সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

প্রথম সড়ক সেতু  রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে । রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সেতুটি পার হতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের’ কাজে ব্যবহার করা হবে। ইউক্রেনের উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য ‘মূলত একটি গোপন সামরিক রসদ সরবরাহ করিডর’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে ‘বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলেছেন। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিশুস্তিন বলেন, সেতুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নে ‘শক্তিশালী গতি’ সৃষ্টি করবে। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সেতুটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিমান যোগাযোগ ও রেলপথ রয়েছে। তবে এত দিন একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো। চলতি বছরের মে মাসে বিবিসির প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির সঙ্গে কয়েকটি নতুন সংযোগ সড়ক, একটি সীমান্ত তল্লাশিচৌকি, সহায়ক অবকাঠামো ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখা যায়। ২০২৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়। ২৪ বছর পর সেটিই ছিল উত্তর কোরিয়ায় পুতিনের প্রথম সফর। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু বিলম্বের পর ৪৯৫ দিনে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে জাহাজে করে ৭ বিলিয়ন থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ট্রুথ হাউন্ডস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির কারণে সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে। সেতুটির মাধ্যমে বিপরীত দিক থেকে রাশিয়ার প্রযুক্তি ও সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় প্রবাহের সুযোগও তৈরি হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালে অনুমতি পাওয়ার পর থেকে সীমিতসংখ্যক রুশ পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় যেতে শুরু করেছেন। উত্তর কোরিয়া তাঁদের রাজধানী পিয়ংইয়ং এবং ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে আতিথ্য দিচ্ছে। অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য দেশটি এখনো প্রবেশের সুযোগ সীমিত রেখেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় রাশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণস্থল ও কাঠ কাটার শিবিরে কাজ করছেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসার আড়ালে রাশিয়ায় প্রবেশ করেন। চলতি বছরের মে মাসে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ভিক্টর চা বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘নির্মাণকাজের গতি দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিমাণের প্রতিফলন।’ ভিক্টর চা বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শ্রমিক সরবরাহের কারণেই মূলত এ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে উত্তর কোরিয়া ও তার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় যোগাযোগগুলোর একটি।’

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে আবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শনিবার রাজধানী কিয়েভজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ভোরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পর রাজধানীর দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য কিয়েভের বাসিন্দারা জানান, বিকট বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, শনিবার কিয়েভের কাছে বোরিসপিল এলাকার তিনটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে আবাসিক ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি ভবনে আগুনও ধরে যায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, একটি ভবন ও একটি জ্বালানি ট্যাংকে লাগা আগুন নেভাতে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন। কিয়েভের গ্যারেজ, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি ভবনে আগুন লাগার ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের দুর্বল হয়ে পড়া আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ক্রমেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হলো। এতে রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা এবং কিয়েভের সেই হামলা ঠেকানোর সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছুটে যায় এবং অত্যন্ত খাড়া পথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার জন্য অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই ইউক্রেনের হাতে থাকা একমাত্র অস্ত্র, যা এসব ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভরযোগ্যভাবে প্রতিহত করতে পারে। তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজেদের শহরগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ইন্টারসেপ্টর তাদের কাছে নেই। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। তিনি এর জন্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে দায়ী করেন। ওই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে জানান তিনি। ইউক্রেন সরকারের উপদেষ্টাদের ধারণা, রাশিয়া এখন মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। আর শীত শুরু হলে মস্কো তাদের আক্রমণ আরও জোরালো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। সর্বশেষ রুশ হামলার সময় ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারও ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করে এমন লজিস্টিকস বা সরবরাহকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হন।

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream