সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সিলেটে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সিলেটে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন
সিলেটে সবজি, মাছ ও মুরগি সহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন

 সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে সবজি মাছ ও মুরগির সহ নিত্যপণ্যের দাম। জিনিসের দাম বাড়লে, বাড়েনি মানুষের আয় বরং খরচে ব্যয়। সিলেটের বাজারে পেপে ও আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সবজি ছাড়াও মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি  নেই ক্রেতাদের।  বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার গুলোকে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় কেউ কম পরিমাণে কিনছেন, কেউবা খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন মাছ-মাংসের মতো পণ্য। এ অবস্থায় বাজার তদারকি জোরদার ও পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

 রোববার  ও সোমবার নগরের লালবাজার, কাজিরবাজার ও রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেপে ও আলু ঠাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক চড়া দামে। প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গার দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৮০ টাকা ও ফুলকপি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগাম শীতকালীন সবজি নতুন শিমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তবে আলু ৩০ টাকা ও পেঁপে ১৫  থেকে ২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের দামও ক্রেতাদের চাপে ফেলছে। আকার ভেদে বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শিং, মাগুর ও চিংড়ির মতো মাছের দাম আরও বেশি। মাছের দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাকে পছন্দের মাছের বদলে তুলনামূলক কম দামের মাছ কিনতে হচ্ছে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও খরচ কমানোর সুযোগ সীমিত। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। গরুর মাংস কেজিতে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মন্তব্য, আয়-রোজগার না বাড়লেও নিত্য দিনের ব্যয় বাড়ছে। ফলে একই পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও আগের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যাচ্ছে না। মাছ কিনলে সবজির পরিমাণ কমাতে হচ্ছে, আবার মাংস কিনতে গেলে অন্য খরচে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা নিলেন্দু ভট্টাচার্য  বলেন, “শীতকালীন সবজির মৌসুম চলছে, এই সময় তো সবজির দাম কম থাকার কথা। অথচ পেঁপে আর আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেগুন, টমেটো, শিম কিনতে  গেলে দাম শুনেই মাথা ঘুরে যায়। আমাদের আয় তো বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিন বাড়ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ চলবে কী ভাবে? বাজারে সিন্ডিকেট থাকলে ভাঙতে হবে, আর যারা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


সিলেটে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে সবজি মাছ ও মুরগির সহ নিত্যপণ্যের দাম। জিনিসের দাম বাড়লে, বাড়েনি মানুষের আয় বরং খরচে ব্যয়। সিলেটের বাজারে পেপে ও আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সবজি ছাড়াও মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি  নেই ক্রেতাদের।  বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার গুলোকে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় কেউ কম পরিমাণে কিনছেন, কেউবা খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন মাছ-মাংসের মতো পণ্য। এ অবস্থায় বাজার তদারকি জোরদার ও পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

 রোববার  ও সোমবার নগরের লালবাজার, কাজিরবাজার ও রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেপে ও আলু ঠাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক চড়া দামে। প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গার দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৮০ টাকা ও ফুলকপি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগাম শীতকালীন সবজি নতুন শিমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তবে আলু ৩০ টাকা ও পেঁপে ১৫  থেকে ২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের দামও ক্রেতাদের চাপে ফেলছে। আকার ভেদে বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শিং, মাগুর ও চিংড়ির মতো মাছের দাম আরও বেশি। মাছের দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাকে পছন্দের মাছের বদলে তুলনামূলক কম দামের মাছ কিনতে হচ্ছে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও খরচ কমানোর সুযোগ সীমিত। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। গরুর মাংস কেজিতে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মন্তব্য, আয়-রোজগার না বাড়লেও নিত্য দিনের ব্যয় বাড়ছে। ফলে একই পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও আগের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যাচ্ছে না। মাছ কিনলে সবজির পরিমাণ কমাতে হচ্ছে, আবার মাংস কিনতে গেলে অন্য খরচে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা নিলেন্দু ভট্টাচার্য  বলেন, “শীতকালীন সবজির মৌসুম চলছে, এই সময় তো সবজির দাম কম থাকার কথা। অথচ পেঁপে আর আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেগুন, টমেটো, শিম কিনতে  গেলে দাম শুনেই মাথা ঘুরে যায়। আমাদের আয় তো বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিন বাড়ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ চলবে কী ভাবে? বাজারে সিন্ডিকেট থাকলে ভাঙতে হবে, আর যারা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream