শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে



ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে
সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি, স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি সঙ্গী হয়েছে বাস্তুচ্যুত জীবনের অনিশ্চয়তা। তবে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও হার না মেনে নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনছেন ফিলিস্তিনিরা। এমন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের অবশিষ্টাংশ ও বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুর পাশে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সহায়তায় আয়োজিত এই গণবিয়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ড্রেস অব জয়-৩’। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গাজা সিটির সমুদ্র উপকূলবর্তী ‘সি ক্লাব’-এ বর-কনে ও স্বজনদের আনন্দ-আবেগের মধ্য দিয়ে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা, ফুল ও লাল ফিতা দিয়ে সাজানো হয় কয়েক ডজন গাড়ি। ধ্বংসস্তূপ ও শরণার্থী তাঁবুর পাশ দিয়ে উপকূলীয় সড়ক ধরে শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছায়। বরদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক, আর কনেরা সেজেছিলেন সাদা পোশাকে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী রঙিন সুচিকর্মের আবরণে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল-ফারিস আল-শাহম-৩ অপারেশন সাপোর্ট কমিটি’ ও ‘সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি চ্যারিটি’র যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মোট ১১ হাজার ৬২২ জন আবেদনকারীর মধ্যে চূড়ান্ত লটারির মাধ্যমে ২৫০ বর ও কনেকে বেছে নেওয়া হয়।

গণবিয়েতে অংশ নেওয়া বর সাঈদ আল-নাজ্জার জানান, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে তাঁদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ইয়েলো লাইনের কাছে একটি তাঁবুতে বসবাস করছেন তারা। আবেগপ্লুত সাঈদ বলেন, “এই আনন্দ শুধু ২৫০ জন বরের নয়, এটি পুরো গাজাবাসীর আনন্দ।”

আরেক বর মুনির আল-তাতারি যুদ্ধে তাঁর মা ও পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছেন। জীবনের বিশেষ দিনে মাকে কাছে না পাওয়ার বেদনা সত্ত্বেও তিনি বলেন, “অবরোধ ও যুদ্ধের মধ্যেও আমরা আনন্দ করব এবং হৃদয়ে আশার সঞ্চার করব।” অন্যদিকে, নতুন ঘর কেনার সামর্থ্য না থাকায় বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে তাঁবুতেই নতুন জীবন শুরু করতে হবে বলে জানান মোহাম্মদ কুওয়াইদি নামের অপর এক বর।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এরবি বলেন, ৫০০ তরুণ-তরুণীর এই বিয়ে যুদ্ধ ও দুর্ভোগের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার প্রবল আকাঙ্ক্ষার একটি মানবিক চিত্র। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও গাজায় জীবন থেমে নেই, এই আয়োজন বিশ্বজুড়ে সেই বারতাই পৌঁছে দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি, স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি সঙ্গী হয়েছে বাস্তুচ্যুত জীবনের অনিশ্চয়তা। তবে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও হার না মেনে নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনছেন ফিলিস্তিনিরা। এমন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের অবশিষ্টাংশ ও বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুর পাশে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সহায়তায় আয়োজিত এই গণবিয়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ড্রেস অব জয়-৩’। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গাজা সিটির সমুদ্র উপকূলবর্তী ‘সি ক্লাব’-এ বর-কনে ও স্বজনদের আনন্দ-আবেগের মধ্য দিয়ে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা, ফুল ও লাল ফিতা দিয়ে সাজানো হয় কয়েক ডজন গাড়ি। ধ্বংসস্তূপ ও শরণার্থী তাঁবুর পাশ দিয়ে উপকূলীয় সড়ক ধরে শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছায়। বরদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক, আর কনেরা সেজেছিলেন সাদা পোশাকে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী রঙিন সুচিকর্মের আবরণে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল-ফারিস আল-শাহম-৩ অপারেশন সাপোর্ট কমিটি’ ও ‘সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি চ্যারিটি’র যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মোট ১১ হাজার ৬২২ জন আবেদনকারীর মধ্যে চূড়ান্ত লটারির মাধ্যমে ২৫০ বর ও কনেকে বেছে নেওয়া হয়।

গণবিয়েতে অংশ নেওয়া বর সাঈদ আল-নাজ্জার জানান, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে তাঁদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ইয়েলো লাইনের কাছে একটি তাঁবুতে বসবাস করছেন তারা। আবেগপ্লুত সাঈদ বলেন, “এই আনন্দ শুধু ২৫০ জন বরের নয়, এটি পুরো গাজাবাসীর আনন্দ।”

আরেক বর মুনির আল-তাতারি যুদ্ধে তাঁর মা ও পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছেন। জীবনের বিশেষ দিনে মাকে কাছে না পাওয়ার বেদনা সত্ত্বেও তিনি বলেন, “অবরোধ ও যুদ্ধের মধ্যেও আমরা আনন্দ করব এবং হৃদয়ে আশার সঞ্চার করব।” অন্যদিকে, নতুন ঘর কেনার সামর্থ্য না থাকায় বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে তাঁবুতেই নতুন জীবন শুরু করতে হবে বলে জানান মোহাম্মদ কুওয়াইদি নামের অপর এক বর।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এরবি বলেন, ৫০০ তরুণ-তরুণীর এই বিয়ে যুদ্ধ ও দুর্ভোগের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার প্রবল আকাঙ্ক্ষার একটি মানবিক চিত্র। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও গাজায় জীবন থেমে নেই, এই আয়োজন বিশ্বজুড়ে সেই বারতাই পৌঁছে দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream