মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে আসা গমের চালান জাহাজ ও শস্য রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে এশিয়ার গম আমদানিকারকেরা বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস থেকে গম কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিচ্ছেন। কারণ, এসব দেশের কয়েকটি তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গম আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী—যার প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের ময়দা ও আটা উৎপাদনকারীদের গম সরবরাহ করে—বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জরুরি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম কেনার বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে যেসব চালান এখনো পৌঁছায়নি, সেগুলোর পরিবর্তে আমদানিকারকরা বিকল্প চালান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বন্দর ও জাহাজে হামলার কারণে শস্য টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গম আমদানিকারকরা সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছেন। রপ্তানি মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে এসে এই পরিস্থিতিতে কয়েক ডজন গমের চালান পাঠানো বিলম্বিত হয়েছে বা বাতিল করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এডিএম গত বুধবার জানায়, ৩১ আগস্ট একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসায় তাদের ইউইপি শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম হোয়াইট গমের জন্য ক্রেতারা প্রতি টনে প্রায় ৩১৫ থেকে ৩৩০ ডলার দাম দিয়েছেন। এই দামের মধ্যে পণ্য ও পরিবহন খরচ, অর্থাৎ কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গমের চুক্তি হয়েছে প্রতি টনে প্রায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলারে। এই দাম আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে পৌঁছানোর কথা থাকা বেশিরভাগ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের চালানের দামের তুলনায় অনেক বেশি। ওই চালানগুলো সাধারণত প্রতি টনে প্রায় ২৬০ থেকে ২৮০ ডলারে বুক করা হয়েছিল। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড বা সিবিওটি-তে গমের বেঞ্চমার্ক ফিউচার জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম সরবরাহে ঘাটতি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর গমের নগদ বাজারের দামও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার সিবিওটির গমের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে ছিল মস্কো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা বন্ধে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম প্রত্যাখ্যান করেছে এমন খবর এবং রাতভর ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানোর ঘটনা। এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম বুক করেছে। এই পরিমাণ এশিয়ার মোট আমদানি চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচলের বিলম্বের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বুক করা গমের একটি অংশ হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে না। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম আমদানি করে। এদিকে, ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে বড় পরিমাণে গম নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ কনটেইনারে করে গম আনার পথও বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়াভিত্তিক দ্বিতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু ময়দা উৎপাদনকারী কনটেইনারে গম আনা পছন্দ করছেন। কারণ তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও কিছুদিন দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা বেশি দামের গমের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে তারা কনটেইনারে করে গম আনছেন।’

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের সামনে ছিল বড় সুযোগ: স্টুয়ার্ট ব্রড

ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড মনে করেন ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দেখানো বাংলাদেশের সামনে ম্যাকাই টেস্টে আরো বড় সুযোগ ছিল। তার মতে, বাংলাদেশ টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানেই গুটিয়ে দিতে পারত।ম্যাকাই টেস্ট নিয়ে ফোর লাভ অব ক্রিকেট পডকাস্টে কথা বলার সময় এমন মন্তব্য করেন ব্রড। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ বড় সুবিধা নিতে পারত। সেই সামর্থ্য বাংলাদেশের ছিলও বলে বিশ্বাস করেন তিনি।টস জিতে বাংলাদেশের আগে বোলিং করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানের মধ্যেই অলআউট করে বড় বিপদে ফেলতে পারত। এটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কারণ উইকেটে বল অনেক বেশি সিম ও মুভ করেছে।’ব্রড অস্ট্রেলিয়ার জয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে, তবে তাদের নিয়েও কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্টার্ক আবারো দুর্দান্ত ছিলেন, বল সুইং করিয়েছেন।’তিবি বলেন, ‘তবে উইকেটে ছিল প্রচুর সিম ও বাউন্স। মনে হচ্ছে, এ বছর উইকেটের চরিত্রে বেশ বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। ফলে দলগুলোকে সব সময় স্পিনারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।’ম্যাকাইয়ের উইকেট নিয়ে নিজের অবস্থান আরো পরিষ্কার করে ব্রড বলেন, ‘আমার মতে, কোনো দল যদি মনে করে ম্যান-টু-ম্যান বিবেচনায় তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো, তাহলে তাদের তুলনামূলক ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা উচিত।’উল্লেখ্য, ম্যাকাই টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২১০ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং আবারো ভেঙে পড়ে—৯৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে ম্যাচ হারে তারা।মাত্র ১২৫ ওভারের মধ্যেই ৩০ উইকেট পড়ে এই টেস্টে। দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক।

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের সামনে ছিল বড় সুযোগ: স্টুয়ার্ট ব্রড

বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়: অজি কোচ

ডারউইনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা দল অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের কাছে শোচনীয় হার মানতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড স্বাগতিকদের নিজস্ব মাঠে এমন অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর নিজের হতাশা ও ক্ষোভ গোপন রাখতে পারেননি। দেশটির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়াতে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এমন বিপর্যয় মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং দল হিসেবে নিজেদের নির্ধারিত মান ধরে রাখতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিং এবং চলমান ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের চেনা কন্ডিশনে মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধির সামনে একপ্রকার ধসে পড়েছিল অজিরা।অজি প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড নিজের দলের এমন ছন্দহীন পারফরম্যান্সে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রানের কম করা প্রমাণ করে দলকে নিজেদের খেলায় অনেক বেশি উন্নতি করতে হবে। প্রথম টেস্টে হারের পর একাদশ ও দল নির্বাচন নিয়ে চতুর্দিক থেকে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠলেও আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। এই কোচ ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা সাজিয়ে এবং প্রয়োজনে একাদশে পরিবর্তন এনে সাফল্য পাওয়ার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যাকাইয়ে আগামী ২২ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া দল। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটি মোটেও সহজ হবে না বলে অকপটে মেনে নিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। বর্তমানে দুর্দান্ত ফরমে থাকা ও আত্মবিশ্বাসে তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশকে হারাতে স্বাগতিকদের শতভাগ সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। সিরিজ হারের বড় লজ্জা এড়াতে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বরূপে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্যাঙ্গারু কোচ।

বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়: অজি কোচ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান। ডারউইনে স্বাগতিকদের হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার দিনই দাপট দেখিয়েছে টাইগাররা। বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের সামনে এমন জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই প্রতিশোধের গল্প লিখল শান্ত-তাসকিনরা। সিরিজে এগিয়ে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল লাল-সবুজ।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ। 

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার

ইরানের নারী ফুটবলার ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ও আতেফেহ রামাজানিসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর দুজনই এটিকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপ চলাকালে কয়েকজন ইরানি ফুটবলার জাতীয় সংগীত পরিবেশন থেকে বিরত থাকেন। পরে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে সাতজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষা চেয়েছিলেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ইরানে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ওঠে।পরবর্তী সময়ে ওই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন ক্ষমা চেয়ে দেশে ফিরে গেলেও ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ও আতেফেহ রামাজানিসাদ অস্ট্রেলিয়ায় থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন।বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন।নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আতেফেহ রামাজানিসাদ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে তিনি গর্বিত এবং এটি তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। ফাতেমেহ পাসান্দিদেহও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তার পর এই স্বীকৃতি তার কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে।রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার কিছুদিন পরই দুই ফুটবলারকে অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ব্রিসবেন রোয়ারের সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখা যায়। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্লাবটি তাদের অভিনন্দন জানায়।ব্রিসবেন রোয়ারের এক কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক মাসে দুই ফুটবলার যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তা খুব কম মানুষকেই মোকাবিলা করতে হয়। তিনি বলেন, কুইন্সল্যান্ড এখন তাদের নতুন ঠিকানা। ভবিষ্যতে তারা চাইলে ক্লাবের হয়ে আবারও মাঠে ফেরার সুযোগ থাকবে।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream