শাহজামাল শাওন, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ব্যক্তি মালিকানাধীন ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে প্রকাশিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মানববন্ধনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতকে জড়িয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল জলিল সরকার জানান, ভিশন এন্টারপ্রাইজ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও অরাজনৈতিক একটি প্রতিষ্ঠান। এতে কতিপয় ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে যুক্ত থাকলেও দলীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ছিল না।
গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও তথ্য তুলে ধরেছে সংগঠনটি:
প্রধান সমন্বয়কের পদ বাতিল: গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রধান সমন্বয়ক মো: রফিকুল ইসলামকে (রাজারহাট) জামায়াতের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং স্থায়ীভাবে সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।
সদস্যপদ মুলতবি: প্রতিষ্ঠানটির সূচনালগ্ন থেকে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও উদাসীনতা প্রদর্শনের দায়ে শাহজালাল সবুজের সদস্যপদ মুলতবিসহ তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে অব্যাহতি: তদন্তে অর্থ সংগ্রহের সাথে কোনো প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ইঞ্জিনিয়ার মো: আবদুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) ও মো: রফিকুল ইসলামকে (ভোগডাঙ্গা) অভিযোগের দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
জেলা জামায়াত জানায়, সম্পূর্ণ মানবিক দিক বিবেচনা করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত প্রদানে অভিযুক্তদের ওপর বিভিন্ন কৌশল ও সাংগঠনিক চাপ প্রয়োগ করেছিল। তবে যেহেতু লেনদেনটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছে, তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সাথে অসত্য তথ্য প্রচার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্যও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কড়া আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতামত