বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

গোয়ালন্দ হাসপাতালে পদে না থেকেও নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম দখলের অভিযোগ



গোয়ালন্দ হাসপাতালে পদে না থেকেও  নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম দখলের অভিযোগ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার মৃদুলা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ডিউটি রোস্টার নিয়ে হয়রানি এবং হাসপাতালের ওটি ব্যবহার করে গোপনে এমআর ও ডিএন্ডসি করার মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে নার্সিং সুপার ভাইজার পদ থেকে সরিয়ে দিলেও রুম ছাড়েননি তিনি।

মঙ্গলবার ( ৬ অক্টোবর) হাসপাতালে সরজমিনে দেখা যায় নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এ-সময় বর্তমান দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত সিনিয়র নার্স অভিযোগ করেন তাকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দিলেও তিনি রুম ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি তাকে ওটি রুমে দ্বায়িত্ব দিলেও সেটি তিনি করবেন না বলে জানিয়ে দেন।

এর আগে হাসপাতালে কর্মরত ৩৫ জন নার্সের মধ্যে ২৯ জন নার্স কয়েক দফা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে পরবর্তী তারা জেলা সিভিল সার্জন ও ডিজিতে লিখিত অভিযোগ করলে  রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবাদত হোসেন কে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে। তদন্ত কমিটি গত ১৪ জুলাই তারিখে হাসপাতালে আসলে সেখানে প্রায় ২৯ জন নার্স তদন্ত টিমের সামনে তাদের অভিযোগ বিষয়ে বলেন বলে জানাযায় সংশ্লিষ্টদের কাছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নার্সিং সুপারভাইজার মৃদুলা বিশ্বাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি ও ডেলিভারি রুমে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন সময়ে গোপনে গাইনি চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে এমআর ও ডিএন্ডসি করিয়েছেন। এতে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশি রোগী দেখিয়ে খাবারের বিল থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ডাক্তার, রোগী ও রোগীর স্বজনদের সামনে নার্সদের সঙ্গে অপমানজনক ও অবমাননাকর ভাষায় কথা বলা হয়। আয়া ও সুইপারদের সঙ্গেও অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় নার্সদের পরিবার ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা এবং মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি ও ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।

ডিউটি রোস্টার নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে নার্সদের মধ্যে। অভিযোগকারীদের দাবি, যারা নার্সিং সুপারভাইজারের ঘনিষ্ঠ, তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান। আর যারা তার আচরণ বা অনিয়মের প্রতিবাদ করেন, তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।

এরপর গত ৪ আগষ্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর মহাখালী, ঢাকা থেকে সহকারী পরিচালক (শৃঙ্খলা) ফরিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত কারন দর্শানো নোটিশে সাত (৭) কর্ম দিবসের মধ্যে

 দীর্ঘদিন যাবৎ সহকর্মীদের সাথে অশোভন, অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণ, কর্মপরিবেশ বিনষ্ট, ছুটি প্রদানে বৈষম্য, পক্ষপাতমূলকভাবে ডিউটি রোস্টার প্রণয়ন, রোগী ও রোগীর স্বজনদের সামনে সহকর্মীদের অপদস্ত করা, এমআর ও ডি অ্যান্ড সি (D&C) কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, হাসপাতালের ডায়েট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, স্টোরের চাবি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। এবং স্থানীয়ভাবে গঠিত ০৩ (তিন) সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে চিঠিতে নিশ্চিত করেন।

বর্তমান দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত নার্স সুপারভাইজার আনোয়ারা বলেন, হাসপাতালের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিনিয়র নার্স হিসেবে আমাকে দ্বায়িত্ব প্রদান করায় গত একমাস সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু তিনি ছুটে থেকে ফিরে এসে নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম দখল করে আছেন এবং আমাকে বলেছেন হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অন্য কোন রুম নিতে।

এবিষয়ে মৃদুলা বিশ্বাস এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জেরা করে বলেন নাম, ঠিকানা এবং পত্রিকার নাম দিতে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে বলে জানান। তিনি বলেন তাকে নার্সিং সুপার ভাইজারের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই বিষয়ে প্রমাণ চাইলে তিনি ডিজি থেকে জেনে নিতে বলেন।

উপজেলা আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রোমেল হাসান বলেন, তার আগের পদ থেকে তাকে ইনএকটিভ করে অন্য কাজ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রয়েছে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারি বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেওয়া সেটা আসার আগ পর্যন্ত সে ওটি সহ অন্যান্য দ্বায়িত্ব পালন করবে। নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম দখল করার বিষয়টি তিনি জানেন না কারণ আজ রাজবাড়ীতে একটা সভায় আছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


