প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ভারতের দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে এসেছে। একদিকে দ্য ট্রিবিউন দাবি করেছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত দিল্লি সফরে যাবেন না তারেক রহমান। অন্যদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধেই তারেক রহমানের দুই দিনের দিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে।
দ্য ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন—শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না দিলে তিনি ভারত সফর করবেন না। এমনকি সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরও হাসিনার প্রত্যর্পণের অগ্রগতির ওপর ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ’ ভাগ নির্ভর করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হলেও শেখ হাসিনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।
হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার পেছনে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে তার সংবাদ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছে দ্য ট্রিবিউন। সেখানে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান।
তবে একই দিনে প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে। সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম ভারত সফর।
সম্ভাব্য দুই দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে তারেক রহমানের। আলোচনায় থাকতে পারে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও দুই দেশের আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু—গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও ট্রানজিট এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের নেতাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। সেই সূত্রেই তারেক রহমানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো তারেক রহমানের ভারত সফর বা ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দিল্লির কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারত অনুরোধ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টি আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়ে আসছে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর এখন শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় সফর নয়—শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর ভবিষ্যৎ সমীকরণও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
দ্য ট্রিবিউনের দাবি সত্যি হলে হাসিনার প্রত্যর্পণই হতে পারে তারেকের দিল্লি সফরের সবচেয়ে বড় শর্ত। আর এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী সফরের প্রস্তুতি চললে, আগামী দিনগুলোতেই স্পষ্ট হবে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন সম্পর্ক কোন পথে এগোচ্ছে।
মতামত