বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পঞ্চগড়ে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করলেন প্রাণিসম্পদ



পঞ্চগড়ে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করলেন প্রাণিসম্পদ
পঞ্চগড়ে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করলেন প্রাণিসম্পদ

 পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকায় অসুস্থ একটি গরু জবাইয়ের পর প্রায় চার মণ মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গরুটিকে একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। নির্ধারিত ওষুধ প্রত্যাহারকাল (উইথড্রয়াল পিরিয়ড) শেষ না হওয়ায় মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—এমন বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে গরুটি জবাই করা হয়। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর থেকে গরুটি অসুস্থ ছিল। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে চলছিল এর চিকিৎসা।

জানা যায়, গরুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেটি জবাই করেন মালিক খামারি সোহেল ইসলাম। বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. মরিয়ম রহমানের নজরে এলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে এফএসপি হাবিবুর রহমান এবং হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে মাংসগুলো গভীর গর্তে পুঁতে নষ্ট করা হয়।

গরুর মালিক খামারি সোহেল ইসলাম বলেন, “গরুটি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং চিকিৎসাধীন ছিল। গত রাতে হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় নিজের খাওয়ার জন্য গরুটি জবাই করেছি। বিক্রির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”

স্থানীয় পশু চিকিৎসক ও এআই টেকনিশিয়ান তফিজুল ইসলাম বলেন, “গতকাল বিকেলেও আমি গরুটিকে স্যালাইন দিয়ে এসেছি। আজ ভোরে গরুর মালিক আমাকে ফোন করেছিলেন। তবে গরুটি জবাই করার বিষয়ে আমার কাছে কোনো পরামর্শ নেননি।”

স্থানীয় মাংস বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, “সকাল ৬টার দিকে আমাকে ফোন করা হয়েছিল। তবে অসুস্থ গরু হওয়ায় আমি সেটি কিনতে রাজি হইনি। পরে সকালে জানতে পারি, মালিক নিজেই গরুটি জবাই করেছেন। এরপর আমার লোকজন গিয়ে গরুটির চামড়া ছড়িয়ে দেন।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. মরিয়ম রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থ গরুটির চিকিৎসাধীন থাকা এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাংসটি নষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটির অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল শেষ হওয়ার আগে এ ধরনের পশুর মাংস খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে ঝুঁকি থাকায় মাংসগুলো মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে মাংসগুলো মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো পশু অসুস্থ হলে কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে বা জবাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে মালিকের উচিত আগে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ওষুধের নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অসুস্থ পশু জবাই করে নিজেরা খাওয়া কিংবা বাজারে বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


পঞ্চগড়ে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করলেন প্রাণিসম্পদ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

 পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকায় অসুস্থ একটি গরু জবাইয়ের পর প্রায় চার মণ মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গরুটিকে একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। নির্ধারিত ওষুধ প্রত্যাহারকাল (উইথড্রয়াল পিরিয়ড) শেষ না হওয়ায় মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—এমন বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে গরুটি জবাই করা হয়। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর থেকে গরুটি অসুস্থ ছিল। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে চলছিল এর চিকিৎসা।

জানা যায়, গরুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেটি জবাই করেন মালিক খামারি সোহেল ইসলাম। বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. মরিয়ম রহমানের নজরে এলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে এফএসপি হাবিবুর রহমান এবং হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে মাংসগুলো গভীর গর্তে পুঁতে নষ্ট করা হয়।

গরুর মালিক খামারি সোহেল ইসলাম বলেন, “গরুটি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং চিকিৎসাধীন ছিল। গত রাতে হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় নিজের খাওয়ার জন্য গরুটি জবাই করেছি। বিক্রির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”

স্থানীয় পশু চিকিৎসক ও এআই টেকনিশিয়ান তফিজুল ইসলাম বলেন, “গতকাল বিকেলেও আমি গরুটিকে স্যালাইন দিয়ে এসেছি। আজ ভোরে গরুর মালিক আমাকে ফোন করেছিলেন। তবে গরুটি জবাই করার বিষয়ে আমার কাছে কোনো পরামর্শ নেননি।”

স্থানীয় মাংস বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, “সকাল ৬টার দিকে আমাকে ফোন করা হয়েছিল। তবে অসুস্থ গরু হওয়ায় আমি সেটি কিনতে রাজি হইনি। পরে সকালে জানতে পারি, মালিক নিজেই গরুটি জবাই করেছেন। এরপর আমার লোকজন গিয়ে গরুটির চামড়া ছড়িয়ে দেন।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. মরিয়ম রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থ গরুটির চিকিৎসাধীন থাকা এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাংসটি নষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটির অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল শেষ হওয়ার আগে এ ধরনের পশুর মাংস খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে ঝুঁকি থাকায় মাংসগুলো মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে মাংসগুলো মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো পশু অসুস্থ হলে কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে বা জবাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে মালিকের উচিত আগে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ওষুধের নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অসুস্থ পশু জবাই করে নিজেরা খাওয়া কিংবা বাজারে বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream