জয়পুরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবন্ধী এক কৃষকের শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে কলাবাগানে ঢুকে এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর। এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মাদাবাদ ইউনিয়নের হাতিল মাগনী পাড়া গ্রামে। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় গ্রামের একটি কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক মাসুদ রানা একজন প্রতিবন্ধী। তার অভিযোগ, পৈত্রিক সম্পত্তির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপন ভাই ছানোয়ারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে জমি বিক্রির কথা বলে তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা বায়না নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত না দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাসুদ রানার অভিযোগ, জমিতে থাকা কলাগাছগুলো ফলন্ত অবস্থায় ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে তার ভাই ছানোয়ার কলাবাগানে ঢুকে শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেন। সকালে বাগানে গিয়ে গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, কলাগাছগুলোতে ফল ধরেছিল। এসব গাছ কেটে ফেলায় তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ফলন্ত কলাগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলায় কৃষক মাসুদ রানা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায়ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি প্রতিবন্ধী হওয়ায় কৃষিকাজের ওপরই তার আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। কলাগাছগুলো ছিল তার আয়ের অন্যতম উৎস। গাছ কেটে ফেলায় শুধু বর্তমান ফলনের ক্ষতি নয়, নতুন করে ফলন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মতামত