ইরান ইস্যুতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ওঠানামা
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধের’ পরিকল্পনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ওঠানামা দেখা গেছে। তেলের দামও একই সময়ে কিছুটা বেড়েছে।
পাশাপাশি সতর্কতা বেড়েছে ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দরপতন এবং চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বাজারে।
তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে গড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, হোয়াইট হাউস ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণা করছে।
এছাড়াও ইরানের সাথে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার আলোচনা থমকে আছে। যুদ্ধে কোনো পক্ষই পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফলে আগস্টের বেশিভাগ সময় তেলের দাম বেড়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে এবং বন্ড বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
সোমবার সাংবাদিকদের বেসেন্ট বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আমাদের লক্ষ্য হলো এই স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখে এমন প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দেয়া, যতক্ষণ না তেহরান পুরোপুরি একঘরে হয়ে পড়ে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনব। এটি এই সরকারের অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ।’
বেসেন্ট জানান, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেবে না, তারাও ইরানের সাথে বিচ্ছিন্নতার ‘অংশীদার’ হবে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে তেহরানের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন খাত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।
সোমবার তেলের দু’টি প্রধান আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের দামই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। বেসেন্টের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর এ দরপতন ঘটে। তবে মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে।
কুইন্টেক্স ইন্টেলের বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিফেন ইনেস বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান তেহরানের বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে। একইসাথে এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, ‘আপাতত তেলের বাজার বিষয়টিকে এভাবেই নিয়েছে।’
এতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে, কারণ তেলের দাম কম থাকলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপও কমে।
তবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে পরিস্থিতি ছিল দুর্বল। ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দরপতনের ধারাবাহিকতায় এশিয়াতেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ দেখা গেছে।
প্রযুক্তি কোম্পানিনির্ভর সিউলের বাজার একপর্যায়ে ২ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং-এর শেয়ারের দর কমে যায়। হংকং, সাংহাই, তাইপে ও ম্যানিলার বাজারও নিম্নমুখী ছিল।
অন্যদিকে টোকিও, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ওয়েলিংটনের শেয়ারবাজারে দর বেড়েছে।
এশিয়ার বাজারের এই দুর্বল পরিস্থিতির মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে এনভিডিয়ার আর্থিক প্রতিবেদনকে পুরো প্রযুক্তি ও এআই বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত দুই বছরে এআই প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর কোম্পানিগুলো সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল দিতে পারবে কি-না, তা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফল করলেও কখনো কখনো তা বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
সূত্র : বাসস