শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৭ অক্টোবর জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘Together, We Can Shape the Future: Advancing Children’s Well-being through a New Japan-Bangladesh Partnership’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নিয়ে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, চিকিৎসা গবেষণা, মানসম্মত শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার আকিকো ইকুইনা উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ-জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দুই দেশের শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. নোবুকো কায়াশিমাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন Friends of WHO Japan-এর প্রেসিডেন্ট ও ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. ইয়াসুহিদে নাকামুরা, SHAPLA NEER-এর প্রেসিডেন্ট ড. মায়ুমি মুরায়ামা এবং বাংলাদেশের Ekmattra Society-এর কো-রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোকি ওয়াতানাবে। আলোচনায় বিশেষ বক্তব্য দেন JICA-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শোহেই হারা এবং রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. ইমাদুল ইসলাম।
আলোচনায় বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, শিক্ষার মান এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। UNICEF-এর Bangladesh MICS 2025-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ। শিশুদের একটি বড় অংশ এখনো সহিংস শাসন, শিশুশ্রম এবং মৌলিক শিক্ষা অর্জনের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি।
সেমিনারে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং শিশু সুরক্ষায় দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা মনে করেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর করতে প্রচলিত দাতা-গ্রহীতা সম্পর্কের পরিবর্তে জ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ভিত্তিতে সমান অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সেমিনারের মূল বার্তা ছিল—শিশুদের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত অঙ্গীকার। আজকের শিশুদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
মতামত