১১ আগস্ট ২০২৬ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ ও ওয়ান ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে.এস.এম. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচার, অননুমোদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি (CID) এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে ‘পিপলস অ্যাক্টিভিস্ট কোয়ালিশন (প্যাক)’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রধানদের কাছে এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি ও আবেদন দাখিল করা হয়।পরিচয় ও পটভূমিকে.এস.এম. মোস্তাফিজুর রহমান বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট (বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০০২ সালে তিনি 'ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ' প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে 'ওয়ান ফার্মা লিমিটেড' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ওষুধ খাতে যুক্ত হন। তিনি এফবিসিসিআই (FBCCI)-এর সাধারণ পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BAMA) সভাপতিসহ বেশ কিছু ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বগুড়া থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
যেসব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে:রাজনৈতিক প্রভাব ও টেন্ডার দখল
বিগত সরকারের সময় বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, কেআইবি মহাসচিব খায়রুল আলম প্রিন্স এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সাথে মোস্তাফিজুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি আইসিটি ও প্রাণিস্বাস্হ্য (ভ্যাকসিনেশন) খাতের সরকারি টেন্ডার অনৈতিকভাবে হাসিল করেন। গুঞ্জন রয়েছে, বাহাউদ্দিন নাছিমের সাথে সম্পর্কের সুবাদে ওয়ান ফার্মা ও ওয়ান আইসিটি লিমিটেডের মাধ্যমে বিপুল ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়া হয়।
'শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু' ও বিশেষ সুবিধা
মোস্তাফিজুর রহমান 'শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ'-এর সমন্বয়ক বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১২ লক্ষ ৯০ হাজার বর্গফুটের বিশাল এলাকা জুড়ে 'শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু' প্রতিকৃতি তৈরির উদ্যোগ নেন। এই প্রকল্পকে পুঁজি করে তিনি তৎকালীন সরকারের থেকে নানা অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিবন্ধনহীন পণ্য ও একই নম্বর ব্যবহার
ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের তৈরি কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, অনুখাদ্য ও প্লান্ট গ্রোথ রেগুলেটরের (PGR) মধ্যে অনেক পণ্যেরই অনুমোদন বা নিবন্ধন সনদ নেই। উদাহরণস্বরূপ, তাদের 'রুটোন' (Rooton) নামের পিজিআর পণ্যের ইমপোর্ট পারমিট (IMP) নম্বর ৪৩। কিন্তু একই নম্বর ব্যবহার করে বেআইনিভাবে 'ক্রপস কেয়ার' (Crops Care) এবং 'এনএসি গোল্ড' (NAC Gold) নামের আরও দুটি পিজিআর বাজারজাত করা হচ্ছে। এছাড়া 'বায়ো-ফোর্জ' (Bio-Forge) নামক একটি পণ্যের কোনো তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) ডেটাবেজে নেই।
অবৈধ অর্থায়ন ও সম্পদ
বিদেশে (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের) ঘোষণাবহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং চীন থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থায়ন গ্রহণের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি খাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা: বিএএমএ (BAMA)-এর সভাপতি পদে থেকে তিনি এগ্রোকেমিক্যাল আমদানিতে ২৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সুপারিশ করে বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালান বলে অভিযোগে প্রকাশ পায়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে.এস.এম. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। বাংলা এফএম-এর পক্ষ থেকে তাঁর মোবাইল নম্বরে (01961......101) কল করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন
প্যাক-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল তদন্তকারী সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে—অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে। পূর্বে নেওয়া সকল সরকারি টেন্ডার, চুক্তি ও ক্রয় প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করতে। ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের বাজারজাতকৃত সকল পণ্যের ল্যাব পরীক্ষা এবং ডিএই (DAE)-এর মাধ্যমে নিবন্ধন ও আইএমপি নম্বরের সঠিকতা যাচাই করতে। কৃষি খাত ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তদন্তপূর্বক প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মতামত