হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার একটি সাধারণ কাঠামো চূড়ান্ত করেছে ইরান। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত খসড়া ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে সমঝোতাটি কার্যকর করতে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র হাসান ঘাশঘাভি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, ওমানের সঙ্গে সমঝোতার সাধারণ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর চূড়ান্ত খসড়া ও বিস্তারিত বিষয়গুলো শিগগিরই জানানো হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্য পরিবহনে এর প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কয়েক দফা ব্যাহত হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন ব্যয় ও জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাবিত চুক্তি, তা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর বিমা শর্তই এর প্রধান বাধা।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৩৩টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনার অগ্রগতির দিকে বাজার-সংশ্লিষ্টরা নজর রাখায় জাহাজ চলাচল কমে গেছে।
এর আগের দিন প্রণালিটি পার হয় মাত্র চারটি জাহাজ। এর মধ্যে ছিল বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ নিসোস কেয়া, যা ইরাকের বসরাহ থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছিল। বাকি তিনটির মধ্যে দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল এবং একটি ছিল ছোট আকারের বাল্ক কার্গো জাহাজ।
কোপ্লারের তথ্য বলছে, চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি থেকে বের হয়েছে। অন্যদিকে, মোট ২১টি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। এদের বেশিরভাগই ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে।
মতামত