গোয়ালন্দ হাসপাতালে পদে না থেকেও নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম দখলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার মৃদুলা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ডিউটি রোস্টার নিয়ে হয়রানি এবং হাসপাতালের ওটি ব্যবহার করে গোপনে এমআর ও ডিএন্ডসি করার মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে নার্সিং সুপার ভাইজার পদ থেকে সরিয়ে দিলেও রুম ছাড়েননি তিনি।

মঙ্গলবার ( ৬ অক্টোবর) হাসপাতালে সরজমিনে দেখা যায় নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এ-সময় বর্তমান দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত সিনিয়র নার্স অভিযোগ করেন তাকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দিলেও তিনি রুম ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি তাকে ওটি রুমে দ্বায়িত্ব দিলেও সেটি তিনি করবেন না বলে জানিয়ে দেন।

এর আগে হাসপাতালে কর্মরত ৩৫ জন নার্সের মধ্যে ২৯ জন নার্স কয়েক দফা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে পরবর্তী তারা জেলা সিভিল সার্জন ও ডিজিতে লিখিত অভিযোগ করলে  রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবাদত হোসেন কে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে। তদন্ত কমিটি গত ১৪ জুলাই তারিখে হাসপাতালে আসলে সেখানে প্রায় ২৯ জন নার্স তদন্ত টিমের সামনে তাদের অভিযোগ বিষয়ে বলেন বলে জানাযায় সংশ্লিষ্টদের কাছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নার্সিং সুপারভাইজার মৃদুলা বিশ্বাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি ও ডেলিভারি রুমে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন সময়ে গোপনে গাইনি চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে এমআর ও ডিএন্ডসি করিয়েছেন। এতে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশি রোগী দেখিয়ে খাবারের বিল থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ডাক্তার, রোগী ও রোগীর স্বজনদের সামনে নার্সদের সঙ্গে অপমানজনক ও অবমাননাকর ভাষায় কথা বলা হয়। আয়া ও সুইপারদের সঙ্গেও অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় নার্সদের পরিবার ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা এবং মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি ও ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।

ডিউটি রোস্টার নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে নার্সদের মধ্যে। অভিযোগকারীদের দাবি, যারা নার্সিং সুপারভাইজারের ঘনিষ্ঠ, তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান। আর যারা তার আচরণ বা অনিয়মের প্রতিবাদ করেন, তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।

এরপর গত ৪ আগষ্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর মহাখালী, ঢাকা থেকে সহকারী পরিচালক (শৃঙ্খলা) ফরিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত কারন দর্শানো নোটিশে সাত (৭) কর্ম দিবসের মধ্যে


 দীর্ঘদিন যাবৎ সহকর্মীদের সাথে অশোভন, অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণ, কর্মপরিবেশ বিনষ্ট, ছুটি প্রদানে বৈষম্য, পক্ষপাতমূলকভাবে ডিউটি রোস্টার প্রণয়ন, রোগী ও রোগীর স্বজনদের সামনে সহকর্মীদের অপদস্ত করা, এমআর ও ডি অ্যান্ড সি (D&C) কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, হাসপাতালের ডায়েট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, স্টোরের চাবি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। এবং স্থানীয়ভাবে গঠিত ০৩ (তিন) সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে চিঠিতে নিশ্চিত করেন।

বর্তমান দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত নার্স সুপারভাইজার আনোয়ারা বলেন, হাসপাতালের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিনিয়র নার্স হিসেবে আমাকে দ্বায়িত্ব প্রদান করায় গত একমাস সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু তিনি ছুটে থেকে ফিরে এসে নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম দখল করে আছেন এবং আমাকে বলেছেন হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অন্য কোন রুম নিতে।

এবিষয়ে মৃদুলা বিশ্বাস এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জেরা করে বলেন নাম, ঠিকানা এবং পত্রিকার নাম দিতে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে বলে জানান। তিনি বলেন তাকে নার্সিং সুপার ভাইজারের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই বিষয়ে প্রমাণ চাইলে তিনি ডিজি থেকে জেনে নিতে বলেন।

উপজেলা আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রোমেল হাসান বলেন, তার আগের পদ থেকে তাকে ইনএকটিভ করে অন্য কাজ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রয়েছে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারি বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেওয়া সেটা আসার আগ পর্যন্ত সে ওটি সহ অন্যান্য দ্বায়িত্ব পালন করবে। নার্সিং সুপার ভাইজারের রুম দখল করার বিষয়টি তিনি জানেন না কারণ আজ রাজবাড়ীতে একটা সভায় আছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream