রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান, তিন ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান, তিন ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অনুমোদন ছাড়া ক্ষতিকারক ট্যানারির বর্জ্য মিশিয়ে ভেজাল মৎস্য তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার দায়ে আরও দুই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিন ব্যবসায়ীকে মোট ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের বড়পুকুর পাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি চালানো হয়।

অভিযানকালে অনুমোদন ছাড়া ক্ষতিকারক ট্যানারির বর্জ্য মিশিয়ে ভেজাল মৎস্য ও তৈরির অভিযোগে মেসার্স সুজন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোছা. রিনা আক্তারকে মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০-এর ২০ ধারায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন মৎস্য ও পশুখাদ্য ব্যবসা পরিচালনার দায়ে একই এলাকার মেসার্স লতিফ ট্রেডার্সের মালিক মানিক মিয়াকে ৫ হাজার টাকা এবং বঙ্গ ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক রুবেল হাসানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাঁদেরও একই আইনের ২০ ধারায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ত্রিশাল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না নিয়ে ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে মৎস্য খাদ্য উৎপাদন করে আসছিল। এসব খাদ্য খেলে প্রাণীর শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। ক্যানসারসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আইন অনুযায়ী তাদের জরিমানা করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজনীন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে। মৎস্য ও পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়ে গেছেন। এগুলো পরীক্ষাগারে পাঠালে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেগুলোর কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে, তা জানা যাবে। প্রতিষ্ঠানটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। মালিককে তাঁর প্রতিষ্ঠানে পশুখাদ্য তৈরিতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজনীন সুলতানা ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড এনএসআইয়ের তথ্যে

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান, তিন ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অনুমোদন ছাড়া ক্ষতিকারক ট্যানারির বর্জ্য মিশিয়ে ভেজাল মৎস্য তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার দায়ে আরও দুই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিন ব্যবসায়ীকে মোট ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের বড়পুকুর পাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি চালানো হয়।

অভিযানকালে অনুমোদন ছাড়া ক্ষতিকারক ট্যানারির বর্জ্য মিশিয়ে ভেজাল মৎস্য ও তৈরির অভিযোগে মেসার্স সুজন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোছা. রিনা আক্তারকে মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০-এর ২০ ধারায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন মৎস্য ও পশুখাদ্য ব্যবসা পরিচালনার দায়ে একই এলাকার মেসার্স লতিফ ট্রেডার্সের মালিক মানিক মিয়াকে ৫ হাজার টাকা এবং বঙ্গ ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক রুবেল হাসানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাঁদেরও একই আইনের ২০ ধারায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ত্রিশাল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না নিয়ে ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে মৎস্য খাদ্য উৎপাদন করে আসছিল। এসব খাদ্য খেলে প্রাণীর শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। ক্যানসারসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আইন অনুযায়ী তাদের জরিমানা করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজনীন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে। মৎস্য ও পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়ে গেছেন। এগুলো পরীক্ষাগারে পাঠালে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেগুলোর কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে, তা জানা যাবে। প্রতিষ্ঠানটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। মালিককে তাঁর প্রতিষ্ঠানে পশুখাদ্য তৈরিতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজনীন সুলতানা ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন উপস্থিত ছিলেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream