ইবিতে হিট প্রজেক্টে নিম্ন মানের তার ব্যবহারের অভিযোগ, বাল্ব টেস্ট নিয়ে গড়িমসি
ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইউজিসির আওতায় হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ইউপিএসের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ‘বাল্ব টেস্ট’ দীর্ঘদিনেও না করায় গড়িমসির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নিম্নমানের তার ব্যবহারের কারণে ক্যাম্পাসের দুটি হলে শর্ট সার্কিটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় রাউটারের পাওয়ার সংযোগে প্রায় ১.৫ বর্গমিলিমিটার (১.৫ mm²) আকারের দুই কোরের ফ্লেক্সিবল তার ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের তার ব্যবহারে অতিরিক্ত লোড পড়লে শর্ট সার্কিটসহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের তার ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শর্ট সার্কিটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে র্যাকের পাওয়ার কেবলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সাইজের তার ব্যবহার করা হলেও নির্ধারিত ভোল্টেজ রেটিং অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ৪৫০/৭৫০ ভোল্ট রেটিংয়ের তার ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ৩০০/৫০০ ভোল্ট রেটিংয়ের তার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ইউপিএস ও ব্যাটারির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ‘বাল্ব টেস্ট’ নিয়েও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। বাল্ব টেস্টের মাধ্যমে ইউপিএস বা ব্যাটারি নির্দিষ্ট লোডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ধরে রাখতে পারছে কি না, তা যাচাই করা যায়।
এ বিষয়ে অপটিমালের পক্ষ থেকে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা আবু সায়েদ বলেন, “নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা দিয়েছি। স্পেসিফিকেশনে ৪৫০/৭৫০ ভোল্টেজ রেটিং থাকার কথা বলা আছে। তবে সেখানে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্ট্রাকশনের কথাও বলা আছে। ইঞ্জিনিয়ার যেটা অ্যাপ্রুভ করবেন, সেটাই দিতে হবে। আমরা কনসালট্যান্টের অনুমোদন নিয়েই সবকিছু পাঠিয়েছি।দেশে যে স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি হয়, সেটাই দেওয়া হয়েছে।”
রাউটারের পাওয়ার কেবলের মান ও শর্ট সার্কিটের অভিযোগের বিষয়ে আবু সায়েদ বলেন, “রাউটারের পাওয়ার ক্যাবলের ব্যাপারে টেন্ডারে কোনো কিছু বলা নেই। শুধু র্যাকের পাওয়ারের বিষয়টি সঠিকভাবে বলা আছে। তারপরও যেখানে যে রাউটার চলবে, তার প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক দেওয়া হয়েছে।”
শর্ট সার্কিটের ঘটনায় অতিরিক্ত লোডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যেখানে শর্ট সার্কিট হয়েছে, সেখানে একটি সুইচ থেকে তিনটি ফ্যান চালানো হয়েছে এবং রাইস কুকারও চালানো হয়েছে। এটা কি রাউটারের জন্য দেওয়া হয়েছিল? রাউটারের কোনো ভোল্টেজ বা অ্যাম্পিয়ার নিয়ে সেখানে কিছু বলা নেই। একটি অ্যাডাপ্টার চালানোর জন্য যতটুকু লোডের প্রয়োজন, ততটুকু ক্যাবল দিলেই চলবে-এভাবেই বলা আছে।”
বাল্ব টেস্ট নিয়ে কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের তানভীর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আলোচনা ও ফরমালিটিজের অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যেই বাল্ব টেস্ট হয়ে যাবে।’
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও রূপান্তর সাধন। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রমকে আরও বেশি উৎসাহিত ও গতিশীল করা হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ গত বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে। হিট প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার অনুদান এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইউজিসি। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে ২ হাজার ৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার এবং ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংক বহন করবে।