ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না দেওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় অবস্থান নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) রাত আটটার দিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে সরাইল থানায় প্রবেশ করেন এবং রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পূজায় নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি আওয়ামী লীগ চোর ওসি। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।” এছাড়াও তিনি ওসির বিরুদ্ধে এলাকায় মাটি কাটা, ইটভাটা থেকে মাসোহারা নেওয়া এবং দাঙ্গা দমনে বিলম্ব করার মতো বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন, তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।” ওসির মন্তব্যের জবাবে রুমিন ফারহানা জানান, রাজ্জি মূলত আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত একজন নেতা।
থানায় এমপি-র সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুললে ওসি তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন, উক্ত ব্যক্তিকে শেখানো কথা বলতে থানায় আনা হয়েছে। এছাড়া ইটভাটার চাঁদার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এলাকার ইটভাটাগুলো বর্তমানে হাওরের পানির নিচে রয়েছে, ফলে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
পূজার নিরাপত্তা বিষয়ে রুমিন ফারহানা জানান, নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকা ও তাঁর সুরক্ষায় পুলিশী সহযোগিতা পাওয়া তাঁর অধিকার। ওসির আক্রমণাত্মক আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওসি তাঁকে বলেছেন ‘জনগণই নিরাপত্তা দেবে’।
অন্যদিকে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সমগ্র সরাইলে পূজামণ্ডপগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্যের জন্য পৃথক ব্যক্তিগত পুলিশ টিম বরাদ্দ দেওয়া সেই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না। এছাড়া বিপুল সংখ্যক লোক নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও করেন তিনি।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সরাইল উপজেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মতামত