সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সাবেক পৌরমেয়রের ক্লিনিকে সিজার, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতির মৃত্যু



সাবেক পৌরমেয়রের ক্লিনিকে সিজার, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতির মৃত্যু

লালমনিরহাট শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে সিজারিয়ান অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আদরী বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

নিহতের স্বজনেরা জানান, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কার্যকর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এমনি কি প্রসূতির মৃত্যুর পর তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

স্বজনরা জানান, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভোররাত ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে রংপুর অথবা অন্য কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় বিজলী নামের এক নারী তাকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই ক্লিনিকে তাঁকে ভর্তি করা হয় এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করে। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। স্বজনরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

কিন্তু সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে তারা আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ক্লিনিকের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে  তারা অভিযোগ করেন।

নিহতের বোন মাফুজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, 'রোববার দুপুরে আমার বোনকে ক্লিনিকে নিয়ে আসি। রাত ১টার দিকে সিজারে তার একটি পুত্রসন্তান হয়। কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা রক্তের প্রয়োজনের কথা জানান। র'ক্ত সংগ্রহ করে সকালে এসে দেখি, বোনের শরীর ঠান্ডা, কোনো কথা বলছে না। আমাদের চিৎকারে নার্সরা এসে তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ততক্ষণে আমার বোন মারা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর উদ্যোগও সময়মতো নেওয়া হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর একজন প্রসূতির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

রোগীর অস্ত্রোপচার করা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম আলীর একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু। তিনি মৃত সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের ছেলে এবং শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তবে এ ঘটনায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে ক্লিনিকে গিয়েও কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা  সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই  শ্রী তুষার কান্তি জানান, ঘটনার তথ্য প্রমান সংগ্রহ করছি। অভিযোগ পেলেই  ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাকিম বলেন, 'বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলায় ক্লিনিকগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। জেলায় মোট ২৭টি ক্লিনিকের কাগজপত্র ঠিক রয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কোন বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


সাবেক পৌরমেয়রের ক্লিনিকে সিজার, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতির মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

লালমনিরহাট শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে সিজারিয়ান অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আদরী বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

নিহতের স্বজনেরা জানান, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কার্যকর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এমনি কি প্রসূতির মৃত্যুর পর তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

স্বজনরা জানান, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভোররাত ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে রংপুর অথবা অন্য কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় বিজলী নামের এক নারী তাকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই ক্লিনিকে তাঁকে ভর্তি করা হয় এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করে। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। স্বজনরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

কিন্তু সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে তারা আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ক্লিনিকের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে  তারা অভিযোগ করেন।

নিহতের বোন মাফুজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, 'রোববার দুপুরে আমার বোনকে ক্লিনিকে নিয়ে আসি। রাত ১টার দিকে সিজারে তার একটি পুত্রসন্তান হয়। কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা রক্তের প্রয়োজনের কথা জানান। র'ক্ত সংগ্রহ করে সকালে এসে দেখি, বোনের শরীর ঠান্ডা, কোনো কথা বলছে না। আমাদের চিৎকারে নার্সরা এসে তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ততক্ষণে আমার বোন মারা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর উদ্যোগও সময়মতো নেওয়া হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর একজন প্রসূতির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

রোগীর অস্ত্রোপচার করা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম আলীর একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু। তিনি মৃত সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের ছেলে এবং শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তবে এ ঘটনায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে ক্লিনিকে গিয়েও কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা  সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই  শ্রী তুষার কান্তি জানান, ঘটনার তথ্য প্রমান সংগ্রহ করছি। অভিযোগ পেলেই  ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাকিম বলেন, 'বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলায় ক্লিনিকগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। জেলায় মোট ২৭টি ক্লিনিকের কাগজপত্র ঠিক রয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কোন বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream