বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ভেনিস থেকে ফিরেই নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেন বাঁধন

ভেনিস থেকে ফিরেই নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেন বাঁধন

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হামলা ও হয়রানির অভিযোগের পর দেশে ফিরেছেন তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিনেত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইতালির পুলিশের ভূমিকা ও সেখানে পাওয়া নিরাপত্তার কথা জানান এই অভিনেত্রী। বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বাঁধন বলেন, যারা আক্রমণ চালাচ্ছেন আমার মনে হয় তারা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ করতে হবে। আমার মনে হয় আক্রমনকারীরা নিজেদের স্থানতাই অনিরাপদ করছে। ইতালিতে যে ঘটনা ঘতেগেছে সেটা আসলে দুঃখজনক। এতে কিন্তু বিদেশের মাতিতে আমাদের নাম ক্ষুণ্ণ হলো।   বাঁধন আরও বলেন, দলকে ভালোবেসে আপনারা এমন করছেন তারা এমন করবেন না। কারণ আপনাদের পরিবার কষ্ট করবে।  দলের নেতারা কিন্তু এটা দেখবে না তারা আরামে আছে ভিডিও বার্তা দিচ্ছে।  এ সময় ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাঁধন জানান, ঘটনার পর তাকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেয়া হয়েছিল। ইতালিতে থাকার সময় স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথাও জানান তিনি। এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে বাঁধন বলেন, সবাই আমাকে হেল্প করলেও আমার টিম আমাকে ত্যাজ্য করেছে এবং ভেনিসে তাদের সঙ্গে থাকতে নিষেধ করেছে! এরপর টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তারা আমাকে বাদ দিয়েছে।  এর আগে ইতালির ভেনিসে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন বাঁধন। ৭ সেপ্টেম্বর রাতে মেস্ত্রে এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকার সময় একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে লক্ষ্য করে হেনস্তা ও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।  বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় বাঁধনের দিকে পানি, কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগও ওঠে।  ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। ঘটনাটির পর বাঁধন স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। ইতালির পুলিশ ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। হামলার অভিযোগের পর বাঁধনের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ও ইতালিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকেও তাকে আইনি ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়।  এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করে। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি জোরালোভাবে তোলার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। ঘটনার পর বাঁধন নিজেও দৃঢ় অবস্থান জানান। তিনি বলেছিলেন, ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন।    বাঁধন তখন ইতালিতে গিয়েছিলেন তার অভিনীত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে।  ৮৩তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো’ অর্জন করেছে বাংলাদেশের রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ও রচিত সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।  চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়ার পাশাপাশি সেখানেই ঘটে যাওয়া হামলার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় চলে আসেন এই অভিনেত্রী।

‘শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপ’—বাঁধনের পাশে মৌসুমী হামিদ

অভিনয়শিল্পী মৌসুমী হামিদ ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, ‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপের,’ বিদেশের মাটিতে বাঁধনের ওপর হামলা ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মৌসুমী হামিদ লেখেন, ‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাও পাপের। কারণ, শিল্পীরাই দেখি সবচেয়ে বড় রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন। কোনো শিল্পীর ওপর হামলাই কাম্য নয়। সেটা ৩২ নম্বরে হোক আর ইতালির ভেনিসেই হোক। ’ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, জীবনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও দেশের ভালো-মন্দ নিয়ে সবসময় কথা বলেছেন। একই সঙ্গে একজন শিল্পী হিসেবে আরেক শিল্পীর পাশে থাকার কথাও জানান তিনি। বাঁধনের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের একাংশের বক্তব্যের সমালোচনা করে মৌসুমী লেখেন, ‘যেসব শিল্পীরা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হওয়া হামলাকে সমর্থন করছেন বা তুলনা করছেন, বলছেন যারা বাঁধনের জন্য কানছে তারা ৩২ নম্বরে হামলার সময় কথা বলে নাই কেন। তাদেরকে বলতেছি, আপনারা যদি মনে করেন ৩২ নম্বরে একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়া হইছে দেখে এখন আর একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়ার অধিকার আপনারা যে রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন তাদের আছে। তাইলে আপনারা কিসের নেতা হবেন, সেটা বুঝা যাইতেছে। আপনেরা দেশের জন্য কি করবেন সেটাও বুঝা যাইতেছে।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aa000ee009d3" ) ); তিনি আরও বলেন, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শিল্পী বা মানুষকে বিচার করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। মানুষের নেতৃত্ব ও মানবিকতার জায়গাটিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মৌসুমী হামিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও মওলানা ভাসানীর মতো নেতাদের উদাহরণ টানেন। পোষ্টের শেষাংশে তিনি লিখেন, ‘শিল্পী হয়ে মানুষকে তার মনুষ্যত্ব দিয়ে বিচার করা ভুলে আমরা শুধুমাত্র দল দিয়ে বিচার করা শিখতেছি, বাহ!’    

‘শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপ’—বাঁধনের পাশে মৌসুমী হামিদ

রাতারাতি খ্যাতি, তারপরই আড়ালে মালিনী শর্মা

রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘রাজ’ সিনেমার মাধ্যমে । বিক্রম ভাট পরিচালিত ২০০২ সালে এই সিনেমায় ডিনো মরিয়ার সঙ্গে তার অভিনয় দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর হঠাৎ করেই তিনি বলিউড থেকে। দীর্ঘদিন পর এই অভিনেত্রী জানান, কেন অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বলছি, অভিনেত্রী মালিনী শর্মার কথা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মালিনী। সেখানে অভিনয়ে আসা ও সিনেমা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ জানান তিনি। মালিনী জানিয়েছেন, অভিনেত্রী হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তার ছিল না। ‘রাজ’-এ অভিনয়ের সুযোগও অনেকটা হঠাৎ করেই এসেছিল। পরে সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিলে সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গে কীভাবে এগোবেন, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে মালিনী লেখেন, ‘অভিনেত্রী হওয়ার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমার কখনো ছিল না। ‘রাজ’ হঠাৎ হয়ে গিয়েছিল এবং আমি পরিস্থিতির সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলাম। সিনেমাটি মুক্তির পর আমার ওপর হঠাৎ করে যে বিপুল আলো এসে পড়ল, তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। তাই একটু ধীর হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’ তবে মালিনী স্পষ্ট করেছেন, তিনি হঠাৎ করে সবকিছু ছেড়ে দেননি। কিছুদিন সিনেমার আড়ালে কাজ করেছেন। পরে সন্তানদের জন্মের পর তার জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যায়। সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, যেভাবে বলা হয় আমি হঠাৎ উধাও হয়ে যাইনি। কিছুদিন ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছি। এরপর আমার জীবনে সন্তানরা আসে এবং তাদের দেখাশোনা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’ অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও মালিনী পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। সিনেমার বাইরে নিজের জন্য নতুন একটি জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। ক্যামেরার পেছনে কাজ করার পাশাপাশি ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামে একটি ব্র্যান্ডও তৈরি করেছেন। সময়ের সঙ্গে ব্র্যান্ডটির কার্যক্রম ও রূপে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সাহ্যাদ্রি পাহাড় এলাকায় বসবাস করছেন মালিনী। সেখানে একটি ফার্মস্টে পরিচালনা করছেন তিনি। অর্থাৎ বলিউডের আলোঝলমলে জীবন থেকে অনেকটাই দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি একটি জীবন বেছে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে ভক্তদের অনেকেই এখনও বড় পর্দায় তাকে দেখতে চান। মালিনী আবার অভিনয়ে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। অবশ্য সম্ভাবনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এক ভক্ত তাঁকে আবার সিনেমায় ফেরার অনুরোধ করলে মালিনী সংক্ষেপে উত্তর দেন, ‘দেখা যাক। ভাগ্যে থাকলে হবে।’ অভিনেত্রী হিসেবে ‘রাজ’ তার জীবনে হঠাৎ আসা একটি অধ্যায় হলেও সিনেমাটির জনপ্রিয়তা তাঁকে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে দেয়। এরপর বলিউড থেকে সরে গিয়ে সন্তান, প্রকৃতি ও নিজের উদ্যোগকে ঘিরে নতুন জীবন বেছে নিয়েছেন তিনি। আবার কখনো অভিনয়ের জগতে ফিরবেন কি না, সেই উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতেই রেখেছেন মালিনী শর্মা। সূত্র: এনডিটিভি

রাতারাতি খ্যাতি, তারপরই আড়ালে মালিনী শর্মা

ভেনিসে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার

বাংলাদেশের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে । রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত সিনেমাটি উৎসবের ৮৩তম আসরের সম্মানজনক ‘অরিজোন্তি’ প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে ভেনিসের পর্দায় ইতিহাস গড়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। শৈশবের স্মৃতি, একটি বিউটি পার্লার ও বিয়েবাড়ির ভীতিপ্রদ গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। প্রায় ২০ বছর ধরে সিনেমাটির ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। শৈশবে পার্লারে শোনা একটি গল্প ও সেই সময়ের কিছু স্মৃতি তাকে দীর্ঘদিন ধরে তাড়া করে ফিরেছে। সেই স্মৃতি থেকেই ঢাকার একটি বিউটি পার্লার, একটি বিয়ে এবং ছোটবেলার এক ভয়ের গল্পকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।  ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর আরেকটি বিশেষত্ব হলো এর নারীনির্ভর নির্মাণদল। আবহ সংগীত ছাড়া চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও প্রোডাকশন ডিজাইনসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রধান ছিলেন নারীরা। এ প্রসঙ্গে পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন বলেন, নারী টেকনিশিয়ানদের দক্ষতা ও কাজের গতি ছিল বিস্ময়কর। নারীরা ভালো সিনেমা বানাতে পারে না এমন ভুল ধারণা ভাঙতে পেরেছে সিনেমাটি।  চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নতুন মুখ জাইনীন চৌধুরী করিম। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খানকে। ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে, জার্মানি ও বাংলাদেশের খনা টকিজের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। চলতি বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সিনেমাটির প্রদর্শনী হবে। আর আগামী বছর বাংলাদেশের দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে পারবেন।  

ভেনিসে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার

পর্দায় কম, সামাজিক মাধ্যমে বেশি নিপুণ

চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার একসময় বেশ আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।  তাকে সবসময় সিনেমায় অভিনয়ের চেয়ে স্যোশাল মিডিয়াতেই বেশ সরব থাকতে দেখা গেছে। যদিও ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি শিল্পী সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিপুণকে বিনোদন জগতের কোন মাধ্যমে দেখা যায় নি। এমন কী স্যোশাল মিডিয়ায়ও এখন তিনি নিরব।  নিপুণের ২০০৬ সালে অভিনীত প্রথম ছবির নাম ‘রত্নগর্ভা মা’, যা আজও মুক্তি পায়নি। তার অভিনীত ‘পিতার আসন’ প্রথম মুক্তি পাওয়া ছবি।  তিনি ২০১৩ সালে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির সাথে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র অভিষিক্ত হন।

পর্দায় কম, সামাজিক মাধ্যমে বেশি নিপুণ

‘আলহামদুলিল্লাহ’—নবজাতককে কোলে নিয়ে পরীমণির পোস্ট

ফের এক ফুটফুটে সদ্যোজাত চিত্রনায়িকা পরীমণির কোলে। তা দেখেই চক্ষু চড়কগাছ ভক্তদের। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে, ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশ করে একটি পোস্ট করেছেন পরীমণি। সেই ছবি পোস্ট করে নায়িকা লেখেন, ‘তিন নাম্বার জন ডান। আলহামদুলিল্লাহ।’ ব্যস!  এদিকে এমন ছবি আর ক্যাপশনের পর নেটিজেনদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি আবার মা হলেন এই অভিনেত্রী? নিজের সন্তানদের তো বটেই, এমনিতেও শিশুপ্রেমী এই চিত্রনায়িকা।  এর আগে বহুবার বলেছেন, একাধিক সন্তানের মা হতে চান; কখনো বলেছেন- ১০০ সন্তানের মা হতে চান। হয়তো এমন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছেন নায়িকা।  চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে বেশ কয়েক বছরের সম্পর্কের পর তাদের ঘরে আসে প্রথম সন্তান শাহীম মোহাম্মদ পূণ্য। এরপর রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ছেলেকে একাই সামলাতে থাকে ‘মা’ পরীমণি। তার বছর কয়েক পর নেন কন্যা সন্তানের দত্তক। নাম রাখেন সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম। বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে একা হাতেই বড় করছেন এই অভিনেত্রী। কাজের পাশাপাশি বাকি সবটুকু সময় সন্তানদের সঙ্গেই কাটান তিনি এবং মাঝেমধ্যেই তাদের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন।  শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, গাড়িতে বসে চোখে রোদচশমা পরে পরিপাটি সাজে আছেন পরীমণি, আর তার কোলে এক শিশু। ছবিটি পোস্ট করার পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে অনুরাগীরা অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি প্রশ্ন তুলছেন শিশুটির পরিচয় নিয়ে। পরে শিশুটির পরিচয় ও ক্যাপশনের সত্যতা জানতে এই অভিনেত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। প্রসঙ্গটি না তুলতেই কলটি কেটে দেন তিনি। ফলে রহস্যময় শিশুটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হতে থাকল। যদিও নেটিজেনদের অনুমান ওখানেই আটকে যে- নতুন কোনো সন্তান দত্তক নিলেন পরীমণি।

‘আলহামদুলিল্লাহ’—নবজাতককে কোলে নিয়ে পরীমণির পোস্ট

দিলারা জামানের নামে ভুয়া ফটোকার্ড, যা বললেন তিনি

দেশের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর উত্তরায় নিজের কেনা ফ্ল্যাটে বাস করছেন। কিন্তু দিলারা জামানের নামে একটি বক্তব্যের ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে অভিনেত্রী বিষয়টি শুনে বিস্মিত ও বিরক্ত হয়েছেন। কারণ, প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে তার বর্তমান জীবনের কোনো মিল নেই। ফলে বিভ্রান্তি দূর করতে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে সমকালকে দিলারা জামান বলেন, ‘বাবার দেওয়া জমিতে ধারদেনা করে বাড়ি করেছিলাম। দেনা শোধ করতে বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলাম, কিন্তু ভাড়ার টাকা পাইনি। একপর্যায়ে ভাড়াটে বাড়ি দখল করে নেয়। এখন ছোট্ট পাখির মতো বাসায় ভাড়া থাকি।’ এই বক্তব্যটি যে পুরোনো ঘটনার অংশ, তা পরে পরিষ্কার করেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে ভিডিও থেকে ফটোকার্ড তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি। দিলারা জামান বলেন, ‘মানুষের মাথা কি নষ্ট হয়ে গেছে! একটু ভেবেচিন্তে, কথা বলে লিখলে তো ভালো হয়। ভালো কাজে যদি মস্তিষ্ক কাজে না লাগে, তাহলে কেমন লাগে! কী আর বলব।’ তাহলে কি তার বাড়ি দখলের ঘটনা একেবারেই ঘটেনি? দিলারা জামানের ভাষ্য, ঘটনা ঘটেছিল, তবে সেটি বর্তমান সময়ের নয়। প্রায় ২২ থেকে ২৩ বছর আগের ঘটনা। অভিনেত্রী জানান, ২০০৩-০৪ সালের দিকে তিনি ঢাকার শ্যামলী এলাকায় থাকতেন। সেখানে ছিল তার পৈতৃক বাড়ি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। একপর্যায়ে বাড়িটি দখলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সে সময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর সেই দখলের পরিস্থিতি আর এগোয়নি। পরবর্তীতে শ্যামলীর সেই বাড়িটি আর তার কাছে থাকেনি। দিলারা জামান জানান, বাড়িটি পরে বিক্রি করে দেন তিনি। ২০০৮ সালে পরিবার নিয়ে উত্তরায় চলে আসেন। সেখানে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে ওই ফ্ল্যাটেই রয়েছেন তিনি। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে দিলারা জামানের। দেশের বাইরে থাকা দুই মেয়ের কাছে মাঝেমধ্যে গিয়ে কিছুদিন থাকেন। তবে আগের মতো নিয়মিত বিদেশে যাওয়া হয় না বলে জানান তিনি। দিলারা জামান বলেন, ‘এখন আর তেমন দেশের বাইরে যাওয়া হয় না। অভিনয় নিয়েই ব্যস্ততা, আর উত্তরার নিজের ফ্ল্যাটেই থাকি।’ প্রায় দুই যুগ আগের একটি ঘটনাকে নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণ নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তার প্রশ্ন, ‘হঠাৎ করে এই ধরনের আজগুবি তথ্য সামনে কীভাবে এল, নিজেই তো অবাক হয়ে গেলাম!’

দিলারা জামানের নামে ভুয়া ফটোকার্ড, যা বললেন তিনি

রূপালি পর্দার নক্ষত্র, রহস্যে ঘেরা বিদায়

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সিল্ক স্মিথা উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার উপস্থিতি রূপালি পর্দায় ছিল দর্শক টানার অন্যতম বড় আকর্ষণ। তবে তার ব্যক্তিজীবন ছিল সংগ্রাম, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নানা অমীমাংসিত প্রশ্নে ভরা। বিশেষ করে মৃত্যুর আগের রাতে করা কয়েকটি ফোনকল আজও রহস্য হয়ে আছে। ১৯৯৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে সিল্ক স্মিথা অভিনেত্রী অনুরাধাকে ফোন করেছিলেন। তাকে নিজের কাছে আসতে বলেছিলেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলার ছিল বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন অনুরাধার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরদিন দেখা করার কথা ছিল দুজনের। একই রাতে অভিনেতা রবিচন্দ্রনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন সিল্ক। তখন শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রবিচন্দ্রন। ফোনে কথা বলার চেষ্টা হলেও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে দুজনের কাছেই পৌঁছায় ভয়ংকর খবর—চেন্নাইয়ের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে সিল্ক স্মিথাকে। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৫ বছর। মৃত্যুর আগের রাতের সেই ফোনকলগুলোতে সিল্ক কী বলতে চেয়েছিলেন, তা আর কখনো জানা যায়নি। তাঁর পরিচিতদের মনে রয়ে গেছে সেই প্রশ্ন। যেভাবে ‘সিল্ক’ হয়ে উঠলেন সিল্ক স্মিথার আসল নাম ভাদলাপতি বিজয়লক্ষ্মী। ১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের কোভালি গ্রামে জন্ম তাঁর। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা বিজয়লক্ষ্মীর পড়াশোনা চতুর্থ শ্রেণিতেই থেমে যায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বয়সে বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বিয়ের দুই বছরের মধ্যেই সেই সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বিজয়লক্ষ্মী। পরে মায়ের সঙ্গে চেন্নাইয়ে চলে যান তিনি। সেখানে একজন অভিনেত্রীর মেকআপ বা টাচ-আপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই কাজ করতে করতেই অভিনয়ের সুযোগ আসে। মালয়ালম পরিচালক অ্যান্টনি ইস্টম্যান তাঁকে ‘ইনায়ে থেডি’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে সুযোগ দেন। তখনই তাঁর নাম রাখা হয় স্মিথা। পরে পরিচালক ভিনু চক্রবর্তী তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। ইংরেজি ভাষা ও নাচ শেখাতেও তাঁকে সাহায্য করেন তিনি। এরপর ১৯৭৯ সালের ‘ভান্দিচক্রম’ সিনেমায় ‘সিল্ক’ নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি সফল হওয়ার পর সেই নামই তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়। বিজয়লক্ষ্মী হয়ে ওঠেন সিল্ক স্মিথা। ৪৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে তামিল, তেলেগু, মালয়ালম, কন্নড় ও হিন্দি ভাষার ৪৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন সিল্ক স্মিথা। বিশেষ করে তাঁর নাচের দৃশ্যগুলো দর্শকদের মধ্যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল। তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে অনেক প্রযোজক সিনেমায় তাঁকে যুক্ত করতেন। তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে তাঁর জন্য তৈরি হয় নির্দিষ্ট একটি পর্দা-ইমেজ। ক্যাবারে নৃত্যশিল্পী, ভ্যাম্প কিংবা আবেদনময়ী নারী—বেশির ভাগ সময় এমন চরিত্রেই দেখা যেত তাঁকে। ফলে অভিনয়ক্ষমতার অন্য দিকগুলো প্রকাশের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম পেয়েছেন তিনি। বালু মহেন্দ্রর ‘মুন্দ্রম পিরাই’ এবং এর হিন্দি রিমেক ‘সদমা’য় তাঁর ভিন্ন সম্ভাবনার কিছুটা দেখা যায়। দুই সিনেমাতেই অভিনয় করেছিলেন শ্রীদেবী ও কমল হাসান। হিন্দি সংস্করণেও নিজের চরিত্রে অভিনয় করেন সিল্ক। মৃত্যুর আগে লেখা চিঠি নিয়েও প্রশ্ন সিল্ক স্মিথার বাড়ি থেকে একটি চিঠি উদ্ধারের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে চিঠিটির বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে, চিঠির কিছু অংশ স্পষ্টভাবে পড়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে এর বিভিন্ন অনুবাদও প্রকাশিত হয়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চিঠিতে অভিনয়জীবনে কঠোর পরিশ্রম, মানুষের সুযোগ নেওয়া, একাকিত্ব, ভেঙে যাওয়া প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার কথা লিখেছিলেন সিল্ক। ‘বাবু’ নামে ডা. রাধাকৃষ্ণনের কথাও সেখানে ছিল বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য মূলত ওই কথিত চিঠির প্রতিবেদিত বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল; স্বাধীনভাবে সব তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। সিল্ক স্মিথার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা হয়। এমনকি তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। তবে হত্যার পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে সিনেমা সিল্ক স্মিথার জীবন ও পর্দার ইমেজ বহু বছর পরও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আকর্ষণ করেছে। ২০১১ সালে বিদ্যা বালান অভিনীত ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ মুক্তির পর সিনেমাটিকে সিল্ক স্মিথার জীবনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে প্রযোজক একতা কাপুর জানিয়েছিলেন, সিনেমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিল্কের জীবন অবলম্বনে তৈরি নয়। তাঁর পরিবারও সিনেমাটির উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে কন্নড় ভাষায় ‘ডার্টি পিকচার: সিল্ক সাক্কাথ হট’ এবং মালয়ালমে ‘ক্লাইম্যাক্স’-এর মতো সিনেমাতেও তাঁর জীবন ও পর্দার ইমেজ উঠে আসে। তবে সিল্ক স্মিথাকে ঘিরে আলোচনায় বারবার সামনে আসে তাঁর আবেদনময়ী পর্দা-ইমেজ ও অকালমৃত্যু। আড়ালে থেকে যায় সেই মেয়েটির গল্প—যার পড়াশোনা চতুর্থ শ্রেণিতেই থেমে গিয়েছিল, মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল এবং নির্যাতনের সংসার ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করতে হয়েছিল। মৃত্যুর আগের রাতে পরিচিত মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন সিল্ক। কী বলতে চেয়েছিলেন, তা আর কখনো জানা যায়নি। সেই অসমাপ্ত কথাই তাঁর জীবনের অন্যতম অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

রূপালি পর্দার নক্ষত্র, রহস্যে ঘেরা বিদায়

দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনেরাহ

সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনেত্রী। তিনি প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেছিলেন ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পেয়ে। ঢালিউডে অভিনয়দক্ষতা দিয়ে দ্রুতই নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নেন এই অভিনেত্রী। তবে এবার আর কেবল দেশের গণ্ডি নয়, তার ক্যারিয়ারে নতুন এক আন্তর্জাতিক মাইলফলক যোগ হতে যাচ্ছে।  তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে অফিশিয়াল সিলেকশন পেয়েছে।  বাংলাদেশের কোনো সিনেমা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বিশ্বের প্রাচীনতম এই উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে ।  এই ঐতিহাসিক অর্জনের অংশ হতে এবং সিনেমার অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে যোগ দিতে খুব শিগগিরই ইতালির ভেনিস শহরের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন সুনেরাহ। ভেনিসের মতো বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মে আমন্ত্রণ পাওয়াকে কেবল ব্যক্তি ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন না সুনেরাহ।  বরং আন্তর্জাতিক এই মঞ্চকে অভিজ্ঞতা অর্জনের এক নতুন ক্ষেত্র মনে করছেন তিনি। বিশ্বচলচ্চিত্রের নামীদামি নির্মাতা, আন্তর্জাতিক তারকা ও সিনেমা বিশেষজ্ঞদের সাথে এক ছাদের নিচে উপস্থিত থাকার এই সফর তার অভিনয় যাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।

দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনেরাহ

শাহরুখই সৌরসেনীর ‘স্বপ্নের পুরুষ’

ভক্তদের ভালোবাসা সবসময়ই একটু বেশিই বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের প্রতি। যে কারও পক্ষেই আবেগ ধরে রাখা মুশকিলই বটে বলিউড বাদশাহর দেখা পেলে। তবে টালিউড অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্রের উচ্ছ্বাস যেন ছাপিয়ে গেছে সবাইকে প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর। আর সেই অনুভুতিই অভিনেত্রী প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের পছন্দ ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খানকে নিজের ‘স্বপ্নের পুরুষ’ বলে উল্লেখ করেন সৌরসেনী। শুধু তাই নয়, অভিনেতাকে নিজের প্রথম ‘ভালোবাসা’ বলেও জানান তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘শাহরুখ খানের নাম শুনেই আমি উত্তেজিত হয়ে পড়ি। শাহরুখকে আমি খুব ভালোবাসি। আমাদের প্রথমবার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখা হয়েছিল। একটা ছবি তুলেছিলাম যেটা আমার বাড়িতে বাঁধানো আছে। ছবিটার সঙ্গে আমি মাঝেমধ্যে কথাও বলি। এর পর মণীশ মালহোত্রের দিওয়ালি পার্টিতে দুবার দেখা হয়েছে। প্রথমবার আমি প্রণাম করলাম আমার ভগবানকে। উনি গাল টিপে আদর করেছিলেন। আমি ওকে সরাসরি বলেছিলাম— ‘স্যার, আমি তো আর মেকআপ তুলব না, স্নানও করব না সাত দিন’। তিনি বলেছিলেন— “দূর পাগল মেয়ে, আরও ভালো কাজ করো! মণীশের কাছে তোমার কথা শুনেছি। আরও উন্নতি কর জীবনে”।’  অভিনেত্রী আরও জানান, অনেকে বলেন, প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করো না, মোহভঙ্গ হতে পারে। আমার ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। শাহরুখের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে ওর প্রতি সম্মান আরও বেড়ে গেছে। প্রত্যেক মানুষকে যে শ্রদ্ধা এবং সম্মান দেন তা সত্যিই শিক্ষণীয়। তার ভাষায়, প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করলে অনেক সময় মোহভঙ্গ হতে পারে -এমন কথা অনেকে বললেও তার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। শাহরুখের সঙ্গে দেখা করার পর তার প্রতি সম্মান আরও বেড়েছে। মাত্র ৯ বছর বয়সে মডেলিংয়ে পা রাখা এই অভিনেত্রী ১৬ বছর বয়সে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন সৌরসেনী। কলকাতার পাশাপাশি বলিউডেও কাজ করেছেন তিনি।  এদিকে সৌরসেনীর মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘নিব্বা নিব্বি’ নিয়েও স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে। বেছে বেছে সিনেমায় কাজ করা এই অভিনেত্রী প্রচলিত নায়িকার চরিত্রের বাইরে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বর্তমানে তিনি সিঙ্গেল রয়েছেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

শাহরুখই সৌরসেনীর ‘স্বপ্নের পুরুষ’

দুই আয়মান অবশেষে এক ফ্রেমে

একজন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান, শিক্ষা ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার আয়মান সাদিক। দেশের দুই জনপ্রিয় তারকার নামের মিলের কারণে অনেকেই মনে করেন তারা বাস্তবের ভাই-বোন।তারা একই পরিবারের সদস্য কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুজনেই প্রশ্নের সম্মুখীন হন। তাদের ফেসবুক পোস্টের নিচেও এ ধরনের প্রশ্নবোধক মন্তব্য হরহামেশা দেখা যায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এই দুই আয়মানের মধ্যে এতদিন সরাসরি দেখাই হয়নি।সোমবার (১৭ আগস্ট) ফেসবুক পেজে সে মুহূর্তের ছবি পোস্ট করেছেন সাদিয়া। পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘যে মানুষটির সঙ্গে আমার নামের কারণে এত গুঞ্জন, অবশেষে তার সঙ্গে দেখা হলো। দুই আয়মান, অবশেষে এক ফ্রেমে।’ দুই আয়মানকে একসঙ্গে দেখে নেটিজেনরাও বেশ খুশি। অবশেষে দেখা হলো। একজন পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আপনারা দুজন ভাই-বোন হয়ে যান’; আরেকজন লিখেছেন, ‘সামনের দুটো দাঁতেও মিল আছে। পুরাই ভাই-বোন লাগে’; অন্য একজনের মন্তব্য, ‘রিউমার আর কী, ভাই-বোনই তো ভাবতাম’। ছবিটি পোস্ট করার পর মুহূর্তেই ঝড় তুলেছে ফেসবুকে। সাদিয়ার পোস্টে ২০ মিনিটেরও কম সময়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে ৪ হাজার। মন্তব্য শতাধিক। বোঝাই যাচ্ছে, দুই আয়মানকে ঘিরে নেটিজেনদের আগ্রহ কতটা প্রবল।

দুই আয়মান অবশেষে এক ফ্রেমে

মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার মৃত্যুতে গ্রেপ্তার প্রেমিক

অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করা হয়েছে রাজধানীর ভাটারা থানায়। মামলায় আসামি করা হয়েছে তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে । একইসঙ্গে হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ডিএমপির ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।তিনি জানান, অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার মা গতকাল বাদী হয়ে একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে অভিনেত্রীর প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে। তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি এবং আদালতে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, আজ সকাল ৬টার দিকে রিধিকে উদ্ধার করা হয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে। পুলিশ খবর পেয়ে  ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পাই। বর্তমানে রিধির পরিবারের সদস্যরা থানায় আছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজনের সঙ্গে রিধির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করে। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের বিষয়গুলো জানতে তদন্ত চলছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।রিধিকা রিধি মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে অভিনয়েও নিয়মিত কাজ করেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন এই অভিনেত্রী। রিধির অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’ উল্লেখযোগ্য।

মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার মৃত্যুতে গ্রেপ্তার প্রেমিক

হঠাৎ ফেইসবুকে আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রভা

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে স্যোশাল মিডিয়াতে সবসময় বেশ সরব থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন সময় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ভাবনা শেয়ার করে থাকেন।  সম্প্রতি এক আবেগঘন পোস্টে তিনি সম্পর্ক ভাঙন, মানসিক শান্তি এবং আত্মসম্মানের গুরুত্ব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। সম্পর্ক থেকে সরে আসা মানেই কারো ওপর থেকে আশা ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং এটি নিজের কাছে কঠিন সত্যকে গ্রহণ করা। একসময় যে সম্পর্কটি জীবনে অনেক গুরুত্ব বহন করত, তা-ই যদি আজ নিজেকে ভেতর থেকে ভেঙে চুরমার করে দেয়, তবে সেই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রভা লেখেন, ‘ভালোবাসার মূল্য কখনোই আপনার মানসিক শান্তি, পরিচয় কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য খোয়ানোর বিনিময়ে হতে পারে না। যারা শুধু নিজের প্রয়োজনেই পাশে আসে, তারা আপনার উপকারে না আসলেও নিঃশেষ করে দেয়। আবার পরিবারের এমন কেউ থাকেন, যারা সীমা লঙ্ঘন করেন, আবার কেউ আছেন পাশে থাকার পরেও আপনাকে একাকী অনুভব করান। এমন পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে এই আশায় মানুষ চেষ্টা চালিয়ে যায়, যতক্ষণ না একদিন সে আবিষ্কার করে এই প্রক্রিয়ায় সে নিজেই হারিয়ে যাচ্ছে।’ পোস্টে প্রভা বলেন, ‘জীবন থেকে সবকিছু সরিয়ে নেওয়া কোনো নির্মমতা নয়, বরং এটি একটি সাহসিকতার পরিচয়। মিথ্যা ভান করার চেয়ে সত্যকে বেছে নেওয়া এবং নীরব যন্ত্রণার চেয়ে আত্মসম্মানকে অগ্রাধিকার দেওয়াটা জরুরি। অনেকে বলতে পারে যে মানুষটি বদলে গেছে, কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারে না যে কাউকে জীবন থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে না, বরং এটি শেষ পর্যন্ত নিজেকে বাঁচানোরই একটি সিদ্ধান্ত।’ প্রভা শেষাংশে উল্লেখ করেন, ‘যেখানে প্রতিনিয়ত আঘাত পাওয়া যায় সেখানে কখনো নিরাময় সম্ভব নয়। যে পরিবেশ আপনার মানসিক পরিসরকে সংকুচিত করে, সেখানে কখনো বেড়ে ওঠা যায় না। তাই সম্পর্ক বা পরিস্থিতি থেকে সরে আসা মানেই কাউকে পরিত্যাগ করা নয়, বরং এটি নিজের আত্মমর্যাদা ফেরত পাওয়ার পথ। মাঝে মাঝে কোনো কিছু ছেড়ে দেওয়াটাই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী প্রকাশ হতে পারে।’

হঠাৎ ফেইসবুকে আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রভা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream