বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

ঘরে বসেই অনলাইনে মিলবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা

ঘরে বসেই অনলাইনে মিলবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা

ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা পেতে এখন থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে। সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা সরকারি ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় ১৯টি মৌলিক সেবার বিপরীতে তৈরি করা হয়েছে ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফর্ম। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা পেতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে গিয়ে আবেদন জমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল, ফি পরিশোধ ও সনদ সংগ্রহ করতে হতো। একটি সেবা পেতেও একাধিকবার যাতায়াতের প্রয়োজন হতো। এতে নাগরিকদের সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এই ভোগান্তি কমাতে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি নাগরিক সেবা মাইগভ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। পাইলট কার্যক্রম সফল হওয়ার পর বাকি ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মার্চে তিনটি সেবা বিশ্লেষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। কর্মশালায় ৬৩ ধরনের নাগরিক সেবা পর্যালোচনা করে ডিজিটালাইজেশনের জন্য ১৯টি মৌলিক সেবা চিহ্নিত করা হয়। এসব সেবার জন্য বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে ব্যবহারের উপযোগী ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফর্ম তৈরি করা হয়। পরে ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে সাতটি অঞ্চলভিত্তিক যাচাই কর্মশালার মাধ্যমে আবেদন ফর্ম, সেবা ফি, সেবা প্রদানের কার্যপ্রবাহ ও টেমপ্লেট যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসারসহ ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাইগভ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া সেবাগুলোর মাধ্যমে নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফি পরিশোধ এবং কিউআর কোডযুক্ত সনদ বা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও সেবা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার সুযোগও থাকবে। অন্যদিকে, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলো একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, যাচাই, তদন্ত, প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবে। এতে দাপ্তরিক কাজে গতি বাড়ার পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমানো এবং সেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি সেবা সহজীকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেটা সেন্টার ছাড়াই প্রতিলিপি বানাবে এআই, হয়ে উঠবে ভয়ংকর ‘ওয়ার্ম’

জীববিজ্ঞানে ‘পার্থেনোজেনেসিস’ (Parthenogenesis) নামে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, যার সহজ অর্থ হলো—সঙ্গী বা পুরুষ প্রাণীর সাহায্য ছাড়াই সন্তান জন্ম দেওয়া। গ্রিক ভাষায় এর অর্থ ‘কুমারী জন্ম।’ এই প্রক্রিয়ায় অনিষিক্ত ডিম্বাণু সরাসরি ভ্রূণে পরিণত হয়। কিছু কিছু উদ্ভিদ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে এটি দেখা যায়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এটি জৈবিকভাবে ‘জীবিত’ নয় এবং এর কোনো সঙ্গীও নেই। তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এর নিজে থেকে সন্তান তৈরি করা বা নিজের প্রতিলিপি (অনুলিপি) তৈরি করার কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই পরিস্থিতি এখন বদলে যেতে পারে। এআই গবেষণার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে, তাদের এআই মডেলগুলো খুব শিগগিরই ডেটা সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই নিজের অনুলিপি তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে। এর অর্থ হলো, কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই একটি এআই মডেল নিজে থেকেই এক কম্পিউটার, সার্ভার বা ইন্টারনেটযুক্ত যন্ত্র থেকে অন্য যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারবে—যা অনেকটা কম্পিউটার ‘ওয়ার্ম’ বা ভাইরাসের মতো কাজ করবে। অ্যানথ্রপিকের গবেষক উইলিয়াম ঝু এবং ড্যানিয়েল ফ্রিম্যান এক ব্লগে লিখেছেন, ‘আমাদের গবেষণা বলছে যে, ছোট আকারের এআই মডেলগুলো হয়তো আর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বাণিজ্যিক ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) যন্ত্রগুলোতে—যেমন স্মার্ট ওভেন বা অ্যান্ড্রয়েড টিভি বক্সে—নিজের প্রতিলিপি নিজে তৈরি করে ছড়িয়ে পড়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করে ফেলবে।’ তাঁরা আরও সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের এআই ছড়িয়ে পড়লে তা বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন হবে। কারণ, এগুলো বন্ধ করার মতো কোনো একক বা কেন্দ্রীয় পয়েন্ট থাকবে না। আরও ভয়ের বিষয় হলো, এটি এক ধরনের এআই মালওয়্যারের রূপ নেবে এবং নিজে থেকেই নতুন বা অপরিচিত যন্ত্রের গঠন বুঝে নিতে পারবে। এআই হতে পারে আগামী দিনের ক্ষতিকর কম্পিউটার ‘ওয়ার্ম’ কম্পিউটার সিস্টেমের জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার জন্য তৈরি প্রোগ্রাম বা ‘ওয়ার্ম’-এর মতো আচরণ করার ক্ষমতা রয়েছে এআইয়ের। আধুনিক সাইবার ওয়ার্মগুলো নেটওয়ার্কে ঢোকার রাস্তা খোঁজে, সিস্টেমের দুর্বলতা স্ক্যান করে এবং এক যন্ত্র থেকে অন্য যন্ত্রে লাফিয়ে চলে। এই দ্রুত অনুলিপি তৈরির প্রক্রিয়াটি কম্পিউটারের মেমোরি, প্রসেসর, ডিস্ক স্পেস ও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ দ্রুত শেষ করে ফেলে। ফলে কম্পিউটার ধীরগতির হয়ে যায়, সিস্টেম ক্র্যাশ করে, এমনকি পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। ভাইরাসের ও ওয়ার্মের পার্থক্য হলো—ভাইরাস ছড়াতে মানুষের সামান্য হলেও সহায়তার প্রয়োজন হয় (যেমন কোনো ম্যালওয়্যার ফাইল ডাউনলোড করা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা)। কিন্তু ওয়ার্ম ছড়াতে মানুষের কোনো সহায়তার দরকার হয় না; এটি নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজে থেকেই ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য একটি শক্তিশালী ওয়ার্ম ভাইরাসের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। এটি মাত্র কয়েক মিনিটে হাজার হাজার কম্পিউটার অচল করে দিতে পারে। একটি এআই-চালিত কম্পিউটার ওয়ার্ম সাধারণ ওয়ার্মের চেয়েও বহুগুণ বিপজ্জনক। কারণ, এটি নির্দিষ্ট বা বাঁধাধরা কোডের ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার আক্রমণের ধরন বদলাতে পারে, আগের আক্রমণ থেকে শিক্ষা নিতে পারে এবং বিভিন্ন যন্ত্রের নির্দিষ্ট দুর্বলতা অনুযায়ী নতুন কৌশল তৈরি করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ ধরনের এআই ওয়ার্ম ছড়িয়ে পড়ার সময় নিজের মেমোরি বা ওয়েট (weights) সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে পারে (অথবা কোনো পাবলিক হাব থেকে আবার ডাউনলোড করে নিতে পারে) এবং আক্রান্ত হার্ডওয়্যারে সরাসরি কাজ করতে পারে। সহজ কথায়, এআইয়ের মূল অংশটাই এই মালওয়্যারের ক্ষতিকর উপাদানে পরিণত হবে।’ গবেষকেরা আরও জানান, এই এআই ওয়ার্মগুলো কম নিরাপত্তাবিশিষ্ট আইওটি যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে, নতুন হার্ডওয়্যারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রচলিত ম্যালওয়্যারের মতো কেন্দ্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর না করায় এই ছড়িয়ে থাকা এআই সিস্টেমগুলোকে বন্ধ করা খুবই কঠিন হবে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সকেপের সমাধান বিশেষজ্ঞ জন কারবেরি বলেছেন, ‘নিজে থেকে অনুলিপি তৈরি করা সফটওয়্যার কিন্তু নতুন কিছু নয়।’ এমন অনুলিপি তৈরি করা প্রথম সফটওয়্যার ছিল ১৯৮৭ সালের ‘ক্রিসমাস ট্রি’ ওয়ার্ম, যা বানিয়েছিলেন এক জার্মান প্রোগ্রামার। সেটির উদ্দেশ্য ক্ষতিকর ছিল না—এটি কেবল কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে ব্যবহারকারীদের শুভ বড়দিন ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাত এবং ক্রিসমাস ট্রির একটি ছবি দেখাত। তবে তখনকার সাধারণ কম্পিউটার ব্যবস্থাগুলোর জন্য এটি ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। এর পরের বছরই আসে ‘মরিস ওয়ার্ম’, যা আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যায়। ইন্টারনেট ব্যবস্থার শুরুর দিকে ভয়াবহ ক্ষতির কারণে একে ‘দ্য গ্রেট ওয়ার্ম’ বলা হতো। এটি হাজার হাজার কম্পিউটার অচল করে দেয় এবং এতে প্রায় ১ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। এর সৃষ্টিকর্তা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রবার্ট তাপ্পান মরিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘কম্পিউটার ফ্রড অ্যান্ড অ্যাবিউজ অ্যাক্টের’ অধীনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি হন। (পরবর্তীতে মরিস ‘ওয়াই কম্বিনেটর’ নামে একটি বিখ্যাত স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হন এবং বর্তমানে তিনি এমআইটি-র কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক।) কারবেরি বলেন, ‘অ্যানথ্রপিকে গবেষণা দেখায় যে, এআই ঘরের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রগুলোতে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর অর্থ হলো, ঐতিহ্যবাহী উপায়ে মূল সুইচ বন্ধ করে এই সংক্রমণ রোখা যাবে না। কাল্পনিক এআই নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উচিত যন্ত্রগুলোর নেটওয়ার্ক আলাদা রাখা, অননুমোদিত ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা এবং ডিফল্ট পাসওয়ার্ড বদলে ফেলা।’ এআই এখনই না পারলেও খুব শিগগিরই নিজে থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারবে বর্তমানে পরীক্ষা করা আইওটি হার্ডওয়্যারগুলোতে এআই মডেলগুলো এখনো পুরোপুরি সফলভাবে অনুলিপি তৈরি করতে পারছে না। তবে আর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই ক্ষমতা চলে আসতে পারে। এই ধরনের বিপদকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এআই কী পরিমাণ ক্ষতি করতে পারে, তা নিয়ে এটি নতুন এক সতর্কবার্তা। ব্ল্যাক হিলস ইনফরমেশন সিকিউরিটির মালিক জন স্ট্র্যান্ড বলেছেন, ‘আমরা এখন পুরোপুরি সায়েন্স ফিকশনের যুগে বাস করছি। দুঃখের বিষয় হলো, এটা কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, সত্যি।’ গবেষকেরা বহু বছর ধরেই নিজে থেকে অনুলিপি তৈরি করা ওয়ার্ম ও বটনেট নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০১২ সালে এক অজ্ঞাত হ্যাকার ‘কার্না বটনেট’ (Carna botnet) তৈরি করেছিল। সাইবার নিরাপত্তা খাতের মূল চিন্তার বিষয় হলো এর ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা। এআইয়ের বিশেষত্ব হলো—এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত দুর্বলতার ওপর নির্ভর না করে নিজে থেকেই সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে, তা আক্রমণ করে এবং অন্যান্য যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্ট্র্যান্ড বলেন, ‘সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ছোট এআই মডেলগুলোর ক্ষমতাও বড় বড় অত্যাধুনিক মডেলের মতোই। এগুলো শুধু কাজ করতে একটু বেশি সময় নেয়। তাই অন্তত ১২৮ গিগাবাইট মেমোরির সিস্টেমে চলা ছোট মডেলগুলোকেও সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এরা দ্রুত না হলেও নিরাপত্তা কর্মীদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ইন্টারনেট অব থিংস কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে এআই মডেলের নিজে থেকে অনুলিপি তৈরি করার ক্ষমতা এক অভূতপূর্ব ও অপ্রত্যাশিত হুমকি। তবে এই বিপদ শুধু কম্পিউটার বা ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়বে। রিজ সিকিউরিটি টেকনোলজির কারিগরি পরিচালক ড্যারিন ফ্রেডি জানান, এত বছর সবাই ভেবেছে স্মার্ট টিভি শুধু সিনেমা বা নাটক দেখার পরামর্শ দেবে। কিন্তু ভবিষ্যতে এই স্মার্ট টিভিই হয়তো বড় কোনো সাইবার আক্রমণের অংশ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্ন এটা নয় যে—এআই নিজে ছড়িয়ে পড়তে পারে কিনা, বরং প্রশ্ন হলো এটি কোনো যন্ত্রে ঢুকে পড়ার পর কী করতে পারে? এটি কি অন্য যন্ত্র খুঁজে বের করতে পারবে? নিরাপত্তা প্রাচীর ভাঙতে পারবে? এবং কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে পারবে?’ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত দৈনন্দিন যন্ত্রগুলোতে (আইওটি) এআইয়ের এই নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা নতুন নিরাপত্তা ও আইনি ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ এগুলো ডেটা সেন্টারের ওপর নির্ভর না করেই পুরো নেটওয়ার্ককে আক্রমণের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলতে পারে। কারবেরির মতে, ‘আমরা চার দশক ধরে নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত করেছি, আর এখন সেই বিপজ্জনক ওয়ার্মকেই মিটিং রুমের স্মার্ট ডিসপ্লের মাধ্যমে ঘরে ডেকে আনছি।’ আমরা কি অজনা প্রযুক্তির ভয়ে বেশি আতঙ্কিত? প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি না বুঝে অতিরিক্ত ভয় পাচ্ছি, নাকি এই হুমকি সত্যিই মারাত্মক? সুজু ল্যাবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিভেন সুইফ্ট বলেন, ‘এআই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে বা হ্যাক করে ছিটকে বের হয়ে যাবে—এমন অনেক ভয় দেখানো হয়। তবে অ্যানথ্রপিকের এই গবেষণাটি মূলত আইওটি যন্ত্রের বাস্তব ঝুঁকিকে সামনে এনেছে, কারণ এসব যন্ত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় থাকেই না। ফলে এগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।’ সুইফ্ট আরও বলেন, ‘নিজের অনুলিপি তৈরি করা নতুন কিছু নয়, একে আমরা ওয়ার্ম বলি। এআই-চালিত ওয়ার্ম মূলত সাধারণ ওয়ার্মের মতোই, যা অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে এআইয়ের মেমোরি বা ফাইল ডাউনলোড করে নিজের মতো প্রম্পট তৈরি করে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।’ প্রথমদিকের ওয়ার্ম আক্রমণের পর থেকে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এসব হুমকি মুছে ফেলতে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। আধুনিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা এখন অনেকটাই সুরক্ষিত। তবে সমস্যা হলো, আমরা এখনো বাজারে এমন অনেক স্মার্ট যন্ত্র ছাড়ছি যেগুলোতে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব যন্ত্র ব্যবহারকারীর অজান্তেই বড় ধরনের আক্রমণের হাতিয়ার বা ‘বটনেট’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ডেটা সেন্টার ছাড়াই প্রতিলিপি বানাবে এআই, হয়ে উঠবে ভয়ংকর ‘ওয়ার্ম’

জিরো ট্রাস্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা কী

সাইবার হামলা থেকে প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘জিরো ট্রাস্ট’ নিরাপত্তাকাঠামো। এ ব্যবস্থায় নেটওয়ার্কের ভেতরে বা বাইরে থাকা কোনো ব্যক্তি বা যন্ত্রকে আগাম বিশ্বস্ত বলে ধরে নেওয়া হয় না। যেকোনো তথ্য, সেবা বা সম্পদ ব্যবহারের আগে প্রতিবার ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অনুমোদনের বৈধতা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। সহজভাবে বললে, প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তাব্যবস্থায় নেটওয়ার্কের ভেতরে থাকা ব্যক্তি ও যন্ত্রকে সাধারণত বিশ্বাস করা হয়। অন্যদিকে, জিরো ট্রাস্ট ব্যবস্থায় কাউকেই আগাম বিশ্বাস করা হয় না। নেটওয়ার্কের ভেতরে বা বাইরে যেখান থেকেই কেউ প্রবেশের চেষ্টা করুক না কেন, তাকে যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রচলিত নেটওয়ার্ক নিরাপত্তায় মূলত বাইরের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। যাকে বলা হয় ‘ক্যাসল অ্যান্ড মোট’ মডেল। তবে কোনো হ্যাকার একবার কেউ নেটওয়ার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে তাকে সাধারণত বিশ্বাস করা হয়। ফলে কোনো সাইবার হামলাকারী নেটওয়ার্কে ঢুকতে পারলে ভেতরে থাকা বিভিন্ন তথ্য ও ব্যবস্থায় অবাধ প্রবেশাধিকার পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তা ছাড়া বর্তমানে ডেটা ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকায় শুধু বাইরের প্রবেশপথ সুরক্ষিত রাখাই যথেষ্ট নয়। আইবিএমের মতে, একটি তথ্যফাঁসের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের গড় ক্ষতি হতে পারে ৩০ লাখ ডলারের বেশি। এ ঝুঁকি কমাতেই জিরো ট্রাস্টের আবির্ভাব। ২০১০ সালে গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফরেস্টার রিসার্চ ‘জিরো ট্রাস্ট’ ধারণাটি সামনে আনে। পরে গুগল এটি নিজেদের নেটওয়ার্কে চালু করলে উদ্যোগটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। জিরো ট্রাস্ট বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি হলো ‘জিরো ট্রাস্ট নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস’ (জেডটিএনএ)। এটি অননুমোদিত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পুরো নেটওয়ার্ককে অদৃশ্য রাখে এবং ব্যবহারকারী ও কাঙ্ক্ষিত সেবার মধ্যে এনক্রিপ্ট করা পৃথক সংযোগ তৈরি করে। ফলে একজন ব্যবহারকারী কেবল তার কাজের জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট তথ্যে প্রবেশের সুযোগ পান, পুরো নেটওয়ার্কে নয়। এতে পরিচয় চুরি বা কোনো যন্ত্র হ্যাক হলেও পুরো নেটওয়ার্ক ঝুঁকিতে পড়ে না। সূত্র: ক্লাউডফ্লেয়ার ও আইবিএম টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: [email protected]

জিরো ট্রাস্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা কী

আদিম ব্ল্যাক হোলে সন্ধান মিলতে পারে পঞ্চম মাত্রার, দাবি বিজ্ঞানীদের

স্থান ও কালের পরিচিত চার মাত্রার বাইরে মহাবিশ্বে অতিরিক্ত কোনো মাত্রার অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা জানতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লেহম্যান কলেজের একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, বিগ ব্যাংয়ের ঠিক পরপরই তৈরি হওয়া অতি ক্ষুদ্র আদিম ব্ল্যাক হোল বা প্রাইমর্ডিয়াল ব্ল্যাক হোল বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বে লুকিয়ে থাকা পঞ্চম মাত্রা বা ফাইভ ডাইমেনশনের সন্ধান মিলতে পারে। বিজ্ঞানীদের এ দাবি সত্য হলে মহাজাগতিক গঠন, অন্ধকার বস্তু বা ডার্ক ম্যাটার ও স্পেসটাইমের মৌলিক রহস্য উন্মোচনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমাদের দৃশ্যমান বিশ্ব দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা ও সময়সমন্বিত চার মাত্রার স্পেসটাইমে অবস্থিত হলেও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বের গঠন আরও জটিল হতে পারে। তাঁদের মতে, আমাদের চার মাত্রার মহাবিশ্ব মূলত একটি বড় পাঁচ মাত্রার মহাজাগতিক পেছনের পটভূমির ভেতরে অবস্থান করছে। একে বিজ্ঞানীরা ডার্ক ডাইমেনশন বা ‘বাল্ক’ নামে ডাকেন। বিজ্ঞানীরা ফিজিক্যাল রিভিউ ডি নামের আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিগ ব্যাংয়ের পরপরই তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র প্রাইমর্ডিয়াল ব্ল্যাক হোল এ পঞ্চম মাত্রায় প্রবেশ করতে পারে। অতি ঘন এসব আদিম ধ্বংসাবশেষ আকারে এতই ছোট যে এদের অভিকর্ষ বল চার মাত্রার বাস্তবতা থেকে পাঁচ মাত্রার ডার্ক ডাইমেনশনে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে আমাদের পরিচিত ফোর-ডি মহাবিশ্ব মূলত একটি কাঠামো যা পাঁচ মাত্রার বাল্কের ভেতর ভেসে আছে। বিজ্ঞানী লুইস এ অ্যানকোরদোকি, অ্যালেক বেদ্রোয়া ও ডিটার লুস্ট এ গবেষণা পরিচালনা করেন। সাধারণ ব্ল্যাক হোল বিশালাকার নক্ষত্রগুলোর জ্বালানি শেষ হয়ে পতনের মাধ্যমে গঠিত হলেও প্রাইমর্ডিয়াল ব্ল্যাক হোল বিগ ব্যাংয়ের প্রথম সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের দুটি প্রধান তত্ত্বের প্রথমটিতে বলা হয়েছে, আদি মহাবিশ্বের অতিরিক্ত ঘন পদার্থের পতন ঘটে চার মাত্রার আদিম ব্ল্যাক হোল গঠিত হলেও আকারে অত্যন্ত ছোট হওয়ার কারণে তা দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে পাঁচ মাত্রার বস্তুতে রূপান্তরিত হয়। দ্বিতীয় তত্ত্বে বলা হয়েছে, মহাবিশ্বের জন্মের সময় তৈরি হওয়া অতি পাতলা কসমিক স্ট্রিং নামক ওয়ান-ডি বা একমাত্রার কাঠামোর লুপ একত্র হয়ে সরাসরি পাঁচ মাত্রার আদিম ব্ল্যাক হোল তৈরি করেছিল। উভয় গণনাই নির্দেশ করছে, আমাদের মহাবিশ্বে কোনো অন্ধকার মাত্রা থাকলে বিদ্যমান প্রিমর্ডিয়াল ব্ল্যাক হোলগুলো মূলত পাঁচ মাত্রার বস্তু হিসেবেই টিকে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, পাঁচ মাত্রার ব্ল্যাক হোলগুলো চার মাত্রার সাধারণ ব্ল্যাক হোলের তুলনায় অনেক ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হয়। কসমিক স্ট্রিং ভেঙে তৈরি হওয়া ব্ল্যাক হোলগুলোর আয়ুষ্কাল মহাবিশ্বের ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছরের সমান হতে পারে। এর অর্থ, এ ব্ল্যাক হোল আজও আমাদের চারপাশে অবস্থান করতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কণার বাষ্প তৈরি করে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ২০২৩ সালে ভূমধ্যসাগরের গভীরে অবস্থিত কেএমথ্রিনেট ডিটেক্টরে আঘাত হানা রহস্যময় ভুতুড়ে কণা বা ঘোস্ট পার্টিকেলের উৎস পাঁচ মাত্রার কোনো আদিম ব্ল্যাক হোলের বাষ্পীভবন হতে পারে বলেও দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও প্রাইমর্ডিয়াল ব্ল্যাক হোলকে সরাসরি এখনো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি, তবে মহাবিশ্বের ২৭ শতাংশ গঠনকারী রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে এগুলোকে বিবেচনা করা হয়। যদি সত্যি এ অন্ধকার মাত্রার অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাহলে আদিম ব্ল্যাক হোলসংক্রান্ত এ গবেষণা স্পেসটাইমের মৌলিক গঠন বুঝতে বিজ্ঞানীদের এক নতুন পথ দেখাবে। সূত্র: ডেইলি মেইল

আদিম ব্ল্যাক হোলে সন্ধান মিলতে পারে পঞ্চম মাত্রার, দাবি বিজ্ঞানীদের

এআই দিয়ে তৈরি ১৬ নতুন ভাইরাস

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকরা। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জৈব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) নামের বিশেষায়িত এআই মডেল ব্যবহার করে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআইয়ের মতো নয়, এই মডেলগুলোকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।গবেষণাটি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, এআই ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজ ধরনের ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করে। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ল্যাবরেটরিতে পুনরুৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।গবেষকদের মতে, এই ধরনের ব্যাকটেরিওফাজ ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, সম্পূর্ণ একটি ভাইরাসের জিনোম নকশায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের এটি অন্যতম প্রথম সফল প্রয়োগ। তার ভাষায়, এটি জীববিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে।তবে গবেষণাটি প্রকাশের পরই বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেন। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি-এর গবেষক ডা. টমাস ইংলেসবি ও ডা. মরিটজ হাঙ্কে বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে জরুরি প্রশ্ন তৈরি করছে। তাদের মতে, প্রযুক্তিটি যেন ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে বা জৈব অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।অবশ্য ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় এমন কোনো ভাইরাস ব্যবহার করা হয়নি, যা মানুষ বা জটিল প্রাণীর জন্য রোগ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণার জন্য কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিতকারী ব্যাকটেরিওফাজ ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুরো কাজই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়েছে।এদিকে, উন্নত এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ওপেনএআই এক অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করে জানায়, পরীক্ষামূলক একটি এআই মডেল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি বোঝা এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক জীববিজ্ঞান গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা ও নজরদারি অপরিহার্য।

এআই দিয়ে তৈরি ১৬ নতুন ভাইরাস
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream