বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন
সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের বার্তা তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী চার দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। যাতায়াতের জন্য একদিন করে সময় লাগায় পুরো সফরটি ছিল সংক্ষিপ্ত। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর বাইরে আরও কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সফরে তিনি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। বাংলাদেশ থেকে টার্কিশ এয়ারওয়েজ এবং ফেরার পথে এমিরেটস এয়ারলাইন্স ব্যবহার করা হয়। সরকারি প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন ৩৫ জন। এতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ছিলেন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরে ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৫০টি বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের একটি দল ক্যালিফোর্নিয়ায় যায়। প্রযুক্তি, শিল্প ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সেখানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির মধ্যে আটটি সরাসরি জাতিসংঘ সদরদপ্তরকেন্দ্রিক ছিল বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ছিল সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ, সাধারণ পরিষদে ভাষণ, জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া প্রাতরাশ সংবর্ধনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া।

তিনি বলেন, এসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। পাশাপাশি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেও ডা. জুবাইদা রহমানের কুশলবিনিময় হয়েছে।

জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু নীতি তুলে ধরা হয়। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব বৈঠক আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো, স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ই-হেলথ কার্ডসহ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারেই সংকটের সমাধান নিহিত রয়েছে এবং প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণকে সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভাষণে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, নারী-যুব ও শিশুর কল্যাণ এবং দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘৩ আর’ নীতির কথা তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সাল কার্ডের পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও স্টার্টআপ খাতে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা এবং ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মাহদী আমিন জানান, চার দিনে ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতি ছিল। বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক মর্যাদা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং শান্তিরক্ষা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংক, মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা, গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং মার্কিন বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা জানান তিনি।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রায় ২৫ জন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং নতুন আর্থিক উপকরণ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গে বৈঠকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটিতে বক্তব্য দেন বলে জানান তিনি। নারী নেতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো সফরজুড়ে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের বার্তা তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী চার দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। যাতায়াতের জন্য একদিন করে সময় লাগায় পুরো সফরটি ছিল সংক্ষিপ্ত। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর বাইরে আরও কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সফরে তিনি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। বাংলাদেশ থেকে টার্কিশ এয়ারওয়েজ এবং ফেরার পথে এমিরেটস এয়ারলাইন্স ব্যবহার করা হয়। সরকারি প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন ৩৫ জন। এতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ছিলেন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরে ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৫০টি বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের একটি দল ক্যালিফোর্নিয়ায় যায়। প্রযুক্তি, শিল্প ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সেখানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির মধ্যে আটটি সরাসরি জাতিসংঘ সদরদপ্তরকেন্দ্রিক ছিল বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ছিল সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ, সাধারণ পরিষদে ভাষণ, জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া প্রাতরাশ সংবর্ধনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া।

তিনি বলেন, এসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। পাশাপাশি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেও ডা. জুবাইদা রহমানের কুশলবিনিময় হয়েছে।

জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু নীতি তুলে ধরা হয়। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব বৈঠক আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো, স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ই-হেলথ কার্ডসহ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারেই সংকটের সমাধান নিহিত রয়েছে এবং প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণকে সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভাষণে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, নারী-যুব ও শিশুর কল্যাণ এবং দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘৩ আর’ নীতির কথা তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সাল কার্ডের পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও স্টার্টআপ খাতে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা এবং ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মাহদী আমিন জানান, চার দিনে ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতি ছিল। বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক মর্যাদা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং শান্তিরক্ষা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংক, মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা, গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং মার্কিন বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা জানান তিনি।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রায় ২৫ জন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং নতুন আর্থিক উপকরণ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গে বৈঠকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটিতে বক্তব্য দেন বলে জানান তিনি। নারী নেতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো সফরজুড়ে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream