জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বটতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মনোয়ার হোসেন তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আপন দুই ভাই আশরাফ আলী সরদার ও সামাদ সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কিছু জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করা হয়।
জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কাগজপত্র সঠিক থাকলে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে এমন সিদ্ধান্তও হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে জমিজমা সংক্রান্ত ওই বিরোধের জের ধরেই আশরাফ আলী সরদারের ছেলে ও ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন হামলার শিকার হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মনোয়ার হোসেন বেগুন বিক্রি করে জয়পুরহাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বটতলী বাজার এলাকায় পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে।
বটতলী বাজারের একটি ফলের দোকানের সামনে মনোয়ার হোসেনের মোটরসাইকেল আটকিয়ে এ সময় তার আপন চাচাত ভাই সুমন ওরফে রবিন (৪২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে মনোয়ার হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মনোয়ার হোসেনের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আহত মনোয়ার হোসেনের বাবা আশরাফ আলী সরদার বলেন, বটতলী বাজারের একটি ফলের দোকানের সামনে আমার ছেলে মনোয়ার হোসেনকে আটক করে আমার ভাতিজা সুমন হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে বুকে ও পিঠে চাকু দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। বিভিন্ন সময় তারা আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন হোসেন বলেন , মনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের জমি দখল করে চাষাবাদ করেছেন এবং অতীতে তাদের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আমার বাবাকে মনোয়ার মারধর করেছে। মনোয়ারের কাছে সব সময় একটি ছুরি থাকে। বটতলী বাজারে আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ব্যাগে থাকা ছুরি দিয়ে আমার ওপর হামলা করে। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার হাতের ছুরি তার শরীরে লেগে যায়। আমিও প্রাণে বেঁচে গেছি। আমি কেন তাকে মারধর করতে যাব?
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, “ছুরিকাঘাতে আহত এক ইউপি সদস্যের বিষয়ে আমরা খবর পেয়েছি। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে এবং ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত