দৃশ্যমান অবকাঠামো আর মনোরম পরিবেশে এটি জেলার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভেতরের চিত্রটি একেবারেই উল্টো। বলছি যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় রাজগঞ্জ এলাকা সংলগ্ন অবস্থিত ‘মণিরামপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ’-এর কথা। বাহ্যিক জৌলুস আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিকের পাবলিক পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে একটাই প্রবাদ—‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’।
চলতি ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (ভোকেশনাল/কারিগরি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছে ৭ জন। সে হিসাবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মোটে প্রায় ২২ শতাংশ। অথচ এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অধ্যক্ষসহ মোট ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও চমৎকার ভৌত অবকাঠামো থাকার পরও এমন হতাশাজনক ফলাফল মানতে পারছেন না কেউ।
প্রতিষ্ঠানের এমন লজ্জাজনক ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকার এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি দেখতে যতটা সুন্দর, ভেতরে পড়াশোনার মান তার চেয়ে অনেক বেশি করুণ। এত শিক্ষক থাকার পরও ৯ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিষ্ঠানটির এমন দশা দেখে মনে হয়, এটি কেবল নামেই একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ভালো লেখাপড়া হবে। কিন্তু এখন দেখছি অন্য জায়গায় ভর্তি না করে ভুল করেছিলাম।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে মণিরামপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ উত্তম কুমার রায় বলেন, “আমাদের অবকাঠামোগত কোনো ঘাটতি নেই। তবে শিক্ষক সংকট ও কিছু শিক্ষার্থীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আগামীতে শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং পাসের হার বাড়াতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বাকী বিল্লাহ বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার এমন ফলাফল অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। কেন এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে আমরা খুব দ্রুতই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করব এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মনিরামপুরে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আহমেদ শফি বলেন, শুধু দৃষ্টিনন্দন ভবন আর বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান বাড়ানো যায় না। এর জন্য প্রয়োজন জবাবদিহিতা, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা।
মতামত