শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
হরমুজ নিয়ে ‘খেলা’ চললে ট্রাম্পের হাতে সব বিকল্প: হেগসেথ

হরমুজ নিয়ে ‘খেলা’ চললে ট্রাম্পের হাতে সব বিকল্প: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘খেলা’ চালিয়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় সব বিকল্পই রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ‘অটুট’ রয়েছে।  হেগসেথ শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালির মতো বিষয় নিয়ে গেম খেলতে চায়। এটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’ তিনি আরও বলেন, তারা আক্ষরিক অর্থেই কিছুই পার করতে পারেনি। আমাদের অবরোধ অটুট রয়েছে এবং প্রতিরাতেই যুদ্ধের আগের সময়ের কাছাকাছি মাত্রায় এর মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তারা ‘খুব শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে। ইরানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় সব বিকল্পই থাকবে। তিনি বলেন, তবে তিনি এসব বিষয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত হতে দেবেন না। তিনি জানেন মিশন কী এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা সম্পন্ন করতে পারি। এদিকে ইরান যাতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সে বিষয়ে ট্রাম্প ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলেও জানিয়েছেন হেগসেথ। তিনি বলেন, বার্তাটি খুবই সহজ: ইরান কখনোই কোনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তাদের কাছে এটি নেই; থাকবেও না।

হরমুজ অচল, বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট কার্যত বন্ধ থাকায় । যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় গত আগস্টে অঞ্চলটি থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমেছে ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।  গত এক সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় আগস্টে তেল রপ্তানি কমেছে ৩৯ শতাংশ। ওই দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছিল বলে জানিয়েছে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স। প্রতিষ্ঠানটি এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি সবচেয়ে বেশি কমেছিল। ওই মাসে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় তেল রপ্তানি ৬৭ শতাংশ কমে যায়। তবে আগস্টে এই ঘাটতি কিছুটা কমে এসেছে। মে মাসে দৈনিক ১ কোটি ২৪ লাখ ব্যারেল ঘাটতির তুলনায় আগস্টে ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখ ব্যারেলে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কয়েক দশকের মধ্যে সমুদ্রপথে অন্যতম বড় পণ্য পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। এর মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহটি উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা ডিজেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে স্থির হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে করে পুরো সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের পথগুলোতে চলাচল এখনো ব্যাহত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানির দাম আরও দ্রুত বাড়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও সরকারের ঋণ নেয়ার খরচ বেড়েছে। এতে কোনো ধরনের স্বস্তি না এলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও আরও বেড়েছে। রিস্ট্যাড এনার্জির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লদিও গালিমবার্তি বলেন, ‘অর্থনীতির সব খাতই ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি বন্ডের সুদের হার এত বেশি হওয়ার একটি কারণ হলো, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে থাকবে—এমন আশঙ্কা।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাত এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় খুচরা দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যে ফসল কাটার ও বীজ বপনের মৌসুম শুরু হওয়ায় ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে। কৃষিকাজের যন্ত্রপাতিতে ডিজেল প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শীত ঘনিয়ে আসায় এর সমতুল্য ফিউচারস চুক্তি হিটিং অয়েলের দামও দ্রুত বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্টের গড় দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে সিটি গ্রুপ। প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলার থেকে বাড়িয়ে তা ৮৬ ডলার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি খুলতে আগের ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগছে।   অন্যদিকে, এএনজেডের বিশ্লেষকেরাও স্বল্পমেয়াদে ব্রেন্টের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা।

হরমুজ অচল, বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম

করিডোর হবে, মাইনও সরবে—তবু হরমুজ খুলবে না ইরান

ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোর এবং মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে বুধবার তেহরান সতর্ক করে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত পুনরায় চালু হবে না। তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রূপরেখার মধ্যে নৌ-চলাচলের অস্থায়ী করিডোর এবং মাইন অপসারণ প্রকল্প আছে।  মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, প্রস্তাবিত রূপরেখাটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি অঙ্গীকার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে অবিচল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রণালির তীরবর্তী দেশ দুটি জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করারও চেষ্টা করছে। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে এ ধরনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে। এর ফলে তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই নিজেদের মতো করে প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

করিডোর হবে, মাইনও সরবে—তবু হরমুজ খুলবে না ইরান

বিশাল তেলবাহী কিকু পাড়ি দিল হরমুজ প্রণালি

গ্রিসের মালিকানাধীন বিশাল তেলবাহী জাহাজ কিকু ২৫ জুলাই বিকেলে কাতারের মেসাইয়েদ তেল রপ্তানি টার্মিনালে পৌঁছায়। ৩০টি জাহাজ একসঙ্গে দেশটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই বিশাল বন্দরে নোঙর করতে পারে। দোহার প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণে এই বন্দরটি। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল বোঝাই করে কিকু চার দিন পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। এটি ছিল ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) শ্রেণির জাহাজ, অর্থাৎ সবচেয়ে বড় ধরনের তেলবাহী ট্যাংকার। ১ হাজার ফুটেরও বেশি এর দৈর্ঘ্য। পারস্য উপসাগর পেরিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি ঘণ্টায় ১৩ নট গতিতে চলছিল, যা এর সর্বোচ্চ গতির কাছাকাছি। এরপর ৩১ জুলাই দুপুর ২টার কিছু পর দুবাই উপকূলের কাছে হঠাৎ কিকু উধাও হয়ে যায়। তার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম–এআইএস ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিল জাহাজটি। এই সামুদ্রিক রেডিও ডিভাইসের মাধ্যমে একটি জাহাজের পরিচয়, গতি, গতিপথ ও অবস্থান জানা যায়। বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক যানবাহন পর্যবেক্ষণকারী ট্র্যাকিং পরিষেবাগুলোর কাছে মনে হলো, কিকু যেন হঠাৎ করেই পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে গেছে। কিন্তু ১ আগস্ট সকাল ১০টায় আবারও কিকুকে খুঁজে পাওয়া গেল। তবে এবার সেটি হরমুজ প্রণালির অন্য পাশে। এটি তেল শিল্পের নতুন কৌশলের অংশ—রাতে ‘ডার্ক’ বা গোপন অবস্থায়, অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারায় হরমুজ প্রণালি পার হওয়া। লক্ষ্য হলো ইরানের ড্রোন হামড়া এড়ানো। এক মাস আগেও কিকুকে একটি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে সেই ড্রোনটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় জাহাজটি রক্ষা পায়। মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানিগুলো এখন এমন তেলবাহী জাহাজ ভাড়া করছে, যেগুলো ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে পারস্য উপসাগর থেকে তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগরে যাচ্ছে। সেখানে অপেক্ষমাণ ক্রেতাদের মালিকানাধীন অন্য ট্যাংকারে তেল তুলে দিয়ে তারা আবার প্রণালি পেরিয়ে ফিরে আসছে। এর ফলে ইরানের হামলার ঝুঁকি ও বিমার অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাণিজ্যিক জাহাজ পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরে গিয়ে পড়ছে মার্কিন সরকার ও তেল উৎপাদকদের ওপর। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতে, এই কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। এটি বিপুল পরিমাণ। ট্রান্সপন্ডার সংকেতের ওপর নির্ভর করা ওয়াল স্ট্রিটের তেল বিশ্লেষক এবং কেপলারের মতো শিপিং ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলো যে পরিমাণ তেল পরিবহনের হিসাব দেয়, তার প্রায় দ্বিগুণ। এই গোপন বা ‘ডার্ক’ যাতায়াত মধ্যপ্রাচ্যের তেল শিল্পের হিসাব-নিকাশই বদলে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন দুই দিনে ওমান উপসাগরে এক ডজনেরও বেশি জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর প্রত্যক্ষ করেছে। এসব তেলবাহী জাহাজ পরে চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশের দিকে রওনা হয়েছে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল একটি কৌশল। তবে আপাতত এটি তেলের বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। যুদ্ধের আপাত সমাপ্তি এবং হরমুজ প্রণালির জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্থায়ী পরিকল্পনা এখনও অধরা। ফলে এই বিকল্প ব্যবস্থা অন্তত কিছুটা সময় কিনে দিচ্ছে। কিকুর সাম্প্রতিক যাত্রার মতো ‘ডার্ক ট্রানজিট’ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটছে। ইরান যুদ্ধ অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে চলছে। গত ছয় মাসে এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত করেছে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। বাণিজ্যিক মজুত থেকে কয়েক বিলিয়ন ব্যারেল তেল ও জ্বালানি উধাও হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত ১৯৮০-এর দশকের শুরুর পর আর কখনও এত কম ছিল না। তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানো ঠেকাতে চীনের বিশাল তেল মজুত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, কিন্তু সেই মজুতও চিরকাল ব্যবহার করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারী ও ভোটাররাও উচ্চ দামের কারণে ধৈর্য হারাচ্ছেন। এই দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদকরা গত কয়েক সপ্তাহে নতুন কৌশলটি ব্যবহার শুরু করেছে। তবে এটি কোনো নিখুঁত সমাধান নয়। হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সরু, কোথাও কোথাও এর প্রস্থ মাত্র ২৩ মাইল। সেখানে লুকিয়ে থাকার জায়গাও খুব বেশি নেই। ট্রান্সপন্ডার বন্ধ থাকলেও রাডারে একটি জাহাজ ধরা পড়তে পারে। চলতি সপ্তাহেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। তারপরও কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজের প্রায় ৮০ শতাংশই ‘ডার্ক’ অবস্থায় চলেছে। এসব জাহাজ ইরানের যতটা সম্ভব দূরে থেকে ওমানের উপকূল ঘেঁষে প্রণালি অতিক্রম করছে। তবে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে কিছু ট্র্যাকিং ডেটায় জিপিএস জ্যামিং হয়েছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই নতুন কৌশল ব্যবহারকারী অনেক জাহাজের মতো কিকুও ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করার এক দিন পর আবার সংকেত দেয়। তখন সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরনগরী ফুজাইরার কাছে নোঙর করা ছিল। ট্রান্সপন্ডার আবার চালু হওয়ার পর কিকু আরেকটি গ্রিক মালিকানাধীন সুপারট্যাংকার নেভ ইলেকট্রনের পাশে নোঙর করে। নেভ ইলেকট্রন তার এক দিন আগে ওমান উপসাগরে পৌঁছেছিল। দুটি জাহাজ সেখানে এক সপ্তাহ পাশাপাশি অবস্থান করে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর করে। ৮ আগস্ট তারা আলাদা হয়ে যায়। নেভ ইলেকট্রন তেলবোঝাই অবস্থায় উপসাগর ছেড়ে আরব সাগরের দিকে যায়। তার গন্তব্য ছিল চীনের নিংবো। অন্যদিকে কিকু ফুজাইরার উপকূলে প্রায় ১৪ আগস্ট পর্যন্ত অবস্থান করে। এরপর আবার সেটি ‘ডার্ক’ হয়ে যায়। পরদিন বিকেল ৪টার কিছু আগে কিকুর সংকেত আবার দেখা যায়। এবার সেটি পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে কাতারের দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন সামরিক পাহারায় এই ‘ডার্ক ট্রানজিট’ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদকদের নতুন কৌশলের সর্বশেষ উদাহরণ। এর মাধ্যমে তারা বিশ্ববাজারে ক্রেতাদের কাছে আরও বেশি তেল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ, কৌশলের দিক থেকে ইরানকেই পাল্টা চাপে ফেলা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ সৌদি আরব। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারে পাঠানোর পরিবর্তে অন্য পথে পাঠাচ্ছে। এই তেল ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদকরা প্রতিদিন আরও ২০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে অন্য পথে পাঠাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও তেল উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিতে। ব্রাজিল, গায়ানা ও ভেনেজুয়েলা মিলিয়ে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি অতিরিক্ত তেল উৎপাদন যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিদিন আরও কয়েক লাখ ব্যারেল তেল বাজারে যোগ করেছে। এ ছাড়া আরও অনেক কম সমন্বিত এবং সামরিক সুরক্ষা ছাড়া ‘ডার্ক ট্রানজিট’ও কয়েক মাস ধরে চলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার জরুরি তেল মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে। এতে দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল মজুত ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চীনও তার বিশাল তেল মজুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। একই সময়ে দেশটি অপরিশোধিত তেল আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দাম বাড়ার কারণে মানুষ ও প্রতিষ্ঠান কম তেল ব্যবহার করছে। এটিও তেলের বাজারে ভারসাম্য আনতে এবং প্রয়োজনীয় ক্রেতাদের কাছে তেল পৌঁছাতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ, বাজার কোনো না কোনো পথ খুঁজে নিচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় বিশ্বের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরাও যে মাত্রার জটিলতা ও নমনীয়তা আশা করেছিলেন, বাস্তবে তেলের বাজার তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল এবং নমনীয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। রাডার ও স্যাটেলাইটের ছবি হরমুজ প্রণালির এমন একটি চিত্র তুলে ধরছে, যা শুধু ট্রান্সপন্ডার ডেটা দেখে বোঝা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৪ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবিতে ওমানের উপকূল ঘেঁষে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বাঁক নিয়ে যাওয়া সারি সারি বিন্দু দেখা যায়। কিন্তু ওই বিন্দুগুলো একই সময়ের জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটার সঙ্গে মেলে না। কারণ ওই ‘বিন্দু’গুলো ছিল এমন জাহাজ, যেগুলো ডার্ক হয়ে গিয়েছিল। আবার ৭ আগস্ট, ট্রান্সপন্ডার ডেটায় দুটি গ্রিক মালিকানাধীন ট্যাংকারকে ওমান উপসাগরে পাশাপাশি দেখা যায়। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, নিসোস কিথনস নামের একটি শাটল ট্যাংকার, যেটি ডার্ক অবস্থায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল, ফ্রন্ট ওত্রার পাশে অবস্থান করছে। ১৪ আগস্ট ফ্রন্ট ওত্রাকে আরব সাগরে তাইওয়ানের দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে নিসোস কিথনস তখন আবার পারস্য উপসাগরে ফিরে গেছে। তবে এই ব্যবস্থা চিরকাল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত প্রায় ১৯০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত কমে গেছে। বাজার যদি আবার ভারসাম্যে ফিরতে পারে, তাহলে পরবর্তী সংকট ঠেকাতে এই মজুতগুলো পুনরায় পূরণ করতে হবে। আর যদি বাজার ভারসাম্যে ফিরতে না পারে, তাহলে মজুত একসময় এত নিচে নেমে যাবে যে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা মেটাতে আর সেগুলোর ওপর নির্ভর করা যাবে না। তখন পরিস্থিতি এমন এক বিন্দুতে পৌঁছাবে, যেখানে চাহিদা আরও কমিয়ে আনার জন্য তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোই হবে একমাত্র উপায়। অর্থাৎ দাম এত বাড়াতে হবে যে মানুষ ও প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে আরও কম তেল ব্যবহার করবে। জ্বালানি বাজারেও ইতিমধ্যে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের চারটি প্রধান রিফাইনিং হাবের মধ্যে তিনটি গুরুতর সংকটে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ওই অঞ্চল থেকে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। আরেকটি বড় জ্বালানি সরবরাহকারী রাশিয়াও ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান আরেক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় মস্কো তার জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। চীনও নিজ দেশে জ্বালানি সংকট এড়াতে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চীন সাধারণত বিশ্ববাজারে একটি বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক। ফলে বৈশ্বিক চাহিদার বড় অংশের চাপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের শোধনাগারগুলোর ওপর পড়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোও চিরকাল সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে গ্যাস, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের চাহিদা এত বেশি, অথচ এগুলো উৎপাদনের জন্য পরিশোধন ক্ষমতা এত সীমিত যে এসব জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। দাম এতটাই বেড়েছে যে অপরিশোধিত তেলের দামের তুলনায় পরিশোধিত জ্বালানির দাম যে মাত্রায় থাকার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি আসছে বলে আশ্বাস দিয়ে তেলের দাম কম রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর পরিকল্পনা বদলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল হলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চেপে ধরা। এর অংশ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ চালিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে একটি ‘দুমড়ে মুচড়ে দেওয়া অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। দাম এখন প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। দুই দেশ যখন যুদ্ধের এমন এক জটিল ও অচলাবস্থার মধ্যে আটকে আছে, যার সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না, তখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই তেলের পাশাপাশি বিশেষ করে গ্যাস, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম অস্বস্তিকরভাবে উচ্চ পর্যায়ে। এর ফলে ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে এবং তাদের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে বাজারের এই সংঘাতকে অন্তত আংশিকভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অসাধারণ সক্ষমতা তেলের দামকে আরও ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে যাওয়া থেকে ঠেকিয়েছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকটগুলোর একটি যে মাত্রায় দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল, বাজারের নানা বিকল্প পথ তৈরি করার ক্ষমতা সেই বিস্ফোরণকে এখনো অনেকটাই ঠেকিয়ে রেখেছে।

বিশাল তেলবাহী কিকু পাড়ি দিল হরমুজ প্রণালি

হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক করবেন সৌদি যুবরাজ ও ম্যাক্রোঁ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুই দিনের সফরে প্যারিসে যাচ্ছেন।  এই সফরে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে দুজনের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে উপসাগরের বাইরে ওমানের বন্দর দিয়ে বাণিজ্য বাড়ানো, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে তেল পরিবহণের পাইপলাইন সম্প্রসারণ বা দ্বিগুণ করা এবং নতুন রেলপথ নির্মাণ। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ম্যাক্রোঁ ও সৌদি যুবরাজ সৌদি-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারত্ব পরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং এর বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক করবেন সৌদি যুবরাজ  ও ম্যাক্রোঁ

‘ছিল, আছে, থাকবে’—হরমুজ নিয়ে ইরানের বার্তা

ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সবসময়ই ইরানের নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে।সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব তাড়াতাড়ি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি এ কথার জবাবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক্সে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এই প্রণালি শুধুমাত্র ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে।তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প বলেছেন ইরান পরাজিত হলে তিনি হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। কোনো টুইট, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে হরমুজ দখল করা যায় না। এখন পর্যন্ত আপনারা যে বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছেন, অন্তত একবার সেই বাস্তবতা স্বীকার করুন।নিউইয়র্কে পুলিশ অ্যাকাডেমির এক সমাবেশে ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ঘোষণা করবেন। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ থামাতে কিছুটা বেশি পেট্রোলের দাম দেওয়া অর্থবহ।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে জানান, ট্রাম্প মূলত রসিকতা করেই ওই কথা বলেছিলেন।এর আগে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দাবি করেছিলেন, হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং মার্কিন নৌঅবরোধ এমন এক ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ তৈরি করেছে যা ইরান ভাঙতে পারবে না। এই দাবিকে ইরানের সামরিক বাহিনী মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় ইরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড ‘খাতাম-আল আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, হরমুজ সম্পূর্ণভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেল ট্যাঙ্কার সেখান দিয়ে নিরাপদে যেতে পারবে না।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভুল হিসাব করছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে এবার তারা আরও বড় ভুল ধারণায় ভুগছে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।

‘ছিল, আছে, থাকবে’—হরমুজ নিয়ে ইরানের বার্তা

হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা

অর্ধ বছর ধরে চলা বিরোধের মধ্যেই ইরানের ওপর শক্তিশালী অর্থনৈতিক আঘাত হানার সাবধানতা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণার কথা জানিয়েছেন তিনি।ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে তেহরানের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে যাচ্ছে। এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, আগামী সপ্তাহেই ইরানের বিরুদ্ধে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এদিকে নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছি।’ তবে তিনি কথাটি কতটা গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিদাবাদি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে তেহরান ভীত নয়। হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখা একান্তই ইরানের নিজস্ব এখতিয়ার। তিনি লেখেন, ‘যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন, ইরান এই অবরোধ অব্যাহত রাখবে। কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী, নির্দেশ বা নির্বাচনী ভাষণের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা যাবে না।’গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান কেপলার। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছে আবুধাবি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।জ্বালানি পরিবহনে এই ব্যাপক বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিনিদের সামান্য বেশি দামে জ্বালানি কেনার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্যই এই মূল্য চোকাতে হচ্ছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর আগে জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক ইরান ঠেকানোর চেয়ে মার্কিনিদের জন্য কম দামে জ্বালানি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নাবিকদের দুর্দশা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ওঠা উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। গত নয় মাস ধরে সাগরে থাকা এই রণতরীর অবস্থা নিয়ে নাবিকদের পরিবার শঙ্কা প্রকাশ করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, এমন কোনো বিষয় নেই এবং এই রণতরীর মোতায়েনকাল ‘যথেষ্ট দীর্ঘ নয়’। তবে রণতরীটি শিগগিরই পরিবর্তন করে সেখানে একই ধরনের অন্য একটি জাহাজ পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।উল্লেখ্য, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে একাধিক নাবিকের সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হাং কাও এক বিবৃতিতে মানসিক অবসাদে ভোগা কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রচারের জন্য গণমাধ্যমকে দুষেছেন।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে গত জুনে হওয়া চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কেবল বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে এটি যুদ্ধ বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। মূলত চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা পুনরায় শুরু করেছে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা

হরমুজ সংকট নিরসনে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন হরমুজ প্রণালিতে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালু করা নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরান চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে। তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনাটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি’।একই সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হরমুজ প্রণালির সংকট মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন। হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট নিরসনে ইরান ও ওমানের এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।তিনি বলেন, যেকোনো সমঝোতা স্মারকে কিছু না কিছু লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এসব লঙ্ঘন মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা উচিত ছিল, লড়াই করার জন্য নয়।অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযানে না গিয়ে দেশটির ওপর ক্রমাগত অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করতে যাচ্ছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন কৌশল নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আপাতত খুব একটা উচ্চবাচ্য করছি না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যকর অবরোধ ইরানের সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের এই চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

হরমুজ সংকট নিরসনে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের নতুন বার্তা

হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে প্রণালিটি খোলার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের চলমান আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।শনিবার (৮ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নিজস্ব কিছু শর্ত ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের কাছে হরমুজ কেবল অর্থনৈতিক নৌপথ নয়; এটি দেশটির ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তিনি আরও জানান, এ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিতে হবে এবং আঞ্চলিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।আইআরজিসির এই মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।এর মাধ্যমে তেহরান বার্তা দিল যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট মিটে যাবে, এমন ধারণাও নাকচ করে দিয়েছে আইআরজিসি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের নতুন বার্তা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার পথে ইরান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার একটি সাধারণ কাঠামো চূড়ান্ত করেছে ইরান। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত খসড়া ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে সমঝোতাটি কার্যকর করতে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র হাসান ঘাশঘাভি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, ওমানের সঙ্গে সমঝোতার সাধারণ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর চূড়ান্ত খসড়া ও বিস্তারিত বিষয়গুলো শিগগিরই জানানো হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্য পরিবহনে এর প্রভাব পড়তে পারে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কয়েক দফা ব্যাহত হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন ব্যয় ও জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাবিত চুক্তি, তা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর বিমা শর্তই এর প্রধান বাধা।রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৩৩টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনার অগ্রগতির দিকে বাজার-সংশ্লিষ্টরা নজর রাখায় জাহাজ চলাচল কমে গেছে।এর আগের দিন প্রণালিটি পার হয় মাত্র চারটি জাহাজ। এর মধ্যে ছিল বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ নিসোস কেয়া, যা ইরাকের বসরাহ থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছিল। বাকি তিনটির মধ্যে দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল এবং একটি ছিল ছোট আকারের বাল্ক কার্গো জাহাজ।কোপ্লারের তথ্য বলছে, চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি থেকে বের হয়েছে। অন্যদিকে, মোট ২১টি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। এদের বেশিরভাগই ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার পথে ইরান
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream