দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে চুয়াডাঙ্গার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোর অপারেশন। অপারেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্টের মত পদটি বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে। সাধারণ রোগিরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের পক্ষে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে চিকিৎসা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অপারেশন বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শূণ্য পদে লোকবল পেলেই এ সংকট দুর হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্পর্ণ বন্ধ রয়েছে অপারেশন কার্যক্রম। যার ফলে দুর-দুরন্ত থেকে আসা সাধারণ রোগিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বাধ্য হয়েই বাইরের প্রতিষ্ঠানে থেকে অনেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা সেবা নিলেও অনেকে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে জেলার বাইরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে খরচ।
আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের জন্য প্রয়োজন অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট। কিন্তু পদটি শূণ্য থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন। দীর্ঘদিন অপারেশন থিয়েটর বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র। আর ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।
আলমডাঙ্গায় এ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক, দামুড়হুদায় এ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি, অর্থোপেডিক, জীবননগরে
এ ছাড়াও সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট এর মত। সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিক বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২ শতাধিক রোগি চিকিৎসা নিতে আসলেও কেউ অপারেশন করাতে পারেন না।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর মনোহরপুর গ্রামের হাসিবুল ইসলাম নামের এক রোগি জানান, আমাদের মত গরিব মানুষরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। ওষুধ ও অপারেশন অল্প খরচে সম্ভব বলে। আমাদের পক্ষে বাইরে ক্লিনিকে অপারেশন ও ডাক্তার দেখানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে রোগ শরীরে পুষে রাখতে হয়। অপারেশন করার অজ্ঞানের ডাক্তার নেই। কিভাবে চলছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
আলমডাঙ্গা হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া জানান, আমার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে পেটে যন্ত্রণা অনুভব করছিল। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখি এপেন্ডিসাইড হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তারা জানায় এখন অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এত টাকা দিয়ে কিভাবে স্ত্রীর অপারেশন করব, আর অন্যদিকে সংসার কিভাবে চালাবো।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে লোকবল কম থাকার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলো শূন্য রয়েছে। অ্যানসথেসিয়া চিকিৎসা ছাড়া কোন অপারেশন সম্ভব নয়। আমরা বাধ্য হয়ে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। শূন্য জনবলের বিপরীতে লোক চেয়ে আমরা বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। সার্জারি গাইনি ও অর্থোপেডিক মত গুরুত্বপূর্ণ কনসালটেন্ট পদও শূন্য রয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে। অল্প সময়ে সকল সমস্যা দূর হতে পারে লোকবল পেলে।
মতামত