বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

অর্থনীতি

ঢাকা-দাম্মাম বিমানের ফ্লাইট চালু ৭ নভেম্বর, যাত্রী সংকটে স্থগিত রিয়াদ রুট

ঢাকা-দাম্মাম বিমানের ফ্লাইট চালু ৭ নভেম্বর, যাত্রী সংকটে স্থগিত রিয়াদ রুট

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিত থাকা ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে আবার নিয়মিত ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে এ রুটে প্রতিদিন দিনের বেলায় ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এতে বলা হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। বিমান জানায়, ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় শুরু হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দিনের বেলায় এ রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট আপাতত চালু হচ্ছে না। বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিয়াদগামী যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাতায়াত করায় এ রুটে বর্তমানে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা নেই। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন

বাংলাদেশের কর্মজীবী মানুষের প্রায় ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, যাদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি ৮০ লাখ। বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ২০৪৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। অর্থাৎ জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য দেশটির হাতে রয়েছে প্রায় দুই দশক। এরপর কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমতে শুরু করবে। ২০৫১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীণ জনসংখ্যাপ্রধান দেশে পরিণত হবে। এ অবস্থায় এখনই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। আজ মঙ্গলবার ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাব, কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী, যা সংখ্যায় প্রায় পাঁচ কোটি ৮০ লাখ, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেও অনেককে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। দেশটির প্রায় ৪৪ শতাংশ স্নাতক অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ধীর। অন্যদিকে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে কর্মী কমিয়েছে। বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সম্ভাবনা নির্ভর করছে এখন দেশটি কী পদক্ষেপ নেয় তার ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোও প্রয়োজন। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের অনুপাত বাড়ায় এ অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বছরে অতিরিক্ত ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১.১ শতাংশ। কিন্তু জনসংখ্যাগত সুবিধা থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে যে অবদান আসছে, তা ক্রমেই কমবে। ২০২৪ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অবদান বছরে ০.৪ শতাংশ থেকে কমে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তুলনামূলকভাবে কম মাথাপিছু আয়েই দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। তাই এখনই উন্নত ও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির নীতি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবান প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে জনসংখ্যাগত সুবিধার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফা অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১৭ কোটি। তবে এ অঞ্চলের কর্মক্ষম জনসংখ্যা এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া প্রবীণ জনসংখ্যাপ্রধান অঞ্চলে পরিণত হবে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে এ পরিবর্তন ঘটবে ২০৫১ সালে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থাও দক্ষিণ এশিয়ায় যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। অঞ্চলের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। আর প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ কোনো না কোনো পেনশন সুবিধা পান। বিশ্বে পেনশন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সর্বনিম্ন হার। জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুটি ক্ষেত্রে একযোগে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সহজ করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, জনসংখ্যাগত সুবিধার সময় শেষ হওয়ার আগেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন

বীমা কোম্পানিতে প্রথমবারের মতো চার সংস্থার যৌথ বিশেষ নিরীক্ষা

বীমা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো চার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সমন্বয়ে একটি যৌথ নিরীক্ষার কার্যপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স বা টিওআর) খসড়া করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় বীমা কোম্পানির আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, প্রিমিয়াম সংগ্রহ, দাবি পরিশোধ, কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম একসঙ্গে যাচাই করা হবে। প্রাথমিকভাবে গত পাঁচ অর্থবছরের তথ্য নিরীক্ষার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনে নিরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো বা কমানো যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার আওতাধীন। ফলে আলাদাভাবে নিরীক্ষা চালালে অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়। সমন্বিত নিরীক্ষার মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম, তথ্যের অসংগতি, অর্থের অপব্যবহার ও সম্ভাব্য জালিয়াতি শনাক্ত করা সহজ হবে। জানা গেছে, অন্তত ডজন খানেক বীমা কোম্পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ফাঁকি দিয়ে আর্থিক অনিয়ম, তথ্যের অসংগতি, অর্থের অপব্যবহার ও  জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) শীর্ষ এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব কোম্পানি নিজেদের আর্থিক অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া সহজ হবে। শুধু তাই নয়, এসব কোম্পানির তথ্যের অসংগতি রয়েছে তাদেরকেও শাস্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘চার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর বিশেষ নিরীক্ষা কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা রোধ করা সম্ভব হবে।’  কেন যৌথ নিরীক্ষার উদ্যোগ খসড়া কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, বীমা খাতে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আইডিআরএ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে একটি বীমা কোম্পানির কার্যক্রম শুধু বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাংকিং কার্যক্রম, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং আয়কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। একটি কোম্পানির একাধিক ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, প্রিমিয়াম সংগ্রহ, দাবি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন থাকে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে নিরীক্ষা করলে সময় ও অর্থ বেশি ব্যয় হয়। একই সঙ্গে এক সংস্থার কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে অন্য সংস্থার তথ্যের অসংগতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের ঝুঁকি থেকে যায়। এ পরিস্থিতিতে চার সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একই তথ্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে যাচাই ও মিলিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।  যেভাবে হবে নিরীক্ষা প্রস্তাবিত উদ্যোগটি ‘মাল্টি-রেগুলেটর কোঅর্ডিনেটেড স্পেশাল অডিট’ নামে পরিচালিত হবে। এতে প্রতিটি সংস্থা নিজ নিজ আইনি এখতিয়ারের মধ্যে থেকে নিরীক্ষা ও তথ্য যাচাই করবে। কোম্পানির নিয়ন্ত্রক প্রতিবেদন, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেনসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি একসঙ্গে পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আইডিআরএর মাধ্যমে চার সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি যৌথ নিরীক্ষা সমন্বয় কমিটি বা টিম গঠন করা হবে। আইডিআরএর পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর ও বিএসইসি প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবে। পাশাপাশি আইডিআরএ একটি স্বাধীন ও যোগ্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ কিংবা অনুমোদন করবে। প্রতিষ্ঠানটি পেশাদার নিরীক্ষার কাজ, নথিপত্র যাচাই এবং প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করবে। নিরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী সুপারিশ দেবে। কোন সংস্থা কী যাচাই করবে প্রস্তাবিত কার্যপরিধি অনুযায়ী, আইডিআরএ বীমা আইন, ২০১০, ইনস্যুরেন্স করপোরেশন আইন, ২০১৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান পরিপালনের বিষয়গুলো পরীক্ষা করবে। এর মধ্যে থাকবে প্রিমিয়াম আয়ের হিসাব ও পলিসিধারীদের তথ্য যাচাই, দাবি ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তির হার, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, বিনিয়োগ পোর্টফোলিও এবং লাইফ ফান্ডের অবস্থা পর্যালোচনা। এ ছাড়া বীমা বিনিয়োগ প্রবিধানমালা, ২০১৯ অনুযায়ী বিনিয়োগ হয়েছে কিনা, আইডিআরএর অনুমতি ছাড়া এফডিআরের ওপর লিয়েন সৃষ্টি করা হয়েছে কিনা, সলভেন্সি মার্জিন প্রবিধানমালা, ২০২৪ এবং আইএফআরএস-১৭ অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা দেখা হবে। ট্যারিফ রেট, পুনঃবীমার নিয়ম, গাড়ি কেনা ও জ্বালানি ব্যয়, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণীও যাচাইয়ের আওতায় থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বীমা কোম্পানির নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব, ঋণ ও অন্যান্য ব্যাংকিং সম্পর্ক পরীক্ষা করবে। বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর, অস্বাভাবিক লেনদেন, নগদ উত্তোলন এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে অর্থের লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধান করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন, রেমিট্যান্স এবং পুনঃবীমার অর্থ দেশে এসেছে কিনা, তাও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে পরিশোধিত মূলধন প্রকৃতপক্ষে ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছিল কিনা এবং সার্কুলার বা কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে মূলধন দেখানো হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশনা পরিপালন, অর্থের উৎস ও চূড়ান্ত সুবিধাভোগী মালিকের পরিচয়ও যাচাই করা হবে। এনবিআর কোম্পানির আয়কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করবে। আর্থিক বিবরণী, হিসাবের খাতা এবং আয়কর রিটার্নের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে প্রকৃত আয় মিলছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। অঘোষিত আয়, গোপন লেনদেন, ভুয়া বা অগ্রহণযোগ্য ব্যয় এবং কর ফাঁকির লক্ষণও খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ভ্যাট নিবন্ধন, রিটার্ন, উৎসে কর কর্তন, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির প্রয়োগ এবং বিচারাধীন কর মামলা পর্যালোচনা করা হবে। কর নির্ধারণ বা জরিমানার মতো ব্যবস্থা এনবিআর নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় নেবে। অপরদিকে বিএসইসি কোম্পানির হিসাব ও আর্থিক বিবরণীর সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা তথ্য মিলিয়ে দেখবে। অনুমোদিত, ইস্যুকৃত ও পরিশোধিত মূলধন, উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ধারণ, শেয়ার বন্ধক এবং লক-ইন শর্ত পরিপালন যাচাই করা হবে। এ ছাড়া মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, লভ্যাংশ ঘোষণা, বোনাস শেয়ার ইস্যু, করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ার কারসাজির লক্ষণ পরীক্ষা করা হবে। আইপিও বা রাইট শেয়ারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হয়েছে কিনা, তাও দেখা হবে।  পাঁচ বছরের হিসাব, গোপন থাকবে তথ্য খসড়া অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে গত পাঁচ অর্থবছরের কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হবে। কোম্পানিগুলোকে হিসাবের খাতা, ভাউচার, ব্যাংক লেনদেনের নথি, কর ও বীমা দাবিসংক্রান্ত রেকর্ড এবং পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণীসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করতে হবে। নিরীক্ষা দলের সরেজমিন যাচাইয়েও সহযোগিতা করতে হবে। নিরীক্ষার সময় পাওয়া গ্রাহকের তথ্য, বাণিজ্যিক ও আর্থিক নথি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকবে। শেয়ারদর বা আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনো তথ্য অনুমোদন ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না। প্রতিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজ নিজ এখতিয়ারের আওতায় পাওয়া অনিয়ম, আর্থিক পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রযোজ্য আইনি ধারার তথ্য প্রতিবেদনে তুলে ধরবে। তবে সব তথ্য সমন্বয় করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।  মতপার্থক্য হলে কী হবে নিরীক্ষার সময় কোনও তথ্য, সিদ্ধান্ত বা মূল্যায়ন নিয়ে সংস্থাগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে প্রথমে যৌথ নিরীক্ষা সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তাতেও ঐকমত্য না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিজস্ব মতামত ও তার কারণ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আলাদাভাবে উল্লেখ করতে পারবে। খসড়া কার্যপরিধিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রতিটি সংস্থা নিজ নিজ আইনি এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করবে। কোনও সংস্থার প্রতিনিধি অন্য সংস্থার আইনি কাঠামোর আওতাধীন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না। সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে নিরীক্ষা সম্পন্ন করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। 

বীমা কোম্পানিতে প্রথমবারের মতো চার সংস্থার যৌথ বিশেষ নিরীক্ষা

আবারও বাড়লো এলপিজি সিলিন্ডারের দাম

ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বৃদ্ধি করে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে প্রতি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিইআরসি নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির কথা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দর বৃদ্ধি পাওয়া এবং আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ করার কারণেই মূল্যে এই সমন্বয় করা হয়েছে। সোমবার রাত ৮টা থেকেই নতুন এই দর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।তবে বিইআরসির নির্ধারিত দর নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিইআরসির প্রজ্ঞাপিত মূল্যের চেয়ে মাঠ পর্যায়ে বহু আগেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। গত অক্টোবর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলেও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রজ্ঞাপন ও নির্ধারিত মূল্য সত্ত্বেও বাজার মনিটরিং নিশ্চিত না হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্যের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আবারও বাড়লো এলপিজি সিলিন্ডারের দাম

যুদ্ধ বন্ধের আশায় ব্যারেলপ্রতি কমল তেলের দাম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ খবরে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান ও কাতারের সরকারি কর্মকর্তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনায় অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম নেমে আসে ১০০ ডলার ৫০ সেন্টে। অয়েলপ্রাইস ডটকম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ওই মাসের শেষ কার্যদিবস ৩০ অক্টোবর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারে ওঠে। পুরো অক্টোবরে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। আগামীকাল ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। আশঙ্কা ছিল, এই নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হবে। ফলে তেলের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। নির্বাচন শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরালো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে গত সপ্তাহের মূল্যবৃদ্ধির পর কূটনৈতিক আলোচনার খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, গত সপ্তাহে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পর বাজারে কিছুটা সংশোধন হয়েছে। তবে ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও অবস্থান আরও কঠোর হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ওয়াটারার। তবে এবার তেলের দাম এতটা যে বাড়েনি, বিশ্লেষকদের মতে তার মূল কারণ হলো চীনের চাহিদা কমে যাওয়া। চীনের প্রবৃদ্ধির গতি অনেক দিন ধরেই শ্লথ। সেই সঙ্গে তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। আরও অনেক দেশের চীনের পথ অনুসরণ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল রোববার বলেছেন, কাতারের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতেই আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় অগ্রগতিও হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত বন্ধে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো নিশ্চিত সমঝোতা হয়নি। ফলে তেলের বাজার দুটি বিষয়ই বিবেচনা করছে। একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে, আরেক দিকে সংঘাত বেড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা আছে। তেলের দাম বাড়বে না কমবে, সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো। সাধারণত দেখা যায়, এই জোট উৎপাদন বাড়ালে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, উৎপাদন কমালে উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে তেলের দাম শুধু উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। চাহিদা, মজুত, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, পরিবহন ব্যয় ও ডলারের বিনিময়মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ। চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ডিসেম্বর মাসে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রেখেছে ওপেক প্লাস। গতকাল সৌদি আরব, রাশিয়াসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন হ্রাস–বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এই জোট। ২৯ নভেম্বর ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠকে ২০২৭ সালের উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

যুদ্ধ বন্ধের আশায় ব্যারেলপ্রতি কমল তেলের দাম

শীত মৌসুমে মার্কেট বন্ধের সময় বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

শীত মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রাত ৮টার পরিবর্তে ৯টা পর্যন্ত দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে সংগঠনটি।রোববার (১ নভেম্বর) সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা ৬টা, ৭টা কিংবা রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্রেতা কমে যাওয়ায় ঢাকার দুটি বড় বিপণিবিতান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক বিপণিবিতান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। দোকান মালিক সমিতির আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যুৎ–সংকট কমে এসেছে এবং শীত মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুটা ভালো হয়। তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকান খোলা রাখা প্রয়োজন।

শীত মৌসুমে মার্কেট বন্ধের সময় বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮১ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে এই মূল্য সমন্বয় করেছে বাজুস। নতুন দাম শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৩০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।

দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর

গ্যাসের দাম দুই থেকে তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব

বেসরকারি খাতে তেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস)-এর মূল্যবৃদ্ধি এবং এলপিজি ব্যবসায়ী ও বিতরণকারীদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এই আনুষ্ঠানিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।গণশুনানিতে এলপিজি খাতের আমদানিকারক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা নিজেদের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে কমিশন বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।বর্তমানে নির্ধারিত কমিশন বা লভ্যাংশ ২ থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।কমিশন বর্তমান হারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।মূল্য নির্ধারণ কমিটির এই গণশুনানিতে আমদানিকারক, পরিবেশক, ক্যাবের (কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) প্রতিনিধি এবং বিইআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। ভোক্তাদের ওপর বাড়তি মূল্যের চাপ এবং ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবির বিষয়গুলো বিবেচনা করে কমিশন পরবর্তীতে তাদের সিদ্ধান্ত ও নতুন মূল্যসূচি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।

গ্যাসের দাম দুই থেকে তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব

সকালে কার্যকর হলো স্বর্ণের নতুন দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এর আগে, সবশেষ গত ২৮ অক্টোবর সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম।

সকালে কার্যকর হলো স্বর্ণের নতুন দাম

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে বাজুস। এদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানায়, বুধবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) একই মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। এ ছাড়া নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। এদিকে সোনার দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বাজুস। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৬৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

আইইউবিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ৬ষ্ঠ জাতীয় কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ ও বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের (বিএসএসএফ) খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ৬ষ্ঠ জাতীয় কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ক্যাব ইন্টারন্যাশনাল সহ-আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ করে।  সেমিনারে খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।  প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মশিউর রহমান।

আইইউবিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ৬ষ্ঠ জাতীয় কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।  লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ মঙ্গলবার বিনিময় হার:  বৈদেশিক মুদ্রা : বাংলাদেশি টাকা ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা ইউরো : ১৩৮ টাকা ২৫ পয়সা পাউন্ড : ১৬৫ টাকা ০৭ পয়সা কানাডিয়ান ডলার : ৮৮ টাকা ৩১ পয়সা অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৮২ পয়সা চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ৫৫ পয়সা সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ৫৮ পয়সা ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ৩০ পয়সা মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩৮ পয়সা সৌদি রিয়াল : ৩৩ টাকা ১৬ পয়সা কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা কুয়েতি দিনার : ৩৯৯ টাকা ৬১ পয়সা আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা সূত্র: গুগল)  যে কোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

তিন মাসে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশকে মোট ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে ঋণ রয়েছে ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর অনুদান হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়ায় আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে প্রতিশ্রুত অর্থ কত দ্রুত পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে অর্থছাড়ের সময়, প্রকল্পের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর। বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ধরনের অর্থায়ন বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ছাড় হওয়া সহায়তার মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ছিল ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে। এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইআরডির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ বাবদ ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীদের ভবিষ্যৎ অর্থায়নের অঙ্গীকার, আর অর্থছাড় হলো প্রকল্প বা কর্মসূচির বিপরীতে বাস্তবে পাওয়া অর্থ। তাই নতুন প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় এবং উন্নয়ন প্রকল্পে তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিন মাসে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে

হারানো ঢাকাই মসলিন আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে

সরকারের উদ্যোগ, বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণা এবং প্রান্তিক নারী কারিগরদের দক্ষতায় আবারও ফিরে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন। একসময় হারিয়ে যাওয়া এই কাপড় তৈরির পুরোনো প্রযুক্তি ও কাঁচামাল পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে বিশ্ববাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকাই মসলিন।সাদা মেঘের মতো স্বচ্ছ, শিশিরের মতো কোমল আর বাতাসের মতো হালকা—এমনই ছিল ঢাকাই মসলিনের বৈশিষ্ট্য। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকেই রোমান, গ্রিক ও আরব সাম্রাজ্যে এই কাপড়ের ব্যাপক কদর ছিল।মুঘল আমলে মসলিনের জনপ্রিয়তা ও আভিজাত্য আরও বেড়ে যায়। তখন এর সবচেয়ে উন্নত ধরন ‘মলমল খাস’ শুধু সম্রাটদের ব্যবহারের জন্য রাখা হতো।নকশা ও মানের ভিত্তিতে মসলিনের বিভিন্ন নাম ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আবে-রওয়ান’, যার অর্থ প্রবাহিত পানি। আর ‘শবনম’ অর্থ ভোরের শিশির।মসলিনের সূক্ষ্মতা নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা গল্প। বলা হয়, একটি আস্ত শাড়ি দিয়াশলাইয়ের বাক্সে রাখা যেত। আবার ছোট একটি আংটির ভেতর দিয়েও অনায়াসে পার করা যেত এই কাপড়। এসব গল্প ঢাকাই মসলিনের অসাধারণ সূক্ষ্মতা ও বুননশিল্পের পরিচয় তুলে ধরে।প্রায় ১৭০ বছর আগে ১৮শ শতাব্দীর শেষের দিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ম্যানচেস্টারের মিলের তৈরি সস্তা কাপড়ের আগ্রাসন, দেশীয় তাঁতিদের ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক নির্যাতন (যেমন বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে দেওয়া) ও শাস্তিমূলক উচ্চ শুল্ক আরোপ এই শিল্পের টুঁটি চেপে ধরে।মসলিন তৈরির একমাত্র বিশেষ কাঁচামাল— মেঘনা নদীর অববাহিকায় জন্মানো ‘ফুটি কার্পাস’ তুলা গাছটি একপর্যায়ে প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়, যা এই শিল্পের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। ১৮৫০ সালে লন্ডনের মহাপ্রদর্শনীতে শেষবারের মতো আদি ঢাকাই মসলিন প্রদর্শিত হয়েছিল, এরপর এটি কেবলই ইতিহাস হয়ে যায়।ঢাকাই মসলিন বুনন শুধু একটি সাধারণ কায়িক শ্রম ছিল না, এটি ছিল আবহাওয়ার সাথে জড়িত এক জটিল লোকজ বিজ্ঞান। ফুটি কার্পাসের অতি-মিহি সুতা শুকনো বাতাসে ভেঙে যায়। তাই মসলিনের সুতা কাটার জন্য ভোরের সূর্য ওঠার আগের ও সন্ধ্যার পরের আর্দ্র আবহাওয়া বেছে নেওয়া হতো।বিশেষ করে, শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা এই সুতা কাটার জন্য প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদ ছিল। তুলা মাঠ থেকে সংগ্রহ করা, আঁশ ছাড়ানো, বিশেষ বোয়ালের চোয়ালের হাড় দিয়ে তুলা পরিষ্কার করা, অতি-সূক্ষ্ম তকলি ও চরকায় সুতা কাটা, সুতা ধোয়া ও বিশেষ নকশায় তাঁতে বুনন পর্যন্ত মোট ১৬টি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর ধাপ পার করে তবেই একটি আসল ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো।২০১৪ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড মসলিন পুনরুদ্ধারে একটি উচ্চপর্যায়ের গবেষক দল গঠন করে। গবেষক দলটির এই দীর্ঘ যাত্রা ছিল কোনো বৈজ্ঞানিক থ্রিলার উপন্যাসের মতোই রোমাঞ্চকর।১৭৮৮ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের লেখা বইয়ের স্কেচ ও ঐতিহাসিক সূত্র ধরে গবেষকেরা কাপাসিয়া, গাজীপুর, বাঘাবাড়ী ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে ৩৯টি বন্য তুলার জাত সংগ্রহ করেন।লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আদি মসলিনের সুতার নমুনার সাথে সংগৃহীত তুলার ডিএনএ সিকোয়েন্সিং ও জিনোম ম্যাচিং করে অবশেষে শতভাগ খাঁটি ‘ফুটি কার্পাস’ শনাক্ত ও চাষ করা হয়।মসলিন বোনার জন্য আদি ৫০টিরও বেশি বিশেষ তৈরি যন্ত্রপাতি আবার নতুন করে প্রস্তুত করতে হয়েছে।সাধারণ সুতির কাপড়ের কাউন্ট যেখানে ৪০ থেকে ৮০ হয়, সেখানে পুনরুজ্জীবিত ঢাকাই মসলিনের সুতা ৭৩১ থেকে ৭৫০ মেট্রিক কাউন্ট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে, যা কাপড়টিকে শিশিরের মতো স্বচ্ছতা দেয়।২০২০ সালের ডিসেম্বরে ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে, যা আন্তর্জাতিক মহলে এর একক মালিকানা ও স্বত্ব নিশ্চিত করেছে।মসলিন এখন গবেষণাগারের বা প্রদর্শনীর বস্তু থেকে জীবন্ত বাণিজ্যিক শিল্পে রূপ লাভ করছে। প্রথম ধাপের সফলতার পর সরকার বর্তমানে ১৮.৫ কোটি টাকার (১৮৫ মিলিয়ন বিডিটি) দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সামাজিক দিক হলো, মসলিনের এই অতি-সূক্ষ্ম সুতা কাটার জন্য ৩শরও বেশি প্রান্তিক নারীকে সুনিপুণভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ স্পিনারে রূপান্তর করা হয়েছে, যারা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছেন।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোর লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলো এই পুনরুজ্জীবিত ঢাকাই মসলিন ক্রয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫০০ গজ মসলিন কাপড়ের একটি বড় অর্ডারও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবোতে নির্মিত ‘ঢাকাই মসলিন হাউস’-কে কেন্দ্র করে বর্তমানে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সেমিনারে ফুটি কার্পাসের জাত আরও উন্নত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কাঁচামালের ঘাটতি মেটাতে কাপাসিয়া, রাজশাহী ও কুমিল্লার গ্রামীণ চাষিদের সাথে চুক্তিবদ্ধ চাষাবাদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।প্রথম দিকে একটি শাড়ির উৎপাদন খরচ ৩.৬০ লাখ টাকা হলেও ব্যাপকভিত্তিক উৎপাদনের মাধ্যমে তা ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। একটি সুনিপুণ মসলিন শাড়ি বুনতে ২ থেকে ৪ জন তাঁতির কয়েক মাস সময় লাগে।তাই এটি মূলত বিশ্ববাজারের উচ্চবিত্তদের জন্য একটি প্রিমিয়াম লাক্সারি ফ্যাশন হিসেবে স্থান করে নেবে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক খাতের বাইরে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে উচ্চ-মূল্যের আন্তর্জাতিক লাক্সারি রপ্তানি খাতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও, বেসরকারি খাতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পর এবং ব্যাপকভিত্তিক চাষাবাদ শুরু হলে শাড়ির বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

হারানো ঢাকাই মসলিন আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে

সিলেটে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন

 সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে সবজি মাছ ও মুরগির সহ নিত্যপণ্যের দাম। জিনিসের দাম বাড়লে, বাড়েনি মানুষের আয় বরং খরচে ব্যয়। সিলেটের বাজারে পেপে ও আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সবজি ছাড়াও মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি  নেই ক্রেতাদের।  বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার গুলোকে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় কেউ কম পরিমাণে কিনছেন, কেউবা খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন মাছ-মাংসের মতো পণ্য। এ অবস্থায় বাজার তদারকি জোরদার ও পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। রোববার  ও সোমবার নগরের লালবাজার, কাজিরবাজার ও রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেপে ও আলু ঠাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক চড়া দামে। প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গার দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৮০ টাকা ও ফুলকপি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগাম শীতকালীন সবজি নতুন শিমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তবে আলু ৩০ টাকা ও পেঁপে ১৫  থেকে ২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের দামও ক্রেতাদের চাপে ফেলছে। আকার ভেদে বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শিং, মাগুর ও চিংড়ির মতো মাছের দাম আরও বেশি। মাছের দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাকে পছন্দের মাছের বদলে তুলনামূলক কম দামের মাছ কিনতে হচ্ছে।মুরগি ও ডিমের বাজারেও খরচ কমানোর সুযোগ সীমিত। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। গরুর মাংস কেজিতে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মন্তব্য, আয়-রোজগার না বাড়লেও নিত্য দিনের ব্যয় বাড়ছে। ফলে একই পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও আগের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যাচ্ছে না। মাছ কিনলে সবজির পরিমাণ কমাতে হচ্ছে, আবার মাংস কিনতে গেলে অন্য খরচে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা নিলেন্দু ভট্টাচার্য  বলেন, “শীতকালীন সবজির মৌসুম চলছে, এই সময় তো সবজির দাম কম থাকার কথা। অথচ পেঁপে আর আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেগুন, টমেটো, শিম কিনতে  গেলে দাম শুনেই মাথা ঘুরে যায়। আমাদের আয় তো বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিন বাড়ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ চলবে কী ভাবে? বাজারে সিন্ডিকেট থাকলে ভাঙতে হবে, আর যারা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সিলেটে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন

সোনার দামে স্বস্তি, এখনো অপরিবর্তিত

দেশে স্বর্ণের দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে। তবে সর্বশেষ দাম কমানোর পর এখন পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে সোনার দাম।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়। নতুন এ দাম ওই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস। আজ দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

সোনার দামে স্বস্তি, এখনো অপরিবর্তিত
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream