লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নামজারি (খারিজ) নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমিও নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মদাতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিপুল কুমার রায়ের দায়িত্ব পালনকালে সেবা নিতে আসা অনেককে দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন দালাল ও ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের সহযোগিতা নিতে হতো। তাঁদের দাবি, দিন শেষে দালালদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
মদাতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন সাতটি মৌজায় অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির নামজারি নিয়ে একাধিক তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন বাংলা এফএম-এর প্রতিনিধি রাজু মিয়া।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নামজারি মামলা নং ৭২৬৭/২৫-২৬ ও ৫০৮৬/২৪-২৫ এবং কৈতারী মৌজার নামজারি খতিয়ান নং ১০৭৯-সহ কয়েকটি নথিতে ‘ক’ তফশিলভুক্ত জমির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিপুল কুমার রায় স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমে এসব জমির নামজারি করে দেন। এ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় সূত্রগুলো।
সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হাড়ীদল বিলের জমি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জমিটি নিয়ে মামলা ও জটিলতা থাকার পাশাপাশি রেকর্ড ভলিউমে নোট থাকা সত্ত্বেও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের আইনগত ভিত্তি এবং সরকারি স্বার্থের ওপর এর প্রভাব নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিপুল কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি রিটায়ারমেন্টে আছি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।”
এ বিষয়ে মদাতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বর্তমান তহশিলদারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পত্তির অবৈধ নামজারি এবং এ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে মদাতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বর্তমান উপসহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এ বিষয়টি কোন তথ্য জানা নাই । যদি কিছু হয়ে থাকে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতামত