শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
জুলাই জাদুঘরের টিকিট অনলাইনে কাটবেন যেভাবে

জুলাই জাদুঘরের টিকিট অনলাইনে কাটবেন যেভাবে

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘জুলাই জাদুঘর’। সম্প্রতি জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।একসময় এটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন কক্ষ নতুনভাবে সাজিয়ে সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত সামগ্রী, স্মৃতিচিহ্ন এবং আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলিল ও আলোকচিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে গত দেড় দশকের আলোচিত ঘটনাপ্রবাহ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক, গুম ও নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্যচিত্র, ঐতিহাসিক নথি, প্রতীকী কবর এবং বিভিন্ন ভাস্কর্য স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নও প্রদর্শন করা হচ্ছে। শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শোবার ঘরেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে ব্যক্তিগত আসবাবপত্র ছিল, সেখানে এখন আন্দোলনে নিহতদের রক্তাক্ত পোশাক, জুতা, ঘড়ি, কোট, টাইসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে। একই কক্ষে প্রবাসফেরত শহীদ রাজিবের স্মৃতিচিহ্নও রাখা হয়েছে।জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে প্রতীকী কবর। এছাড়া আন্দোলনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানোর দৃশ্য, শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের মুহূর্ত এবং শহীদ ভাইয়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে দুই বোনের শোকাহত অবস্থার ভাস্কর্য বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দক্ষিণ পাশের বারান্দায় থাকা শিশুদের দোলনাটি আগের অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে সেখানে এখন জুলাই আন্দোলনে নিহত শিশুদের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার ব্যবহৃত বাথটাবে আন্দোলনে নিহতদের ছবি এবং তারা কোথায় ও কীভাবে নিহত হয়েছেন, সে-সংক্রান্ত তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে।জাদুঘর পরিদর্শনে আগ্রহীদের আগে অনলাইনে নিবন্ধন করে নির্ধারিত সময়ের প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুলাই তথ্যচিত্র থেকে আবু সাঈদের ছবি-ভিডিও যে কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি সরকারি তথ্যচিত্রকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, চূড়ান্ত সংস্করণ থেকে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ছবি-ভিডিওসহ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্যচিত্রটি অনুমোদনের আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার প্রদর্শন করা হয়। সেই সময় তৎকালীন মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং সচিব মো. আশরাফুল ইসলামের উপস্থিতিতে খসড়া সংস্করণ পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনার সময়ই বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও তথ্য বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা গেছে, প্রথম খসড়া সংস্করণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ছবি-ভিডিও এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার নির্দেশে এসব অংশ সরিয়ে ফেলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগ অনুযায়ী, বাদ দেওয়া অংশগুলোর পরিবর্তে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর প্রতিফলন দেখা যায় ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রদর্শিত চূড়ান্ত তথ্যচিত্রে।তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পর এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাদের দাবি, আন্দোলনের প্রতীকী মুখ আবু সাঈদ এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য বাদ দেওয়ায় তথ্যচিত্রটি ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

জুলাই তথ্যচিত্র থেকে আবু সাঈদের ছবি-ভিডিও যে কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream