সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

অর্থনীতি

স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস

স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বাজুস ​এ তথ্য সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। স্বর্ণের এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। ​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা। স্বর্ণের দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

আবারও বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম

দেশে আবারও বাড়ানো হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি অক্টোবরের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর আগে এই সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে দাম বাড়ছে ২৫২ টাকা।বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই অক্টোবরের এই নতুন দর ঘোষণা করা হবে।বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার অজুহাতে বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফালোটের পাঁয়তারা করছে কিছু অপারেটর—এমন তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে সমুদ্র সীমায় এলপিজিবাহী জাহাজ ভাসিয়ে রেখে কিংবা ট্যাংকারে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। ফলে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে এক হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।এমতাবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার জ্বালানিমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এনবিআরের পর্যাপ্ত আমদানির তথ্যের ভিত্তিতে বাজারে সংকটের কারণ জানতে চাওয়া হলে লোটাব নেতারা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখান। তারা দাবি করেন, বিইআরসি প্রত্যাশিত হারে দাম না বাড়ানোর কারণেই আমদানিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং এলপিজির দাম একলাফে বাড়ালে বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে।বৈঠক শেষে দাম বৃদ্ধি কিংবা কৃত্রিম সংকট বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আবারও বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম

দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট ডিলার পয়েন্ট বন্ধ রেখে মজুদের অভিযোগ

দিনাজপুরে তীব্র আকার ধারণ করেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট। সরবরাহ কম থাকায় ডিলার ও এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কয়েকজন ডিলার তাদের দোকান ও গোডাউন বন্ধ রেখে সিলিন্ডার অন্যত্র মজুদ করে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।সংকটের কারণে বাজারে বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম গ্যাস, যমুনা, স্মার্ট, ভ্যাসকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ব্র্যান্ডের গ্যাস না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা।বর্তমানে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন ছোট দোকানে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।শহরের কালিতলা, বালুবাড়ী, বাহাদুরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা জানান, কয়েকদিন ধরে এলপিজি গ্যাসের জন্য দোকান থেকে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি দাম। আবার কোনো কোনো ডিলার পয়েন্টে সিলিন্ডার থাকলেও দোকান বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।ক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, ‘গ্যাসের জন্য কয়েকটি দোকানে ঘুরেছি। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও ২ হাজার টাকার বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।আরেক ক্রেতা মোছা. শারমিন আক্তার বলেন, ‘সরকারি দাম শুনি এক রকম, কিন্তু বাজারে কিনতে গেলে আরেক দাম। দোকানদাররা বলছেন তাদের কাছেই গ্যাস নেই। অনেক দোকানে সিলিন্ডার দেখা গেলেও বিক্রি করতে চাইছেন না। সাধারণ মানুষের জন্য বিষয়টি খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।ক্রেতা .আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে যদি পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে, তাহলে বাজারে এত সংকট হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে আনা দরকার।এদিকে সংকটের বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, ডিপো পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার তুলনায় সিলিন্ডার কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি হচ্ছে।কালিতলার ইসলাম ট্রেডার্সের ডিলার রেঞ্জু ইসলাম বলেন, ‘ডিপো পয়েন্ট থেকেই আমাদের গ্যাস বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তার ওপর সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে। যে কারণে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আমরা ইচ্ছা করে গ্যাস মজুদ করে রাখছি না।দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করেন কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য গ্যাস মজুদ করে রাখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ম মেনে গ্যাস বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট  ডিলার পয়েন্ট বন্ধ রেখে মজুদের অভিযোগ

পর্যটনে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চাই: পর্যটনমন্ত্রী

পর্যটন খাতে বাংলাদেশের জিডিপিতে অবদান বাড়িয়ে ৩ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের আশা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে পিপিপি, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও লিজিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে ঘিরে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা বাংলাদেশ ভ্রমণে ভালো ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করা হবে।ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকদের আরও ভালো সেবা দিতে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে পর্যটনের প্রয়োজনীয় উপাদান থাকলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। পর্যটন নীতিমালা ও মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস ভিডিওবার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

পর্যটনে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চাই: পর্যটনমন্ত্রী

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে নতুন গতি পুঁজিবাজারে

সংস্কার উদ্যোগ ও বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আট মাসেই এ লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে বাজার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার রাষ্ট্রীয় বলেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে ডিএসইর একক কোনো উদ্যোগ কাজ করছে না। বরং বাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা গেছে।তিনি বলেন, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতা সম্প্রতি সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় এনআইটিএ হিসাবের মাধ্যমে অর্থের হিসাব করতে হতো। ডিএসইর পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মটি সহজ করে।নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে হিসাব না করে বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এর পাশাপাশি টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পুঁজিবাজারে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করেন নুজহাত আনোয়ার।ডিএসই’র তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকা।মার্চে লেনদেন কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬০ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয় ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭১ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।এরপর জুনে বিদেশি লেনদেন হয়েছে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ টাকা। আগস্টে তা কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৯১ টাকায় দাঁড়ায়।অন্যদিকে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ওই বছরের জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২৬৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ টাকা হলেও মার্চে কমে দাঁড়ায় ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ টাকা।এপ্রিল ও মে মাসে লেনদেন আবার বাড়ে। এপ্রিলে ৪২৬ কোটি ৯৪ লাখ ১ হাজার ২৯৮ টাকা এবং মে মাসে ৫০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৪২ টাকা লেনদেন হয়, যা ওই বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে তা কমে ২৮৫ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৯ টাকা হলেও জুলাইয়ে বেড়ে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার ২১৭ টাকা হয়। আগস্টে লেনদেন দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৫৪৮ টাকা।২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। এর বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা, যা গত বছরের পুরো বছরের প্রায় ৯৪ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে নতুন গতি পুঁজিবাজারে

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সমন্বিত দামে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এর আগে একই পরিমাণ স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর জোটটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে চার মাসে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। পাশাপাশি প্রথম ২০ দিনেই বড় পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে স্বল্পমেয়াদে তেল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে বিশ্ববাজারের সরবরাহ ঘাটতির মূল সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে আরও বড় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। কেন এত বাড়ছে তেল ও ডিজেলের দাম? বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পেছনে মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুটি যুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের বাজারেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজার অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ডিজেলের দামে কিছুটা নিম্নমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এটি সাময়িক সমাধান হওয়ায় সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। এর আগেই ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার এক গ্যালন (৩ দশমিক ৭৯ লিটার) ডিজেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার। কী ঘোষণা দিয়েছে জি৭? ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে জি৭ নেতাদের ভিডিও বৈঠকের পর জোটটি জানায়, আইইএ’র মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছিলেন, ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুত ছাড়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলো বাজারে ছেড়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় জি৭-এর তেল মজুত ছাড়ার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস চলবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। তবে কোন দেশ কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল ছাড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জি৭ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়েও আইইএ’র মাধ্যমে আলোচনা হবে। এছাড়া জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি পণ্য রফতানিতে বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জি৭ দেশগুলোর তেল শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একই সময়ে একাধিক শোধনাগার বন্ধ হয়ে বাজারে সরবরাহ আরও কমে না যায়। ডিজেলের সংকট কেন এত তীব্র? বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণের কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তেল শিল্প ও বাজার বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসন। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপ আগে সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়া ডিজেল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। তৃতীয়ত, চীনও ডিজেল রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের চাহিদা এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের মৌসুমি সংগ্রহ বা ফসল কাটার সময় ডিজেলের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজেল উৎপাদক ও রফতানিকারক। দেশটি বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রফতানি করে। রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রফতানিকারক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ ব্যারেল ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। অন্যদিকে সৌদি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল উৎপাদক হলেও দেশটির উৎপাদনের বড় অংশ অভ্যন্তরীণ বাজারেই ব্যবহৃত হয়। জি৭-এর উদ্যোগে কি দাম কমবে? জি৭-এর ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। পরে আবার তা প্রায় ১০২ ডলারে উঠে আসে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বিশেষ করে ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমতে পারে। জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাইম আসলামও মনে করেন, জি৭-এর উদ্যোগটি বাজারের ওপর তৈরি চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ছিল। তবে তার মতে, কোন দেশ কত মজুত ছাড়বে এবং কোথায় রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো বাজারের প্রতিক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে পরবর্তী কর্মদিবসে বাজার আবার বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। নিল অ্যাটকিনসনের মতে, জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার উদ্যোগ স্বাগত জানানোর মতো হলেও এতে বিশ্ববাজারের মৌলিক সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। কারণ যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পরও বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ডিজেলের দাম বাড়লে কেন সবকিছুর দাম বাড়ে? ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। কারণ বিশ্বের অর্থনীতির বড় একটি অংশ সরাসরি ডিজেলনির্ভর। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কাউন্সিলের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো ফ্রেডেরিক শ্নাইডারের মতে, পেট্রল মূলত ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হলেও ডিজেল ব্যবহার হয় ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ, ট্রাক্টর, ফসল কাটার যন্ত্র, নির্মাণ ও খনিশিল্পের যন্ত্রপাতি এবং জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটরে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় একসঙ্গে বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং ট্রাকে পরিবহন করা প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামে। কৃষকেরা এ ক্ষেত্রে দ্বিগুণ চাপের মুখে পড়ছেন। একদিকে ডিজেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে সারও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উভয় পণ্যের সরবরাহ ও দামে চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ডিজেলের উচ্চ দাম কার্যত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করে। এতে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, অন্যদিকে পরিবহন ও কৃষিখাতের মুনাফা কমে যায়। ফলে অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ট্রাম্পের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির বাড়তি দাম ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার ডিজেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপকে দ্রুত জরুরি মজুত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি ইউরোপ মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারে বলেও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি বন্ধ করবে না। তার ভাষ্য, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কখনোই চূড়ান্ত পরিকল্পনার অংশ ছিল না। জি৭-এর ঘোষণার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইউরোপ বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চ ডিজেলের দাম মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনে বাধা, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং চীনের ডিজেল রফতানি কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো অব্যাহত থাকলে বাজারের মৌলিক সরবরাহ সংকট থেকেই যাবে। অর্থাৎ জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম স্থায়ীভাবে কমানোর জন্য যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকটের সমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

আবারো বেড়েছে স্বর্ণের দাম

টানা তিন দফা কমানোর পর দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পকা সোনা) মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এ নতুন দর অনুযায়ী শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে নতুন নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।   ক্যারেটভিত্তিক স্বর্ণের নতুন মূল্যতালিকাবাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দর নিচে তুলে ধরা হলো:   ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা থেকে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।   ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা।   ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরির নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা।   সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।  স্বর্ণের দামে উল্লম্ফন ঘটলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজুসের নির্ধারিত ক্যারেটভিত্তিক রুপার মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:   ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।   ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা।  ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।   সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।   উল্লেখ্য, নতুন মূল্য তালিকায় সকল নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে গহনার নকশা ও কারিগরির ওপর ভিত্তি করে বাজুস নির্ধারিত মজুরি অলংকার কেনার সময় আলাদাভাবে যুক্ত হবে।   

আবারো বেড়েছে স্বর্ণের দাম

গয়না ছাড়াও যেসব কাজে ব্যবহার হয় স্বর্ণ

স্বর্ণের কথা বলতেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা ধরনের অলংকার। যুগের পর যুগ গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মূল্যবান এই ধাতু। পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে। তাই স্বর্ণের বার ও কয়েন কিনে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে।তবে স্বর্ণের ব্যবহার কেবল অলংকার ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, চিকিৎসা এমনকি খাবার সাজানোর ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিভিন্ন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই ধাতু।স্বর্ণ সহজে ক্ষয় হয় না, বিদ্যুৎ পরিবহনে কার্যকর এবং খুব পাতলা পাত বা সূক্ষ্ম তারে পরিণত করা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যই গয়নার বাইরেও স্বর্ণের ব্যবহার বাড়িয়েছে।খাবার সাজাতেও ব্যবহৃত হয় স্বর্ণস্বর্ণ খাওয়ার কথাটি অবাক করার মতো হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ কিছু খাবারে এটি ব্যবহার করা হয়। ২২ থেকে ২৪ ক্যারেটের অত্যন্ত বিশুদ্ধ স্বর্ণের পাত সাধারণত এ কাজে ব্যবহৃত হয়।সুশি, মিষ্টি, চকলেট, কেক ও আইসক্রিমের মতো বিলাসবহুল খাবারের ওপর এসব পাত দেওয়া হয়। ‘এডিবল গোল্ড লিফ’ নামে পরিচিত এই স্বর্ণের পাত খাবারের সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বাড়াতেই মূলত ব্যবহার করা হয়।ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাবারে ব্যবহারের জন্য স্বর্ণ ‘ই১৭৫’ নামে অনুমোদিত খাদ্য সংযোজক। তবে স্বর্ণ খেলে শরীরের কোনো বিশেষ পুষ্টি বা স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যায়—এমন প্রমাণ নেই। ধাতব স্বর্ণ শরীরে খুব কম দ্রবীভূত হওয়ায় সাধারণত পরিপাকতন্ত্রে শোষিত হয় না।দামি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবার বা পানীয়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে স্বর্ণের পাত, ছোট টুকরা কিংবা গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মিষ্টির ওপর স্বর্ণ ও রুপার পাত ব্যবহারের পুরোনো রীতিও রয়েছে। এসব পাত ‘ভারক’ বা ‘ওয়ার্ক’ নামে পরিচিত।স্বর্ণযুক্ত খাবারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ২০২৩ সালে ‘পার্টিকলস অ্যান্ড ফাইবার টক্সিকোলজি’তে প্রকাশিত ৯০ দিনের একটি ইঁদুরের গবেষণায় ই১৭৫ গ্রহণের পর যকৃৎ, প্লীহা বা অন্ত্রে সরাসরি ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অন্ত্রের জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। বেশি মাত্রায় স্বর্ণ গ্রহণ করা স্ত্রী ইঁদুরের অন্ত্রে সামান্য প্রদাহও লক্ষ্য করা হয়েছিল।স্মার্টফোন-কম্পিউটারেও রয়েছে স্বর্ণআপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের ভেতরেও অল্প পরিমাণ স্বর্ণ থাকতে পারে। একইভাবে কম্পিউটার, ট্যাবলেটসহ নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সার্কিট বোর্ড, সুইচ, সংযোগকারী এবং বৈদ্যুতিক সংযোগস্থলে স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়।এর অন্যতম কারণ হলো, স্বর্ণ বিদ্যুৎ ভালোভাবে পরিবহন করতে পারে এবং সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগকে দীর্ঘদিন কার্যকর রাখতে এই ধাতু বেশ উপযোগী।একেকটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রে স্বর্ণের পরিমাণ খুবই কম। কিন্তু বিশ্বে বিপুলসংখ্যক মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য তৈরি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে এই খাতে স্বর্ণের ব্যবহার কম নয়।পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য থেকেও স্বর্ণ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ই-বর্জ্য থেকে মূল্যবান ধাতু আলাদা করে পুনর্ব্যবহার করলে স্বর্ণের অপচয় কমানোর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও সুবিধা হয়।মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বর্ণের ভূমিকামহাকাশ গবেষণাতেও স্বর্ণ গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আলো ও তাপ প্রতিফলনের ক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন উজ্জ্বলতা ধরে রাখার বৈশিষ্ট্যের কারণে মহাকাশ প্রযুক্তিতে এর ব্যবহার রয়েছে।নাসার তথ্য অনুযায়ী, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের আয়নায় অত্যন্ত পাতলা স্বর্ণের আবরণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইনফ্রারেড আলো প্রতিফলনে স্বর্ণ কার্যকর হওয়ায় এই ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দূরবর্তী নক্ষত্র, ছায়াপথসহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তু পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।মহাকাশচারীদের হেলমেটেও স্বর্ণের পাতলা প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। হেলমেটের সামনের স্বচ্ছ অংশে থাকা এই আবরণ সূর্যের তীব্র আলো ও ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে মহাকাশচারীদের সুরক্ষায় সহায়তা করে।এ ছাড়া বিদ্যুৎ পরিবহন ও ক্ষয় প্রতিরোধের বৈশিষ্ট্যের কারণে মহাকাশযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং বৈদ্যুতিক সংযোগেও স্বর্ণের ব্যবহার রয়েছে।রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় স্বর্ণচিকিৎসাক্ষেত্রেও স্বর্ণের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। একসময় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো বাতজনিত রোগের চিকিৎসায় ‘গোল্ড সল্ট’ নামে পরিচিত স্বর্ণের কিছু যৌগ ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমানে তুলনামূলক কার্যকর বিভিন্ন ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায় এই চিকিৎসায় স্বর্ণের ব্যবহার কমে গেছে।এখন স্বর্ণের অতি ক্ষুদ্র কণা বা ‘গোল্ড ন্যানোপার্টিকল’ নিয়ে নতুনভাবে গবেষণা চলছে। রোগ শনাক্তকরণ, নির্দিষ্ট স্থানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসায় এগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। তবে এসব ব্যবহারের অনেকগুলো এখনো গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে।কিছু দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিটেও স্বর্ণের ক্ষুদ্র কণা ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার ফল বোঝাতে কিটে যে রঙিন রেখা দেখা যায়, সেটি তৈরিতে এসব কণার ভূমিকা থাকতে পারে।দাঁতের চিকিৎসাতেও স্বর্ণের ব্যবহার বেশ পুরোনো। সহজে ক্ষয় না হওয়া ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে দাঁত মেরামত এবং পুনর্গঠনে স্বর্ণ ও এর সংকর ধাতু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বেশি দাম এবং বিকল্প উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে এর ব্যবহার তুলনামূলক কম।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টেও কেন থাকে স্বর্ণ?স্বর্ণ শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভেরও একটি অংশ। বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি বহু দেশ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ মজুত করে রাখে।এর সঙ্গে ইতিহাসেরও যোগ রয়েছে। একসময় অনেক দেশের মুদ্রাব্যবস্থা স্বর্ণের মজুতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা নেই। তারপরও বৈদেশিক সম্পদে বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের মূল্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ সংরক্ষণ করে।ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। দেশটির মজুত প্রায় ৮ হাজার ১৩৩ টন।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৬ হাজার ৪০০ টন স্বর্ণ ছিল। এসব দেশের বৈদেশিক রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ ৭০ শতাংশের বেশি।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনও স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশটির স্বর্ণের মজুত প্রায় ২ হাজার ২৭৯ টনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আরও প্রায় ১৯ টন স্বর্ণ কেনে দেশটি। এর আগের বছর ২০২৩ সালেও চীন প্রায় ৮৮ টন স্বর্ণ কিনেছিল।তবে স্বর্ণের বাজারমূল্য স্থির নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পরিবর্তনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মজুত করা স্বর্ণের মূল্যও ওঠানামা করতে পারে।অর্থাৎ, গয়না তৈরির পরিচিত ব্যবহার ছাড়িয়ে প্রযুক্তি, মহাকাশ, চিকিৎসা, খাদ্য এবং বৈদেশিক রিজার্ভ—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই স্বর্ণের উপস্থিতি রয়েছে।তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

গয়না ছাড়াও যেসব কাজে ব্যবহার হয় স্বর্ণ

সেপ্টেম্বরে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে আসা রেমিট্যান্স আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার। এরপর আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। ফলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, যা আমদানি ব্যয় পরিশোধ ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এটিই এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের পরিমাণ।

সেপ্টেম্বরে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

স্বর্ণের নতুন দাম জানাল বাজুস

দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত নতুন দামেই শুক্রবার স্বর্ণ বিক্রি হবে। সর্বশেষ বুধবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ এই মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা।এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, এসব দামেই শুক্রবার দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হবে।

স্বর্ণের নতুন দাম জানাল বাজুস

ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ল

চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো জরিমানা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের ভ্যাট মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিধানে সংশোধন আনা হয়েছে। এতে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের রিটার্ন এখনো দাখিল করেনি।এ অবস্থায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারার উপধারা (৩)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে অনাদায়ী রিটার্ন জমার সময় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ল

নবম বেতন স্কেল: যে গ্রেডে নতুন ‘জটিলতা’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ৫ অক্টোবর। এ কার্যক্রম চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীদের পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও বকেয়া অর্থ পরিশোধের হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের কোনো ভুল, অসম্পূর্ণতা কিংবা আগের রেকর্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্য থাকলে প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে। এ কারণে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।বিভিন্ন বিভাগে ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শিগগিরই অর্থ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে।উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতানতুন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং তার চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর দায়িত্ব পালন করলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।তবে আগের বেতন কাঠামোয় টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিয়োগ বা পদোন্নতি পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ বিষয়ে অর্থ বিভাগে আবেদন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, পুরোনো বেতন কাঠামোয় একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইমস্কেল কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেলে ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এবার পে-ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি এবং পূর্বের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নবম বেতন স্কেল: যে গ্রেডে নতুন ‘জটিলতা’

তিন মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেও নীতিসুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। এ সময় মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান।এর আগে জুনে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিসুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে জুলাইয়ে তা ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়।নীতিসুদহার অপরিবর্তিত রাখার ব্যাখ্যায় হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নীতিসুদহার এখনো বেশ উচ্চ। এ কারণে বর্তমান মুদ্রানীতির অবস্থানকে সংকোচনমূলক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।নতুন মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকগুলোর নেওয়া ঋণের সুদহার বা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যাংকগুলোর রাখা আমানতের সুদহারের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) আগের মতো ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে।ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও আগের ৬ দশমিক ৮ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।এ ছাড়া সরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ।এর আগে জুনে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, এখন থেকে তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।

তিন মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পরিচালকদের স্বাধীনতা জরুরি

দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকটে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কোম্পানিতে নিয়োগ পাওয়া স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত করপোরেট সুশাসন বিধিমালা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এ আলোচনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক, পেশাজীবী, শিক্ষক, বিনিয়োগকারী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হোসেন সাদাত। তিনি বলেন, করপোরেট সুশাসন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।হোসেন সাদাত বলেন, সীমিত সম্পদ ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব করপোরেট সুশাসন কাঠামো তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেইন বলেন, নতুন করপোরেট সুশাসন বিধিমালা একবারে না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের সংজ্ঞা এবং মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।আলোচনায় বক্তারা বলেন, সব কোম্পানির ব্যবসার ধরন, আকার ও ঝুঁকি একই নয়। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে করপোরেট সুশাসনের নিয়ম নির্ধারণ করা দরকার। পরিচালনা পর্ষদ ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য আগে থেকেই সুস্পষ্ট মানদণ্ড থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।বক্তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন শনাক্ত ও যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ ও নিরীক্ষা কমিটির ভূমিকা আরও কার্যকর করতে হবে।আলোচনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন, পরিবেশ ও সামাজিক বিষয়ে তথ্য প্রকাশ, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিচালকদের পেশাগত দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন বক্তারা।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পরিচালকদের স্বাধীনতা জরুরি

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের গহনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ এই মানের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মূল্য সমন্বয়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। নতুন এই দর বুধবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গহনার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যানুসারে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের গহনার মোট ক্রয়মূল্য দাঁড়াবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা (ভ্যাটসহ)।উল্লেখ্য, বাজুস নিয়মিতভাবে দেশীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দামের ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাধারণ গহনার খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream