বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার গাজীপুর সফরে এসে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি ও সংলগ্ন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি পরিদর্শন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সেখানে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং এরপর তিনি কৃষি বিজ্ঞানী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ – মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। মঞ্জুরুল করিম রনি – সংসদ সদস্য, গাজীপুর-২ আসন। মোঃ সেলিম খান – সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়। ড. মোঃ মঞ্জুরুল কাদির – মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি। ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম – মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকার ডিআইজি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ডিসি এবং পুলিশ সুপার এসপি সহ আরো অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় 'গার্ড অব অনার' প্রদান করে। এরপর তিনি বারির উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে 'বারি কাঁঠাল-৬' জাতের একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার জন্য জোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন, যার কারণে মাঠে কাজ করার জন্য এখন কৃষক পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
তিনি বলেন, উৎপাদনের পরে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পায় না, আবার ফসল ফলানোর সময় বাড়তি দামে বীজ কিনতে হয়। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে সরকারকে কৃষকের হাতে প্রণোদনা পৌঁছে দিতে হবে। ফল ও সবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার গড়ে তুলতে হবে এবং এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া গবেষণার মাধ্যমে ঘাটতিগুলো দূর করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষিক্ষেত্রে অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চনফলনশীল ধানের জাত সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ অতীতে দেশের কৃষিতে পরিবর্তন এনেছিল।
মতামত