syedzaman.62@gmail.comWhatsApp : 01716599589

মেননকে হত্যাচেষ্টার ৩৪ বছর : বিচার অধরাই রয়ে গেছে!

গোলাপগঞ্জের গ্যাস- গোলাপগঞ্জে নেই

আনোয়ার শাহজাহান সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা—বাংলাদেশের গ্যাস ও তেল উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র এখানেই অবস্থিত, যা দেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক কোটি কোটি টাকার গ্যাস সরবরাহ করে। অথচ, এই প্রাকৃতিক সম্পদের আয়োজক, গোলাপগঞ্জবাসী আজও নিজ নিজ বাড়িতে গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, গ্যাসক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট চাকরিতে স্থানীয় যুবকদের সুযোগ না পাওয়া, পানির স্তর হ্রাস, নদীভাঙন ও বন্যা—সব মিলিয়ে এখানে মানুষের জীবনে নানা দুঃখ-দুর্দশার সঙ্কট দেখা দিয়েছে।গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। তিনশত ষাট আউলিয়ার স্মৃতিধন্য এই জনপদ জ্ঞানী-গুণীর জন্মস্থান হিসেবে সুপরিচিত। বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রী চৈতন্য দেবের পদধূলি স্পর্শ করা এই মাটি আজও তার ঐতিহ্য সংরক্ষণে গর্বিত। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও এই অঞ্চল সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স অর্থনৈতিক জীবনে প্রাণ সঞ্চার করে।কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র। এখানে থেকে উত্তোলিত গ্যাস প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২১ মিলিয়ন ঘনফুট প্রবাহিত হয়। এর বাজারমূল্য বছরে প্রায় ১৬২০ কোটি টাকা। এই গ্যাস দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, গৃহস্থালি চাহিদা ও যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।কিন্তু এদিকে, গোলাপগঞ্জের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত। তারা এখনো রান্নার জন্য কাঠ, কোয়েল বা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে বাড়তি ব্যয় ও ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নারীদের রান্নার কাজের সময় ও শ্রমও বেড়ে যাচ্ছে।গোলাপগঞ্জের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করে আসছেন। অনেকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন, আবার অনেকে অপেক্ষায় রয়েছেন। তবু, এখনো অধিকাংশ বাড়িতে গ্যাস পৌঁছায়নি। এর পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্নীতি এবং অগ্রাধিকারবিহীন বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোর ভেতর বহু গরীব ও মেধাবী রয়েছে, যারা শুধুমাত্র গ্যাস পেলে জীবনের অনেক কষ্ট কমে যেত। এই অবস্থায় স্থানীয়দের দাবী, যেখান থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, সেখানকার মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।গ্যাসক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা চাকরি পাচ্ছেন না। চাকরির সুযোগ প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন এবং দূরের ব্যক্তিদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।গ্যাস ও তেল উত্তোলনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। যেখানে আগে ৫০-৬০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, বর্তমানে কিছু এলাকায় ২৫০-৩০০ ফুট গভীরে না গেলে পানির সন্ধান মেলেনা। এতে গ্রামের মানুষের জন্য নলকূপ স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়েছে।গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এই সংকটের প্রবল উদাহরণ। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।গোলাপগঞ্জে অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বড় কোম্পানিগুলো করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) নামে একটি ফান্ড পরিচালনা করে থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ফান্ডের অর্থ গোলাপগঞ্জে যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। হলেও গোলাপগঞ্জের জনগণ জানে না কোথায় হয়েছে বা হচ্ছে। এটি জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, এই ফান্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তা দ্রুত এলাকার কল্যাণে ব্যয় করা হোক।#সমাধানের_জন্য_প্রস্তাবিত_করণীয়১. গৃহে গৃহে গ্যাস সংযোগ: নির্ধারিত ফি’র বিনিময়ে দ্রুত প্রতিটি পরিবারে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।২. চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার: গ্যাসক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে স্থানীয় যোগ্য যুবকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।৩. পানির সংকট নিরসন: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও গভীর নলকূপ স্থাপনসহ স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।৪. বন্যা ও নদী ভাঙন রোধ: সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর খনন, তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।৫. CSR ফান্ডের সুষ্ঠু ব্যবহার: এই ফান্ডের অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থানীয় উন্নয়ন কাজে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।৬. স্থানীয় চাহিদা পূরণ: জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আগে স্থানীয় গ্যাস চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ। সারা দেশে কিছু না কিছু উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু গোলাপগঞ্জের মতো গ্যাস উৎপাদনকারী উপজেলায় যদি স্থানীয় জনগণ গ্যাস সংযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তা দেশের সুশাসনের মূলমন্ত্রের পরিপন্থী।সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে গোলাপগঞ্জের প্রতিটি ঘরে গ্যাস পৌঁছানো হয় এবং স্থানীয় যোগ্য যুবকদের চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হয়। এতে জনমানুষের আস্থা ও উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।আমরা গোলাপগঞ্জবাসী বিশ্বাস করে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সদয় হস্তক্ষেপ করবেন এবং এই এলাকার উন্নয়ন সাধনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

গোলাপগঞ্জের গ্যাস- গোলাপগঞ্জে নেই
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream