পোশাকশ্রমিকদের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড আগামী ডিসেম্বরে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও সুনির্দিষ্টভাবে টাকার পরিমাণ ঘোষণা না করায় শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় আবারও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকালে কারখানায় হাজিরা নিশ্চিত করার পর শ্রমিকদের একটি অংশ হঠাৎ বাইরে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে আশুলিয়ার শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কতৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে ডিজিটাল কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই নরসিংহপুর, জামগড়া ও জিরানী এলাকার একাধিক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি ঘোষণা করে কারখানা ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা সংলগ্ন অন্যান্য কারখানার প্রধান ফটকে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চাপ প্রয়োগ করে অন্য শ্রমিকদের কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন।
একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে পর্যায়ক্রমে ছুটি ঘোষণা করলে হাজার হাজার শ্রমিক আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে নেমে আসেন এবং অবস্থান নেন। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে শ্রমিকেরা প্রধান সড়ক ছেড়ে বিভিন্ন ফিডার বা শাখা সড়কে অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা জানান, গত ৪ নভেম্বর নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের পর জানানো হয়েছে আগামী ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন। তবে মূল বেতনের পরিমাণ কত টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে বা সর্বনিম্ন মজুরি কত হচ্ছে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। কত টাকা বেতন বাড়ছে তা সুনির্দিষ্ট করে না জানানো পর্যন্ত তারা কাজ থামিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এদিকে গতকাল বুধবার সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশভ্যান ও মোটরসাইকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতি রূপ নিলেও আজ সকাল থেকে সাভার এলাকার পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে।
"যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি (BGB) মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশের সাজোঁয়া যান (APC) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।"
মতামত