পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী রূপালী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকের হিসাব থেকে চেক ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর গত ১৯ অক্টোবর রাতে পারুল নামের ওই গ্রাহককে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন শাখা ব্যবস্থাপক মামুন। তবে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় প্রকৃত দায়ী কে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কালিশুরীতে বেসরকারি সংস্থা স্লোব-বাংলাদেশে স্বল্প বেতনে চাকরি করেন পারুল। তিনি কালিশুরী রূপালী ব্যাংক শাখায় টাকা জমা রাখেন। পরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর হিসাব থেকে দুটি নতুন চেক ইস্যু করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
পারুলের ভাষ্য, বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েও দীর্ঘদিন সমাধান পাননি। পরে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ব্যবস্থাপক তাঁকে টাকা ফেরত দেন। পারুলের দাবি, ব্যবস্থাপক জানান, তিনি নিজের টাকা থেকে এ অর্থ দিয়েছেন এবং বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, শাখা ব্যবস্থাপক মামুন দাবি করেন, পারুলের ছেলে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজে তা দেখা গেছে। তবে ছেলে টাকা উত্তোলন করে থাকলে তিনি কেন নিজের অর্থ থেকে টাকা ফেরত দিলেন—এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।
পটুয়াখালী রূপালী ব্যাংকের জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মনজুর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাকা ফেরত দেওয়া হলেও অভিযোগটির নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চেক ইস্যুর নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পারুল।
মতামত