বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও বাস টার্মিনালে সাকের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১৩


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও বাস টার্মিনালে সাকের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১৩
মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও বাস টার্মিনালে সাকের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১৩

মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাকের হোসেন (৩৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পৃথক দুটি ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণের একটি অংশ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি ঘটনায় মোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) মাগুরা জেলা পুলিশের আয়োজনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকার বাসিন্দা মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মন্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।

এ সময় ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল—ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার এবং একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের ভেতরে সাকের হোসেনকে (৩৬) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে বুলেট ও খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার ওজন ৫১ ভরি ৬০৫.৬৯ গ্রাম।

পুলিশ আরও জানায়, দুটি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেনের নাম রয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএমের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ঘটনায় সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬.৪৬ গ্রাম। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও বাস টার্মিনালে সাকের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১৩

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাকের হোসেন (৩৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পৃথক দুটি ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণের একটি অংশ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি ঘটনায় মোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) মাগুরা জেলা পুলিশের আয়োজনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকার বাসিন্দা মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মন্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।

এ সময় ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল—ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার এবং একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের ভেতরে সাকের হোসেনকে (৩৬) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে বুলেট ও খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার ওজন ৫১ ভরি ৬০৫.৬৯ গ্রাম।

পুলিশ আরও জানায়, দুটি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেনের নাম রয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএমের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ঘটনায় সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬.৪৬ গ্রাম। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream