যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যেই এক মাসে রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করেছে সংস্থাটি, যা আইসিইর ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ।
আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড ছিল জুনে, প্রায় ৪৩ হাজার। ফলে টানা দুই মাসে আটকের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারে দেশজুড়ে অভিযান আরও জোরদার করেছে তার প্রশাসন।
ডিএইচএস এই অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায় থেকে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের এই বাস্তবসম্মত উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। এসব অপরাধীকে সরিয়ে আমরা আবারও আমেরিকাকে নিরাপদ করছি।’
তবে সরকারের এই ব্যাপক অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক কিছু ব্যক্তির কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। এমনকি তাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এই অভিযান শুধু অপরাধীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে কি না।
এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু সমর্থকও মনে করছেন, অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল জানান, গ্রেফতারের সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনও কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগকে এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ডন
মতামত