সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বাউফলে ভুয়া ডিবি ও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: দুই সংবাদকর্মী কারাগারে



বাউফলে ভুয়া ডিবি ও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: দুই সংবাদকর্মী কারাগারে

চাঁদাবাজির মামলায় পটুয়াখালীর বাউফলের দুই সাংবাদিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন—এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এবং মো. রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মিসকেস নং ১১৮৯/২৬-এর শুনানিতে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে তাঁরা ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রোববার তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনামুল হক ও মো. রিয়াজসহ কয়েকজন বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান। এ সময় তাঁরা নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বাদী রতন মন্ডল অভিযোগে উল্লেখ করেন, টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁদের ভয়ভীতি ও বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক দোকানদারের কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন এবং পরদিন আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাসে অভিযুক্তরা স্থান ত্যাগ করেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় তিন বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের এক তরুণী প্রেমের সম্পর্কের টানে পালিয়ে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই নারী হিন্দু ধর্ম পালন করছেন এবং তাঁদের আট মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পুরোনো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

এই ঘটনায় গত ২৮ জুলাই রতন মন্ডল বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়।

আদালতের আদেশের পর সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী রতন মন্ডল বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাউফলে ভুয়া ডিবি ও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: দুই সংবাদকর্মী কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চাঁদাবাজির মামলায় পটুয়াখালীর বাউফলের দুই সাংবাদিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন—এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এবং মো. রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মিসকেস নং ১১৮৯/২৬-এর শুনানিতে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে তাঁরা ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রোববার তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনামুল হক ও মো. রিয়াজসহ কয়েকজন বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান। এ সময় তাঁরা নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বাদী রতন মন্ডল অভিযোগে উল্লেখ করেন, টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁদের ভয়ভীতি ও বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক দোকানদারের কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন এবং পরদিন আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাসে অভিযুক্তরা স্থান ত্যাগ করেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় তিন বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের এক তরুণী প্রেমের সম্পর্কের টানে পালিয়ে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই নারী হিন্দু ধর্ম পালন করছেন এবং তাঁদের আট মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পুরোনো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

এই ঘটনায় গত ২৮ জুলাই রতন মন্ডল বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়।

আদালতের আদেশের পর সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী রতন মন্ডল বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream