শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

জুয়া খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান যুবশক্তি নেতা রাজের


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জুয়া খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান যুবশক্তি নেতা রাজের
জুয়া খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান যুবশক্তি নেতা রাজের, ‘আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে’

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মেরিজ তাস খেলার একটি স্থানে উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে জুয়া খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় যুবশক্তির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজ। তাঁর দাবি, স্থানীয় কয়েকজন যুবক অবসর সময়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে মেরিজ তাস খেলছিলেন। সেখানে উপস্থিত থাকলেও তিনি খেলায় অংশ নেননি। ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বটতলা (গোলাপ খাঁ) বাজারসংলগ্ন একটি ছ’মিলের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ আব্দুর রাজ্জাক রাজকে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আব্দুর রাজ্জাক রাজের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক অবসর সময়ে মেরিজ তাস খেলছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তিনি সেখানে বসে থাকায় পুলিশ তাঁকে দেখতে পায়।

রাজ দাবি করেন, পরে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব তাঁকে জানান, এলাকাটি তাঁর হওয়ায় সেখানে যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের খেলা না হয়, সে বিষয়ে থানায় লিখিত দিয়ে আসতে হবে। পুলিশের কথার পরিপ্রেক্ষিতে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি থানায় গিয়ে মুচলেকা দেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় ছেলেরা দুপুরবেলা সময় কাটানোর জন্য বিনোদন হিসেবে মেরিজ তাস খেলছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে চলে যায়। আমি সেখানে বসে থাকায় পুলিশ আমাকে দেখতে পায়। পরে আমাকে বলা হয়, এলাকাটি আমার হওয়ায় সেখানে যেন আর খেলা না হয়, সে বিষয়ে লিখিত দিয়ে আসতে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই থানায় মুচলেকা দিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো স্থানে উপস্থিত থাকা আর জুয়া খেলায় অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া জুয়া খেলার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর। তাই প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কাউকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকায় অবসর সময়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত মেরিজ তাস খেলা হয় বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, এ খেলায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয় না। স্থানীয় সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তাঁরা খেলাটিকে দেখেন এবং এর মধ্যে অপরাধের মতো কিছু দেখেন না বলেও জানান। 

অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে তাস খেলতে দেখা গেলেও জুয়া খেলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাধের প্রমাণ না মেলায় মুচলেকা নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক রাজকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয় কয়েকজন ওই স্থানে নিয়মিত টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসার অভিযোগও করেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আব্দুর রাজ্জাক রাজের দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


জুয়া খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান যুবশক্তি নেতা রাজের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মেরিজ তাস খেলার একটি স্থানে উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে জুয়া খেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় যুবশক্তির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজ। তাঁর দাবি, স্থানীয় কয়েকজন যুবক অবসর সময়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে মেরিজ তাস খেলছিলেন। সেখানে উপস্থিত থাকলেও তিনি খেলায় অংশ নেননি। ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বটতলা (গোলাপ খাঁ) বাজারসংলগ্ন একটি ছ’মিলের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ আব্দুর রাজ্জাক রাজকে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আব্দুর রাজ্জাক রাজের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক অবসর সময়ে মেরিজ তাস খেলছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তিনি সেখানে বসে থাকায় পুলিশ তাঁকে দেখতে পায়।

রাজ দাবি করেন, পরে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব তাঁকে জানান, এলাকাটি তাঁর হওয়ায় সেখানে যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের খেলা না হয়, সে বিষয়ে থানায় লিখিত দিয়ে আসতে হবে। পুলিশের কথার পরিপ্রেক্ষিতে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি থানায় গিয়ে মুচলেকা দেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় ছেলেরা দুপুরবেলা সময় কাটানোর জন্য বিনোদন হিসেবে মেরিজ তাস খেলছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে চলে যায়। আমি সেখানে বসে থাকায় পুলিশ আমাকে দেখতে পায়। পরে আমাকে বলা হয়, এলাকাটি আমার হওয়ায় সেখানে যেন আর খেলা না হয়, সে বিষয়ে লিখিত দিয়ে আসতে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই থানায় মুচলেকা দিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো স্থানে উপস্থিত থাকা আর জুয়া খেলায় অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া জুয়া খেলার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর। তাই প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কাউকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকায় অবসর সময়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত মেরিজ তাস খেলা হয় বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, এ খেলায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয় না। স্থানীয় সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তাঁরা খেলাটিকে দেখেন এবং এর মধ্যে অপরাধের মতো কিছু দেখেন না বলেও জানান। 

অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে তাস খেলতে দেখা গেলেও জুয়া খেলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাধের প্রমাণ না মেলায় মুচলেকা নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক রাজকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয় কয়েকজন ওই স্থানে নিয়মিত টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসার অভিযোগও করেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আব্দুর রাজ্জাক রাজের দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream