রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনে কঠোর শাস্তির দাবি হেফাজতের


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনে কঠোর শাস্তির দাবি হেফাজতের
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলন বা শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—দুই ধরনের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় বা আপস করা যাবে না বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে সব স্কুল ও মাদ্রাসাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক আচরণ কিংবা শিশু নিপীড়নের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

হেফাজতের বিবৃতি অনুযায়ী, কওমি মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন প্রতিরোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন এবং আগে থেকে কমিটি থাকলে তা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তদন্ত করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই শিক্ষার্থী নিপীড়ন বন্ধ হবে না। কমিটিগুলোকে কার্যকর রাখতে হবে এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা ছাড় দেওয়া যাবে না।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনে কঠোর শাস্তির দাবি হেফাজতের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলন বা শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—দুই ধরনের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় বা আপস করা যাবে না বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে সব স্কুল ও মাদ্রাসাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক আচরণ কিংবা শিশু নিপীড়নের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

হেফাজতের বিবৃতি অনুযায়ী, কওমি মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন প্রতিরোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন এবং আগে থেকে কমিটি থাকলে তা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তদন্ত করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই শিক্ষার্থী নিপীড়ন বন্ধ হবে না। কমিটিগুলোকে কার্যকর রাখতে হবে এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা ছাড় দেওয়া যাবে না।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream