শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পরিবেশ

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল রাসেল ভাইপার উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল রাসেল ভাইপার উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঠ থেকে বিশাল আকৃতির একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ আটক করেছেন স্থানীয় এক কৃষক। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মুন্সিপুর গ্রামের শিমুলতলা মাঠে সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকা থেকে সাপটি আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাপটিকে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য খুলনা বন বিভাগ থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সারে ৪টার দিকে শিমুলতলা মাঠে একটি গাড়ল ভেড়াকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছিল সাপটি। এ সময় বিষয়টি কৃষক হাসানের নজরে আসে। পরে তিনি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সাপটিকে আহত করে আটক করেন। এরপর সেটিকে একটি খাচায় বন্দি করে রাখা হয়। কৃষক হাসান মুন্সিপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে।সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল আকৃতির বিষধর সাপ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাপটি দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে। এ সময় সাপটির আকৃতি ও বিষধর স্বভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড শাহাজামাল ওরফে রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন। রাত ৯টার দিকে সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার) সুরেশ মিস্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কাজে বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এ কারণে সাপটি আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই।অন্যদিকে, জীবননগর ডেপুটি রেঞ্জার শরিফুল ইসলাম কাজল সাপটি রাসেল ভাইপার বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাসেল ভাইপার অত্যন্ত বিষধর সাপ। সাপটিকে নিরাপদে অবমুক্ত করার জন্য খুলনা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে। দলটি সাপটিকে নিয়ে গিয়ে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করবে।সীমান্তবর্তী মাঠে বিষধর রাসেল ভাইপার আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও সাপটিকে নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

সেরা স্বাস্থ্যকর স্থানে ঢল নেমেছে পর্যটকদের; তবে প্রশ্নের মুখে সার্বিক নিরাপত্তা

বাংলাদেশের প্রধান এবং অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী হিসাবে শীতের শুরুতে কক্সবাজারে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে। কক্সবাজারকে বলা হয় দেশের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্যকর স্থান। বছরের প্রতিটি ঋতুতেই লাখ লাখ মানুষ সপরিবারে এখানে ছুটি কাটাতে এবং ক্লান্তি দূর করতে ছুটে আসেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের এই প্রিয় গন্তব্যের সার্বিক নিরাপত্তা ও আবাসন খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের অভিযোগ, কক্সবাজারে আগের সেই চিরচেনা নিরাপদ পরিবেশ এখন আর নেই।সরেজমিনে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জুড়ে পর্যটকদের আবাসন সুবিধার জন্য শত শত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, এর একটি বড় অংশই সরকারি কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে। অনেক ব্যবসায়ী কেবল নিজেদের অতিরিক্ত ফায়দা বা মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিতভাবে এসব স্থাপনা পরিচালনা করছেন। পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কিংবা জরুরি বহির্গমন পথ ছাড়াই এসব হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পর্যটকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।নিরাপত্তা ও নিয়ম না মানার এই চরম উদাসীনতার ফল হিসেবে সম্প্রতি কক্সবাজারের দু-একটি স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডে ভবনে আটকে পড়ে বেশ কয়েকজন পর্যটক ও সাধারণ মানুষ পুড়ে মারা গেছেন। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এবং দুর্ঘটনা কক্সবাজারের ভাবমূর্তি দেশ-বিদেশে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। ফলে, সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—"স্বাস্থ্যকর এই স্থানটি কি সত্যিই আর নিরাপদ আছে?"কক্সবাজারের গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং এই স্বাস্থ্যকর স্থানটিকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিলম্বে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল। এর মধ্যে অন্যতম হলো সরকারি নিয়মনীতি না মেনে যত্রতত্র গড়ে ওঠা লাইসেন্সবিহীন হোটেল ও মোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা। পাশাপাশি প্রতিটি বাণিজ্যিক ভবনে ফায়ার ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত মহড়া ও আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বহুতল হোটেলগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে পর্যাপ্ত ও উন্মুক্ত জরুরি বহির্গমন (Emergency Exit) পথ রাখতে হবে। পর্যটকদের সার্বিক সুরক্ষায় সৈকত ও হোটেল জোনসহ প্রধান প্রধান স্থানগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো এবং পুরো পর্যটন এলাকা ও প্রতিটি হোটেলের চারপাশ ও করিডোর বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে তা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এছাড়া পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য হোটেল রুমের ভাড়া, খাবার এবং অন্যান্য সেবার মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। হোটেল-মোটেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আচরণগত প্রশিক্ষণ দেওয়া ও তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা যেমন জরুরি, তেমনই প্রতি ছয় মাস পর পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে প্রতিটি হোটেলের ফায়ার অডিট চালুকরণ আবশ্যক। পর্যটকদের যেকোনো সমস্যায় তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য সুনির্দিষ্ট এবং সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন বুথ চালু রাখার পাশাপাশি যেসকল হোটেল মালিক সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির ব্যবস্থা করে আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।শীতের শুরুতে কক্সবাজারে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে। পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বিশেষ প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ। প্রধান সৈকতসমূহ (লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, ইনানী) ও মেরিন ড্রাইভে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও স্পেশাল রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন যৌথভাবে ২৪ ঘণ্টা মোবাইল টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে সৈকতে সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক চালু রাখার পাশাপাশি হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত ভাড়া বা হয়রানি রোধে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটার পতাকা দেখে নেওয়া এবং রাতের বেলা অন্ধকার সংযোগ সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ট্যুরিস্ট পুলিশের হটলাইন নম্বরে (০১৩২০১৬০০০০) যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের প্রাণ। এই মহামূল্যবান সম্পদকে রক্ষা করতে এবং পর্যটকদের জীবন ও মালের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পৌরসভা এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সর্বস্তরের জনগণের।

সেরা স্বাস্থ্যকর স্থানে ঢল নেমেছে পর্যটকদের; তবে প্রশ্নের মুখে সার্বিক নিরাপত্তা

আজকের আবহাওয়ায় থাকছে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস

আজ আবহাওয়া সারাদেশে প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে সামান্য কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় উত্তর পশ্চিম বা  উত্তর দিক দিয়ে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৪ শতাংশ। এ ছাড়া, রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও আকাশে সাময়িক মেঘের উপস্থিতি থাকতে পারে।

আজকের আবহাওয়ায় থাকছে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস

নওগাঁর আত্রাইয়ে সম্ভাব্য বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষে আড়াই কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণ

নওগাঁ জেলার  বিলাঞ্চলের  জন্য বিখ্যাত আত্রাই উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ২ হাজার ৫০০  টি তালবীজ রোপণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’  এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।উপজেলার ৫ নম্বর বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী-থলওলমা সেতু থেকে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাছাকাছি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের পাশে এসব তালবীজ রোপণ করা হয়। নওগাঁ জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্টের নিজস্ব অর্থায়নে এবং স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। তালবীজ সংগ্রহে সহযোগিতা করেন বৃক্ষপ্রেমীরা এবং নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুন নবী বেলাল।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. হুমায়ুন কবীর, পিভিএম।তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, বজ্রপাতের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোপণ করা ২ হাজার ৫০০ তালবীজের নিয়মিত তদারকি ও পরিচর্যার জন্য  আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।তিনি তালবীজ সংগ্রহে সহযোগিতার জন্য নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুন নবী বেলালকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিশা ইউনিয়নে পরিবেশের উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫ নম্বর বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি আনসার-ভিডিপির এ উদ্যোগের  ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সড়কের পাশে তালবীজ রোপণের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  রোপণ করা বীজগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় আত্রাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. খুশি খাতুন উপস্থিত ছিলেন। তিনি রোপণ করা বীজগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত রাখার আশাবাদ  ব্যক্ত করেন।এ ছাড়া কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোপণ করা তালবীজগুলো যথাযথভাবে পরিচর্যা করে বড় করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশের উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে সম্ভাব্য বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষে আড়াই কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণ

বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে শুল্ক ফাঁকি চক্রের আগ্রাসী ভূমিকায় একের পর এক আমদানি পণ্য চালান অনায়াসে পাচার হওয়ার ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থপনা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়িক মহল।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নং শেড থেকে ৭ কোটি টাকা মূল্যের উচ্চ শুল্ক মূল্যের দুই ট্রাক সিনথেটিক্স ফেবিক্স, শাড়ী, থ্রিপিস পণ্য চালান শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই বের করে নিয়ে যায় বেনাপোল শুল্ক ফাঁকি ও নো-এন্ট্রি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও বন্দরের শেড ইনচার্জের সাথে বিপুল পরিমাণ অর্থের চুক্তিতে পণ্যচালানটি বন্দরের শেড থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানা ভাবে চেস্টা চালিয়েও পণ্য চালানটি আটক করা যায়নি। পরে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কোতয়ালি থানা পুলিশ পুরান ঢাকার ওয়াইজ ঘাট এলাকার একটি গোউাউন থেকে পণ্য চালানটি আটক করে। এ ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে রাঘববোয়ালরা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেছে। রাঘববেয়ালরা বেনাপোল কেন্দ্রীক সিন্ডিকেটের সদস্য।সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভারত থেকে কাগজপত্রবিহীন তিন ট্রাক পণ্য নিয়ে আসে এ চক্রটি। যা ভারতীয় ট্রাক থেকে খালাস করা হয় বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য চালানটি বন্দর থেকে পাচারের তথ্য পেয়ে এনএসআই বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানান।বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে গিয়ে ভারতীয় তিনটি ট্রাকের পণ্য আটক করেন। ওই পণ্য চালানের বাংলাদেশি চার ট্রাক শাড়ি, থ্রিপিসসহ ফেবিক্স ছিল। যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা এই পণ্য চালানটি দেখভাল করার দায়িত্ব দেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানকে। কিন্তুু বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার মঈন উদ্দিন আরমান শুল্ক ফাঁকিবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিপুল অংকের অর্থ নিয়ে শেডে থাকা চার ট্রাক পণ্যের মধ্যে দুই ট্রাক পণ্য বের করে দেন। সেই পণ্য চালান অবশেষে শুক্রবার গভীর রাতে এনএসমআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে পুরান ঢাকার জব্দ করে পুলিশ। সাত কোটি টাকার মূল্যের দুই ট্রাক পণ্য বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা নিজে বিজিবি-কাস্টমসের যৌথ বাঁশকলে গিয়ে ট্রাক দুইটি আটকের জন্য বলে আসেন। ট্রাক দুইটি হচ্ছে ঢাকা ট্রান্সপোর্টের ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৪৭১ ও আফজাল পার্সেল ট্রান্সপোর্টের ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-০৮৪৭। ট্রাক দুইটি আটকে যশোরসহ বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীকে যশোর এনএসআই এর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও ট্রাক দুইটি আটক করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাক দুইটি আটকের জন্য পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বলেন। একই সাথে এনএসআই এর উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। সারারাত অভিযানের পর পুরান ঢাকার ওয়াইজ ঘাটের সামাদ প্লাজার নিচে অবস্থিত একটি গুদাম থেকে এক ট্রাক (১২০ বস্তা) অবৈধ ভারতীয় কাপড় জব্দ করে পুলিশ। এ সময় সাইফুর রহমান (৩৭), সংগ্রাম হোসেন (৩০) ও বাবু (৩৭) নামে তিন ব্যক্তিকে আটক করে কোতয়ালি থানা পুলিশ। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা কোতোয়ালি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে।এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা বিপুল পরিমানে ভারতীয় কাপড় জব্দ করি। একই সাথে হাতেনাতে তিনজনকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ভারতীয় কাপড় সংগ্রহ, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ করা কাপড়ের উৎস এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।এদিকে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার নেতৃত্বে “তদন্ত, গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা ইউনিট” (আইআরএম) টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দায়িত্ব প্রাপ্ত সহাকরী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানকে অনুপস্থিত থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে তাকে দায়িত্বে না থাকার কারন জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোন সদুউর দিতে না পারায় যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠে। এআরওকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে কাস্টমসের রাজস্ব ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েক ঘন্টা কাজও বন্ধ রাখে তারা।ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর। এখানে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাপ্তরিক কোনো সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।তাঁরা বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কর্মস্থলে কোনো কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সত্য হলে সেটিও প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।এ ব্যাপারে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। যা কিছু বলার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান।বন্দরের একটি সূত্র জানান, বেনাপোল বন্দর হতে পণ্য পাচার ঘটনায় কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানসহ বেনাপোল স্থল বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জড়িত যা সংশ্লিষ্ট মহলের সুষ্ঠ তদন্তে বেরিয়ে আসবে। একই সাথে বন্দরের ৪১ নং শেডে মিথ্যা ঘোষণায় আনা আরো কয়েক কোটি টাকার পণ্য চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও গত আট মাসে ৪১ নং শেড থেকে মিথ্যা ঘোষনা ও জাল-জালিয়াতির কাগজপত্র দিয়ে কি পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য চালান বেরিয়ে গেছে তার তদন্ত শুরু করেছ রাস্ট্রীয় উচ্চ পার্যায়ের একটি গোয়েন্দা দল।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রহুল আমিন জানান, নতুন করে ওঠা অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রবিবার এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে যদি বন্দরের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার কাছে সাংবাদিকরা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি পরে এ নিয়ে কথা বলবেন বলে জানানো হবে।  স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শুল্ক ফাঁকিতে কাস্টমস ও বন্দরের অভিযুক্ত বা সহায়তাকারী সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে বন্দর ও কাস্টমস হাউসের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে এবং একই সাথে এ বন্দর থেকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। 

বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার

দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর সিসিকের নতুন পরিকল্পনায় সিলেট জালালাবাদ সিটি পার্ক

দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর এবার নতুন পরিকল্পনায় পার্কটি সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করর্পোরেশন (সিসিক)। সংস্কারের পর নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক।জানা যায়, ২০০৫ সালে জালালাবাদ পার্কের জায়গায় ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিসিক। পরিবেশবাদী সংগঠন ও নগরবাসীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের দিকে সীমানা নির্ধারণ ও প্রবেশপথ নির্মাণের পর জায়গাটি সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।এরপর পার্কটিকে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিনোদনসামগ্রী স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। একই সময়ে সম্মুখ ভাগে উঁচু দেয়াল নির্মাণ নিয়েও নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত উঁচু দেয়াল পার্কটির উন্মুক্ত পরিবেশ ও দৃশ্যমানতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অবশেষে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আবার সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) নগর ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্কটি  পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর নির্দেশ দেন। নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার সুযোগ রাখা হবে। থাকবে বসার স্থান, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ। একই সঙ্গে পরিবর্তন করা হবে পার্কের প্রবেশপথ ও সীমানাপ্রাচীর।নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পার্কটির এক পাশে সিলেট সার্কিট হাউস, অন্য পাশে জেলা পরিষদ। সামনে ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, পাশেই সুরমা নদী ও আলী আমজাদের ঘড়িঘর। ফলে নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটির গুরুত্ব রয়েছে।সিসিক প্রশাসক বলেন, সাগর দিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যান এবং সুন্দর সময় কাটান। এবার জালালাবাদ পার্কটি  দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার উপযোগী করে পার্কটি সাজানো হবে।তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার বড় প্রশ্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ থেকে শিশু পার্ক একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও পার্কটির স্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। তাই নগরবাসীর প্রত্যাশা, এবার শুধু নাম পরিবর্তন বা  সৌন্দর্যবর্ধন নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ৯৪ শতকের এই উদ্যানকে দীর্ঘ মেয়াদে সচল রাখা হবে।

দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর সিসিকের নতুন পরিকল্পনায় সিলেট জালালাবাদ সিটি পার্ক

সিরাজগঞ্জে পরিবেশ দূষণের দায়ে যমুনা টেক্সটাইলকে লাখ টাকা জরিমানা

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের  যমুনা  টেক্সটাইল লিমিটেড  কারখানাকে পরিবেশ দূষণের দায়ে এক  লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটির বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) সংস্কার ও বর্ধিত করে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। শাহজাদপুর উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফরিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযানের প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ শাহিন আলম।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে উৎপাদিত তরল বর্জ্যের তুলনায় স্থাপিত ইটিপির সক্ষমতা কম। ফলে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য পরিবেশে নির্গমনের মাধ্যমে দূষণ সৃষ্টি করায় কারখানাটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই সঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে ইটিপি বর্ধিতকরণ, সংস্কার ও কার্যকর করে কারখানা পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।এছাড়াও উক্ত অভিযানে তরল বর্জ্য পরিবেশে নির্গমনের জন্য ব্যবহৃত বাইপাস লাইনটি অপসারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইটিপি সংস্কার ও কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে কারখানাটির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।উক্ত অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে শাহজাদপুর থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এবং  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ দূষণ রোধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

সিরাজগঞ্জে পরিবেশ দূষণের দায়ে যমুনা টেক্সটাইলকে লাখ টাকা জরিমানা

বান্দরবানে বন উজাড়ের অভিযোগ: বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বান্দরবানে অবৈধভাবে গাছ কাটার ফলে বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় গাছ কেটে পাচার করছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুয়ালক, রেইছা ও আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে রাতের আঁধারে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে।এলাকাবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অবৈধ এই গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জানতে বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "বন উজাড়ের বিষয়ে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যদি আমাদের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

বান্দরবানে বন উজাড়ের অভিযোগ: বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটে নানা কর্মসূচিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর কিন ব্রিজ এলাকা থেকে সাইকেল র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি  বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা।আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা আক্তার, সিনিয়র সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, পর্যটন করপোরেশন সিলেট ইউনিটের ব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াহিদ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রঞ্জন সামন্ত।সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে পর্যটন খাতেও পরিবর্তন আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার পর্যটন সেবাকে আরও সহজ, আধুনিক ও পর্যটকবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবু তালেব মুরাদ, গোলজার আহমদ হেলাল, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সহসভাপতি হাসান সায়েম, সাধারণ সম্পাদক শেখ রাফি, কোষাধ্যক্ষ শফি উদ্দিন, পর্যটন শিল্প সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ, ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মকসুদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাদি প্রমুখ। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজন শেষ হয়।

সিলেটে নানা কর্মসূচিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

দৌলতপুরে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা ১ লাখ টাকা

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অনুমোদনহীন ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাটের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ড্রেজার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ড্রেজারের পাইপ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চরমাস্তুল হাই স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চরমাস্তুল হাই স্কুলের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার স্থাপন করে মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানকালে অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার করে মাটি ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেলে ড্রেজার মালিক মিজানুর রহমান জুমনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ড্রেজারের পাইপ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস বলেন, জনস্বার্থে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি ভরাটের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৌলতপুরে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা ১ লাখ টাকা

হাইল হাওরে ১৬ ফুটের অজগর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরে মাছ ধরার জালে আটকা পড়া ১৬ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হাইল হাওরের উকুলবেড়ির বিল এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। পরে অজগরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে জেলে রুমন মিয়ার মাছ ধরার জালে অজগরটি পেঁচিয়ে আটকা পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সাবেক ইউপি সদস্য তাহের আলী সব্দরকে জানান। পরে তাহের আলী সব্দর বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সাবেক ইউপি সদস্য তাহের আলী সব্দর ও নৌকার মাঝি হায়েদ মিয়ার সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মাছ ধরার জাল কেটে অজগরটিকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন ২৬ কেজি বলে জানা গেছে।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন,হাইল হাওরে মাঝেমধ্যে অজগর পাওয়ার পেছনে এর ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাইল হাওর শ্রীমঙ্গলের বন ও পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন ছড়া ও খাল দিয়ে অজগর সহজেই জলাভূমি এলাকায় চলে আসতে পারে। এসব সাপ সাধারণত পাখি, ইঁদুর,ব্যাঙসহ বিভিন্ন ছোট বন্যপ্রাণী শিকার করে।পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, হাইল হাওর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও অভয়াশ্রম। এখানে মাছ,জলজ প্রাণী ও পাখির প্রাচুর্য থাকায় অজগরের মতো শিকারি প্রাণীর জন্যও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যায়। হাওরের প্লাবনভূমি, ঝোপঝাড় ও বিলসংলগ্ন এলাকা অজগরের বিচরণ ও শিকারের উপযোগী হওয়ায় মাঝে মাঝে এগুলো হাওর ও আশপাশের কৃষিজমিতে চলে আসে।উল্লেখ্য,শ্রীমঙ্গল উপজেলার অংশে হাইল হাওর মূলত মির্জাপুর ও ভূনবীর ইউনিয়ন এলাকায় বিস্তৃত। উদ্ধার হওয়া অজগরটি পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হাইল হাওরে ১৬ ফুটের অজগর উদ্ধার

সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি

সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগিতে তাড়িয়েছে। শরতের নীল আকাশ কাঁপিয়ে নামছে তীব্র দাবদাহ। আশ্বিনের চেনা স্নিগ্ধ রূপ ছাপিয়ে এক অদ্ভুত ও প্রখর তাপপ্রবাহে পুড়ছে চারপাশ। যে ঋতুতে শিউলি ঝরার আর কাশবনের দোলায় মন জুড়ানোর কথা, সেখানে এক অগ্নিকুন্ড যেন গ্রাস করেছে প্রকৃতিকে। এক দিনের বিরতির পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আবার তাপপ্রবাহ শুররু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের ১৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। এর আগে চলতি মাসে দুই দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আবহাওয়ার অফিস অবশ্য বলেছে, আজ মঙ্গলবার থেকে তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে।রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদি কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি  সেলসিয়াস হয়, তবে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।যেসব জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট ৩৬ দশমিক ৫, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ৩৭ দশমিক ৭, টাঙ্গাইল ৩৬ দশমিক ৮, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৩৬ দশমিক ৫, ঢাকা ৩৬ দশমিক ৭, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৬, ফরিদপুর ৩৭, গোপালগঞ্জ ৩৬ দশমিক ২, কিশোরগঞ্জের নিকলী ৩৬, রাজশাহী ৩৬ দশমিক ৫, ময়মনসিংহ ৩৬ দশকি ৪,  নেত্রকোনা ৩৬, সিলেট ৩৬ দশমিক ১, টাঙ্গাইল ৩৬ দশমিক ৮, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ৩৭ দশমিক ৭, খুলনা ৩৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ৩৬, যশোর ৩৬ দশকি ২, চুয়াডাঙ্গা ৩৭, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ৩৬ দশমিক ১, ফেনী ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।গত মঙ্গলবার দেশের ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এর পরদিন ১১ জেলায় তাপপ্রবাহ ছিল। দুই দিনের বিরতির পর শনিবার আবার তাপপ্রবাহ শুরু হয়। তবে রোববার বৃষ্টি বেড়ে গেলে তাপপ্রবাহ কমে যায়। গতকাল আবার তাপপ্রবাহ শুরু হলো। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, আজ থেকে তাপপ্রবাহের পরিধি কমে আসতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, সাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি সৃষ্টি হয়েছে মূলত উত্তর আন্দামান সাগরে। এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে অধিদপ্তরের সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এটি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের দিকে যেতে পারে। এর প্রভাবে অবশ্য বাংলাদেশের উপকূলে আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে।

সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস

বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’। প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব এই টেকসই উদ্ভিদের প্রসার ঘটাতে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’।বাঁশ কেবল গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী উপাদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বর্তমানে আধুনিক আসবাবপত্র, কাগজ শিল্প, অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ এবং বৈচিত্র্যময় হস্তশিল্পে এর ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে।বিশ্ব বাঁশ সংস্থার (World Bamboo Organization) উদ্যোগে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর এই আন্তর্জাতিক দিবসটি পালিত হয়:২০০৫ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে ১৮ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’ ঘোষণা করা হয়।বাঁশের টেকসই ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা এবং বাঁশভিত্তিক পণ্য ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা।প্রকৃতি ও অর্থনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই পরিবেশবান্ধব এই উদ্ভিদের বহুমুখী অবদান রয়েছে:পরিবেশ সুরক্ষা ও কার্বন শোষণ: বাঁশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল উদ্ভিদ। এটি বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বাঁশকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং হস্তশিল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্প তৈরির এই যুগে বাঁশভিত্তিক নতুন শিল্প গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস

শ্রীমঙ্গলে লামুয়া মেম্বার বাড়ি থেকে বিশাল অজগর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ের একটি বাড়ির আঙিনা থেকে ১৪ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সিরাজনগর লামুয়া এলাকায় কদর আলী মেম্বারের বাড়ির আঙিনায় সাপটি দেখতে পান স্থানীয়রা। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পরে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চাউতলি বিট কর্মকর্তা সুব্রত সরকারও উপস্থিত ছিলেন।উদ্ধারের পর অজগরটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে সাপটি হস্তান্তর করা হয়েছে।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, শ্রীমঙ্গল ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় প্রধানত বার্মিজ অজগর যার বৈজ্ঞানিক নাম Python bivittatus,দেখা যায়। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রক পাইথন (Python molurus)-ও পাওয়া যায়। শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের চা-বাগান ও লোকালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া অজগরের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১২ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।তিনি বলেন,অজগরের শরীরে হালকা বাদামি বা ছাই রঙের ওপর গাঢ় বাদামি কিংবা চকোলেট রঙের বড় বড় ছোপ থাকে। মাথার ওপর তীরের ফলার মতো বা ‘V’ আকৃতির বিশেষ চিহ্নও দেখা যায়। শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক অজগরের ওজন সাধারণত ১৬ থেকে ৪০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, অজগর মূলত ওত পেতে শিকার করা প্রাণী। শিকারকে কামড়ে ধরে শক্তিশালী শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করার পর পুরোটা গিলে খায়। এরা বিষহীন এবং সাধারণত শান্ত প্রকৃতির। প্ররোচিত বা আক্রান্ত না হলে অজগর সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না।তিনি আরও বলেন,বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং খাদ্যের সংকট দেখা দিলে অজগর প্রায়ই চা-বাগান, খামার কিংবা মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে চলে আসে। উদ্ধার হওয়া অজগরটির ওজন ২৩ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট।

শ্রীমঙ্গলে লামুয়া মেম্বার বাড়ি থেকে বিশাল অজগর উদ্ধার

কালীগঞ্জে সরকারী সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সরকারী সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আল আমিন হালদার। এসময় বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল আলম সঙ্গে ছিলেন।জানা যায়, উপজেলার বালীগাঁও গ্রামের মৃত শরৎ চন্দ্র আচার্য্যরে দুই পুত্র সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্য কালীগঞ্জের বালীগাঁও মৌজার সিএস ৩৫৪, এসএ ৩৮৭নং খতিয়ানের এসএ ৭৭৪, ৭৭৬, ৮৬৪, ৮৬৫, ৮০৬, ৮০৫, ৭৭৭, ৮৮৮, ৮৬৬/১২৭২, ৮৭৭সহ বিভিন্ন দাগে প্রায় ৩২০ শতাংশ সম্পত্তি রেখে ১৯৬৫ সালে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। ভারতে তারা নাগরিকত্ব গ্রহণ করে নদীয়ার হরিণঘাটা থানার মহাদেবপুর গ্রামে সহায় সম্পত্তি কিনে বসবাস শুরু করেন। তারা আর কখনোই বাংলাদেশে ফিরে আসেননি। তাদের রেখে যাওয়া উক্ত সম্পত্তি আরএস রেকর্ডে "বেস্টেড এন্ড নন রেসিডেন্ট প্রপার্টি, ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা সদর উত্তর মহকুমা ম্যানেজমেন্ট কমিটি" এর এখতিয়ারভুক্ত হয়। এরশাদ সরকার উক্ত অর্পিত সম্পত্তির একটি অংশে সরকারি খরচে পুকুর খনন করে অপর অংশে আপদকালীন সময়ে জরুরী প্রয়োজনে অবতরণের জন্য হ্যালিপ্যাড নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমিদস্যু চক্র জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন কাগজপত্র সৃজন করে উক্ত সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনস্বার্থে এই সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রীট চলমান আছে এবং দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বালীগাঁও গ্রামের মৃত স্বর্ণকমল আচার্যের পুত্র সুমন আচার্য্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে সরকারি সম্পত্তি থেকে বিভিন্ন গাছপালা ও পুকুর থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত ঘটনাস্থল থেকে এস্বেকভেটরটি জব্দ করে ব্যাটারী খুলে নিয়ে আসে।

কালীগঞ্জে সরকারী সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

রাঙামাটিতে লোকালয় থেকে অজগর সাপ উদ্ধার

রাঙামাটি জেলা সদরের একটি লোকালয় থেকে উদ্ধার করা ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং প্রায় ৮ কেজি ওজনের একটি অজগর সাপ কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত গভীর বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমানের উপস্থিতিতে সাপটি নিরাপদে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।এর আগে সোমবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ফরেষ্টার মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বনকর্মীদের একটি দল রাঙামাটি সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে অজগরটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে সেটিকে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত করা হয়।অজগর অবমুক্ত করার সময় কাপ্তাই বন রেঞ্জের বিভিন্ন বিট কর্মকর্তা ও বন বিভাগের অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটিতে লোকালয় থেকে  অজগর সাপ উদ্ধার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream