সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ বছরের সামিয়ার, পলাতক পল্লি চিকিৎসক



ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ বছরের সামিয়ার, পলাতক পল্লি চিকিৎসক
ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ বছরের সামিয়ার, পলাতক পল্লি চিকিৎসক

‎শরীয়তপুরের জাজিরায় পিঠের ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে পল্লি চিকিৎসকের ইনজেকশন দেওয়ার পর সামিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন।

‎শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের পাচুখার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সামিয়া একই ইউনিয়নের মেহেরখার কান্দি এলাকার মালয়েশিয়াপ্রবাসী হান্নান ফকির ও লায়লা আক্তার দম্পতির মেয়ে। পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে সামিয়ার মা-বাবা আলাদা থাকছেন। এ সময় সামিয়া তার দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত। হান্নান ও লায়লা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামিয়ার পিঠে ১০ থেকে ১২ দিন ধরে একটি ফোঁড়া ছিল। বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানোর পর ফোঁড়াটি কিছুটা নরম হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে বিলাসপুর ইউনিয়নের পাচুখার কান্দি বাজারে পল্লি চিকিৎসক মনির মাদবরের নুসরাত ফার্মেসিতে নিয়ে যায় তার দাদী কাঞ্চন মালা । সেখানে ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য মনির মাদবর শিশুটিকে পাঁচ থেকে ছয়টি ইনজেকশন দেন। এরপর সামিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎সামিয়ার দাদি কাঞ্চন মালা বলেন, তাঁর নাতনির পিঠে ১০ থেকে ১২ দিন ধরে একটি ফোঁড়া হয়েছিল। বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানোর পর ফোঁড়াটি কিছুটা নরম হলে তাকে মনির মাদবরের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ থেকে ছয়টি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই সামিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাঞ্চন মালা বলেন, ‘ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার নাতনির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমি আমার নাতনির হত্যার বিচার চাই।’

‎অভিযুক্ত মনির মাদবর জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদার কান্দি এলাকার তৈয়ব আলী মাদবরের ছেলে। ঘটনার পর তিনি পলাতক রয়েছেন।

‎সরেজমিনে পল্লী চিকিৎসক মনিরের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী জানান, গতকাল থেকে তার স্বামী বাড়িতে নেই। শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েও মানুষের মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যু কপালে ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‎এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর চিকিৎসাগত সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটির পিঠে একটি ফোঁড়া হওয়ায় সেটি অপসারণের জন্য তাকে এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা হবে।

‎তিনি আরও বলেন, শিশুটির দাদা এ ঘটনায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ বছরের সামিয়ার, পলাতক পল্লি চিকিৎসক

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎শরীয়তপুরের জাজিরায় পিঠের ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে পল্লি চিকিৎসকের ইনজেকশন দেওয়ার পর সামিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন।

‎শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের পাচুখার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সামিয়া একই ইউনিয়নের মেহেরখার কান্দি এলাকার মালয়েশিয়াপ্রবাসী হান্নান ফকির ও লায়লা আক্তার দম্পতির মেয়ে। পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে সামিয়ার মা-বাবা আলাদা থাকছেন। এ সময় সামিয়া তার দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত। হান্নান ও লায়লা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামিয়ার পিঠে ১০ থেকে ১২ দিন ধরে একটি ফোঁড়া ছিল। বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানোর পর ফোঁড়াটি কিছুটা নরম হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে বিলাসপুর ইউনিয়নের পাচুখার কান্দি বাজারে পল্লি চিকিৎসক মনির মাদবরের নুসরাত ফার্মেসিতে নিয়ে যায় তার দাদী কাঞ্চন মালা । সেখানে ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য মনির মাদবর শিশুটিকে পাঁচ থেকে ছয়টি ইনজেকশন দেন। এরপর সামিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎সামিয়ার দাদি কাঞ্চন মালা বলেন, তাঁর নাতনির পিঠে ১০ থেকে ১২ দিন ধরে একটি ফোঁড়া হয়েছিল। বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানোর পর ফোঁড়াটি কিছুটা নরম হলে তাকে মনির মাদবরের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ থেকে ছয়টি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই সামিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাঞ্চন মালা বলেন, ‘ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার নাতনির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমি আমার নাতনির হত্যার বিচার চাই।’

‎অভিযুক্ত মনির মাদবর জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চোকদার কান্দি এলাকার তৈয়ব আলী মাদবরের ছেলে। ঘটনার পর তিনি পলাতক রয়েছেন।

‎সরেজমিনে পল্লী চিকিৎসক মনিরের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী জানান, গতকাল থেকে তার স্বামী বাড়িতে নেই। শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েও মানুষের মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যু কপালে ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‎এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর চিকিৎসাগত সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটির পিঠে একটি ফোঁড়া হওয়ায় সেটি অপসারণের জন্য তাকে এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা হবে।

‎তিনি আরও বলেন, শিশুটির দাদা এ ঘটনায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream