ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অধিকাংশ দোকানে ক্রেতাদের রসিদ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সিলিন্ডার কেনার পর প্রকৃত মূল্য, বিক্রির হিসাব এবং পণ্যের মান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রমাণ দেখাতে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও দোকানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের হাতে বিক্রির রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্রেতা মৌখিকভাবে দাম পরিশোধ করে সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ফলে কোন কোম্পানির সিলিন্ডার কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তার কোনো লিখিত প্রমাণ তাদের কাছে থাকছে না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গেলে দোকানিরা দাম জানিয়ে টাকা নিয়ে সিলিন্ডার দিয়ে দেন। কিন্তু রসিদ চাইলে অনেক ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয় না। এতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ভোক্তাদের মতে, গ্যাস সিলিন্ডার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করছে। এ অবস্থায় বিক্রির সময় রসিদ না দেওয়া হলে ক্রেতাদের স্বার্থ ও ভোক্তা অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য ও বিক্রির তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতাকে রসিদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে পণ্যের মূল্য নিয়ে বিরোধ, অতিরিক্ত দাম আদায় কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা সহজ হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, চরভদ্রাসন উপজেলার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলোতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিক্রেতাদের রসিদ প্রদানে বাধ্য করা এবং নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
মতামত