দিল্লিতে তালেবানের প্রথম আয়োজন, উপস্থিত ভারতীয়রা
দিল্লির আফগান দূতাবাসে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তিতে প্রথমবারের মতো ‘বিজয় দিবস’ উদযাপন করেছে তালেবান কূটনীতিকরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্তত দুই ডজন বিদেশি কূটনীতিকও অংশ নেন।আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি গত বছরের নভেম্বরে ভারত সফর করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করার পর তালেবান দিল্লির এই দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ভারত সরকার যদিও তালেবান শাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের অধীনে তবুও তালেবান কূটনীতিকদের দিল্লিতে পাঠানোর মাধ্যমে দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেয়।চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মুফতি নূর আহমদ নূর অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান) আনন্দ প্রকাশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এম আবু শাওয়েশ, ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি ছাড়াও রাশিয়া, চীন, ইরিত্রিয়া, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, নাইজার, কাতার, ওমানের প্রতিনিধি এবং ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে সার্বিয়ার কূটনীতিকরা এতে উপস্থিত ছিলেন। তবে পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।ভারতের পতাকার পাশাপাশি মঞ্চে ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের তালেবান পতাকা রাখা হয়েছিল, যদিও দূতাবাসের মূল পতাকাদণ্ডে এখনো পুরোনো আফগান পতাকা উড়ছে। নূর শরিয়াহ আইন প্রয়োগ, দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আফগানিস্তানকে নেতিবাচক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র না বানিয়ে সংযোগ ও সহযোগিতার সেতু হিসেবে দেখতে চায় তারা।ভারত ও আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নূর জানান, সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও কূটনৈতিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় কূটনীতিক স্নেহাদূবেসহ হাতে গোনা কয়েকজন নারী প্রতিনিধি এবং মোট ২০০ জনের মতো অতিথি উপস্থিত ছিলেন। আশরাফ গনি সরকারের সময় নিযুক্ত কূটনীতিকদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও এক তালেবান কূটনীতিক জানান যে তারা সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস