শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

চলচ্চিত্র

খ্যাতির শীর্ষে থেকেও যে কারণে ক্যামেরার সামনে থেকে সরে গেলেন শাবানা

খ্যাতির শীর্ষে থেকেও যে কারণে ক্যামেরার সামনে থেকে সরে গেলেন শাবানা

চলচ্চিত্রে মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর অভিষেক, এরপর তিন যুগ ধরে অভিনয়। একের পর এক উপহার দিয়েছেন দর্শকনন্দিত সব সিনেমা। আর পেয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা। এর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য এক জায়গা তৈরি করেছিলেন। পুরো নাম আফরোজা সুলতানা রত্না হলেও তিনি বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে শাবানা নামেই পরিচিত। অভিনয়জীবনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ ক্যামেরার সামনে থেকে সরে দাঁড়ান তিনি, পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফেলে যান দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, সহশিল্পী ও অগণিত ভক্তকে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী? শাবানার মতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মা হিসেবে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই অভিনয় ছেড়েছিলেন তিনি।বাবা–মায়ের আফরোজা সুলতানা রত্না, ষাটের দশকের শুরুতে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ১৯৬৭ সালে একই পরিচালকের উর্দু ছবি ‘চকোরী’তে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এই নায়িকা। এরপর নায়িকা থেকে ভাবি, মা—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ১১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।শাবানার বাবার নাম ফয়েজ চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় টাইপিস্ট ছিলেন, একটা সময় চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় পরিচালনাও করেন। আর মা ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম সিনেমায় অভিনয়ে নাম লেখান শাবানা। ‘নতুন সুর’ ছবিতে শাবানা যখন অভিনয় করেন, তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রে শাবানার বাবাকে তখন এহতেশামই বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটাকে আমি একটি ছবিতে নিতে চাই।’ শাবানার বাবা তখন নাকি এভাবেই বলেছিলেন, ‘রত্না (শাবানার ডাক নাম) কীভাবে অভিনয় করবে! সে এত লাজুক, কারও সামনেই আসতে চায় না।’ নাছোড়বান্দা এহতেশাম বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটার মতো একটা মেয়েই আমি খুঁজছি। এরপর শাবানার বাবা রাজি হন।’ ওই ছবির নায়ক-নায়িকা ছিলেন রহমান-রওশান আরা।সেই সময়ের কথা মনে করে শাবানা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ছবিতে আমার প্রথম দৃশ্য ছিল এমন, খুশিতে আমি দৌড়ে এসে বলব, “ভাইয়া, ভাইয়া, আপুর বিয়ে।” আমাকে জড়িয়ে ভাইয়া বলবে, “তাই নাকি রে!” প্রথমবারে শট ওকে! তার পর থেকে মায়ের চেয়ে বাবাই সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতেন, অনুপ্রেরণা দিতেন। আমার বাবাও কিন্তু কয়েকটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন। “মুক্তি” (১৯৬৯), “মালকাবানু” (১৯৭৪), “বিজয়িনী সোনাভান” (১৯৭৯), “আলতাবানু” (১৯৮২) ও “রাজার মেয়ে বেদিনী” (১৯৯১)। এর মধ্যে তো “মালকাবানু” সুপারহিট। গানগুলো এখনো মানুষ গায়।’বাবা যে রত্নাকে তাঁর জীবনের শুরুতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দিতে চাননি, পরে সেই বাবাই হয়ে ওঠেন তাঁর অনুপ্রেরণা। একটা সময় বাবা ফয়েজ চৌধুরী পরিচালিত সিনেমায়ও অভিনয় করেছিলেন শাবানা। এভাবে ধীরে ধীরে শাবানা হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একটা বড় অধ্যায়। এ অধ্যায়ে তিনি শেষ করেন ২৯৯টি সিনেমার কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলমগীরের বিপরীতে। এই নায়কের বিপরীতে তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৩০। এরপরই যাঁর সঙ্গে জুটি হয়ে বেশি অভিনয় করেছেন, তিনি নায়করাজ রাজ্জাক।জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি শাবানার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের পেশা ও চেনা জগৎ ছেড়ে যাওয়ার পেছনে ছিল সন্তানদের নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঠিকঠাকভাবে করে দিতে চলে যান তিনি। বড় মেয়ে সুমী এ লেভেল শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ছোট মেয়ে ঊর্মি ও ছেলে নাহিনও সেখানে চলে যান। সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থেকে তাঁদের বেড়ে ওঠার সময়টুকু হারাতে চাননি শাবানা।প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে শাবানা বলেন, ‘লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হলাম। হঠাৎ মনে হলো, সন্তানদেরও তো সময় দেওয়া দরকার। আমার বড় মেয়ে সুমী তখন এ লেভেল শেষ করল। উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলো। কিছুদিন পর ছোট মেয়ে ঊর্মি আর ছেলে নাহিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেল। ওদের সবার বয়সই–বা তখন আর কত। বাচ্চারা আমাকে খুব মিস করছিল। দেশে যখন ছিল, তখন তো আমার চোখের সামনেই ছিল। কাজের ফাঁকে দেখতাম। তখন আমিও ভাবলাম, মা হিসেবে আমার তো কিছু দায়িত্ব আর কর্তব্য আছে। সন্তানদের যদি ঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমার এই অভিনয়জীবন দিয়ে কী হবে! তাই কষ্ট হলেও সিনেমা ছেড়ে সন্তানদের ব্যাপারে মনোযোগী হলাম। এ জন্যই বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।’সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে শাবানাকে তাঁর প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিক বেশ সহযোগিতা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ব্যবসার সুযোগ ছিল। তাই পরিবারের সঙ্গে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন শাবানা।দেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এই অভিনয়শিল্পীর মতে, ‘সাদিক সাহেবও ওখানে কিছু ব্যবসার ব্যবস্থা করলেন। আমিও দেখলাম, অনেক দিন তো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলাম, এবার ঘরের দিকে মনোযোগী হই। তাই চলে গেলাম। তবে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিও কিন্তু আমার কাছে একটা পরিবারের মতো ছিল। সেখানে আমি রাতদিন অবসরবিহীন কাজ করেছি। সহশিল্পী, পরিচালকদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠল। কাউকে ভাই, আবার কাউকে চাচা ডাকতাম। সবাইকে খুব মিস করলেও কিন্তু মানুষের জীবনে একটা সময় আসে, যখন কোনো উপায় থাকে না। জীবনের ধাপে ধাপে কিছু সময় আসে, সে সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব দরকার। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া, আমি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি।’সন্তানদের জন্য নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের পর কেটে গেছে বহু বছর। বড় মেয়ে সুমী ইকবাল এমবিএ শেষ করে বিয়ে করেছেন। ছোট মেয়ে ঊর্মি সাদিক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। ছেলে নাহিন সাদিক রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি করছেন। তিনিও বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। সন্তানদের পড়াশোনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা শাবানার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।শৈশব থেকেই অভিনয়ে যুক্ত থাকায় নিজের জন্য সময় বের করার সুযোগ খুব কমই পেয়েছিলেন শাবানা। কাজের প্রতি একাগ্রতা ছিল এতটাই যে অভিনয়ের সময় অন্য সবকিছু ভুলে থাকতেন। তবে একটা পর্যায়ে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এ প্রসঙ্গে শাবানা বলেন, ‘শৈশবে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হই। নিজেকে দেওয়ার মতো সময় পাইনি। কাজ, কাজ আর কাজ। এভাবেই কেটেছে একটানা ৩৫ বছর। পরিবার ও সন্তানদের সময় দেওয়ার ব্যাপারটি আমার কাছে জরুরি হয়ে পড়ে। তাই সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অভিনয়টা ছাড়তে হয়েছে।’অভিনয় ছেড়ে দিলেও দেশের চলচ্চিত্রের খোঁজখবর একেবারে অজানা থাকে না শাবানার। যুক্তরাষ্ট্রে বসে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে যতটুকু পারেন, খোঁজ রাখেন। ঢাকায় থাকাকালে শাকিব খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। স্বামী ওয়াহিদ সাদিক একটি ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করায় শাকিবের সঙ্গে তাঁদের বাসায় কথা হয়। শাবানার স্মৃতিতে, শাকিব ছিলেন সুদর্শন, ভদ্র ও অমায়িক।জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শাকিব যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে একবার শাবানার নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে শাবানার সঙ্গে ফোনেও কথা হয় শাকিব খানের। দেশের সিনেমা নিয়ে জানতে চাইলে শাকিব খানের নামই বেশি শোনেন বলে জানান শাবানা। তিনি বলেন, ‘শাকিব তো অনেকটা সময় ধরে কাজ করছে। শুনছি, এখন বেশ ভালো করছে। তার সিনেমা মুক্তি পেলে আমাদের এখানেও চলে। বিশ্বের আরও দেশে শাকিবের সিনেমা মুক্তি পায়; এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের, গর্বের।’বিভিন্ন সময়ে নতুন চলচ্চিত্রে শাবানার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বেগম রোকেয়ার জীবনীভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে শোনা গিয়েছিল। তবে এখন আর অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা নেই তাঁর। বয়স বেড়েছে, জীবনের ব্যস্ততাও বদলেছে। এখন পরিবার, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়েই তাঁর সময় কাটে। শাবানা বলেন, ‘এই বয়সে আর কীভাবে? এখন তো অনেক বয়স হয়ে গেছে। আল্লাহর নাম নিয়ে পার করে দিচ্ছি সময়। মাঝেমধ্যে কাজের সময়ের স্মৃতি মনে করি। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিরা মাঝেমধ্যে আমার ছবি সম্পর্কে নানা কিছু জিজ্ঞাসা করে। আমিও তখন বলি, ওই ছবিটা দেখো। এখন পরিবারটাই আমার জগৎ। এ জগতে আমার অনেক ব্যস্ততা।’

কেন তারকাদের বিচ্ছেদে ভক্তরা হতাশ হন?

বিনোদন জগতে তারকাদের প্রেম ও বিয়ে যেমন খবরের শিরোনাম হয়, তেমনি বিচ্ছেদের খবরও তৈরি করে সমান তুমুল আলোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্ক ও চার বছরের সংসারের ইতি টেনে বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা দিয়েছেন প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেম। তাদের এই বিচ্ছেদ বিনোদন অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বড় ধাক্কা দিয়েছে।প্রীতম-শেহতাজ একা নন; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শোবিজে বিচ্ছেদের তালিকাটা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানা। ২০২৫ সালেও সামনে আসে একাধিক বিচ্ছেদের খবর—সংগীতশিল্পী তাহসান খান ও রোজা আহমেদ, দিলশাদ নাহার কণা ও গোলাম মোহাম্মদ ইফতেখার, মৌসুমী আক্তার সালমা ও আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগর এবং অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু ও মমরেনাজ মোমোর দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের খবর। এর আগে ২০২৪ সালে মাহিয়া মাহি ও রকিব সরকার, অভিনেতা আরিফিন শুভ ও অর্পিতা সমাদ্দার এবং চিত্রনায়িকা পরীমণি ও শরিফুল রাজের সম্পর্কের ভাঙন নতুন করে আলোচনায় আসে। অতীতেও তাহসান-মিথিলা, হাবিব-রেহান, শখ-নিলয়, হৃদয় খান-সুজানাদের মতো আলোচিত জুটির বিচ্ছেদ শোবিজে সম্পর্কের ভঙ্গুরতাকেই তুলে ধরে।নিউইয়র্কভিত্তিক সাইকোথেরাপিস্ট ক্যাথরিন শেফলারের মতে, সাধারণ মানুষ তারকাদের একটি ‘নিখুঁত জুটি’ হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু তাদের সম্পর্ক ভাঙলে সাধারণ মানুষের মনে অবচেতনভাবেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়—তারা ভাবতে থাকেন, সব থেকেও যদি ওদের সম্পর্ক না টেকে, তবে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের পক্ষে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব তো?ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. অ্যান্ড্রিয়া লাইনারের মতে, ভক্তরা তারকাদের সঙ্গে এক ধরণের ‘প্যারাসোশ্যাল’ বা একপাক্ষিক আবেগীয় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তারকাদের সাফল্য ও জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই ভাবেন তারা সমস্ত মানসিক বা সামাজিক জটিলতা মুক্ত। ফলে তাদের বিচ্ছেদ সাধারণ অনুরাগী ও ভক্তদের মনে বিভ্রান্তি ও হতাশা বাড়ায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিককালে তারকা ও সাধারণ মানুষের সম্পর্কের গভীরতা নষ্ট হওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল নির্ভরশীলতা।কর্মব্যস্ততা ও দূরত্বের কারণে সম্পর্কের মূল ভিত্তি সামনাসামনি কথা বলা কমে গেছে। প্রেম কিংবা ক্ষোভ—সবকিছুই এখন সীমাবদ্ধ মেসেজিং অ্যাপ ও স্ট্যাটাসে।আইনজীবীদের মতে, ডিজিটাল চ্যাট বা পুরোনো ছবি সহজে মোছা যায় না। রাগের মাথায় দেওয়া পুরনো বার্তা বা পোস্ট ক্ষমার পথ কঠিন করে তোলে এবং ক্ষত তাজা রাখে।সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাজানো জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের তুলনা মানসিক দূরত্ব বাড়ায়। পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতে অবাধ যোগাযোগ পারস্পরিক বিশ্বাস নড়বড়ে করে দিয়ে সম্পর্কের ভিত ভেঙে দিচ্ছে।

কেন তারকাদের বিচ্ছেদে ভক্তরা হতাশ হন?

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের উপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলা

ইতালির মেস্ট্রেতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীদের জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক ভিডিওতে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন বলেছেন, ‘আমি ভাইয়ের পরিবারের সাথে একটা পার্কে গিয়েছিলাম। এ সময় বাঙালি ভাইয়েরা এসে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে। আমার গায়ে পানি কোক ছুঁড়ে মেরেছে। আমার গায়ে হাত তুলেছে। আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। কানের পাশে বাড়ি মেরেছে।’বাঁধান বলেন, ‘আমাকে হামলা করার সময় তারা বলেছে আমি জুলাই যোদ্ধা। হ্যাঁ আমি জুলাই যোদ্ধা। হামলাকারীরা বলেছে, তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে জোর করে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলতে বলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামীলীগের যে কর্মীরা জানেন না, আমি ভেনিসে যে সিনেমাটা নিয়ে এসেছি তার পরিচালক রুবায়েত হোসেন। তার বাবা আপনাদের আওয়ামীলীগের মন্ত্রী ছিলেন। আপনারা ভেবেছেন এ ধরনের আচরণ করে আপনারা আবার রাজনীতিতে ফিরবেন। আমার তা মনে হয় না। আমাকে অশ্লীল গালাগাল করা হয়েছে। আমার মনে হচ্ছিল, আজ আমাকে মেরেও ফেলতে পারে।’ বাঁধন বলেন, ‘একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারাবিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।’এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনও রাজনৈতিক দলের অংশ হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ভিডিওবার্তায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে বিষয়টি জানানোর অনুরোধও করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন, আশা করি আপনার তার কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেবেন।’ ভিডিওবার্তায় বাঁধন জয়ের সঙ্গে দেখা করে তার দলের কর্মীরা কী চায় তা জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এদিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তার উপর ছাত্রলীগের হামলার বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছেন বাঁধন।

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের উপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলা

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে কাজ করেন। আবারও এই জুটি প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে। প্রথম সিনেমায় দুজন অপরিচিত মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছে। এবার দম্পতির চরিত্রে তাঁরা হাজির হচ্ছেন। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ নামের সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজের ব্যানারে। আয়মান হাসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। কানাভুলা প্যারাডক্স দিয়ে বড় পর্দায় নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁদের। উৎসব ও বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। এবার কেবল প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। এবারও তিনি সিনেমা নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছেন উপন্যাস। কানাভুলা প্যারাডক্স নির্মিত হবে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ অবলম্বনে। উপন্যাসে গল্পটি এক নবদম্পতির। তারা হানিমুনে যাবে, কক্সবাজারে। দেশব্যাপী তখন মহামারির প্রকোপ, ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। এর মাঝেই হানিমুনে যায় তারা। হোটেল বন্ধ, তাই ভাড়া নিল এক প্রবাসী ভদ্রলোকের বানানো বিশাল বাংলো। সঙ্গেই লাগোয়া সৈকত। জায়গাটা যেমন নির্জন, তেমন রহস্যময়। চাঁদনি রাতে জনশূন্য সৈকতে হাত ধরাধরি করে জোছনার আলোয় ভিজতে ভিজতে যখন কপোত-কপোতী দুজন নিজেদের ভেতর ভীষণ ডুবেছিল, ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে তারা একা নয় ওখানে। তাদের সঙ্গে আছে একটি অসংজ্ঞায়িত অস্তিত্ব কানাভুলা। এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। সেই গল্পই পর্দায় তুলে ধরবেন নির্মাতা, তবে সিনেমার প্রয়োজনে থাকবে কিছু সংযোজন-পরিমার্জন। নতুন এই সিনেমা নিয়ে প্রযোজক তানিম নূর বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত এক ভূতের নাম কানাভুলা। শোনা যায় এই ভূতে ধরলে মানুষ পথ হারিয়ে ফেলে। কী করছে, কোথায় যাচ্ছে কিছু বলতে পারে না। প্রচলিত সেই গল্প নিয়ে এই সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার পাশাপাশি ভীষণ রোমান্টিক গল্পও দেখা যাবে।’ পরিচালক সুস্ময় সরকার বলেন, ‘আমি আর স্বাধীন ভাই দীর্ঘদিন ধরে বুড়িগঙ্গা টকিজের স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি নিজেদের নির্মাণ নিয়ে ভাবছিলাম। কানাভুলো উপন্যাসটি পড়ে মনে হলো এটি হতে পারে আমাদের প্রথম সিনেমা। এখানে অতিপ্রাকৃতিক বিষয় আছে, রোমান্টিক গল্প আছে আর টাইম ট্রাভেলের ঘটনাও আছে—যা আমাদের দুজনের খুব পছন্দ।’ অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দুই নির্মাতাকে নিয়ে তানিম নূর বলেন, ‘স্বাধীন ও সুস্ময় দুজনই খুব মেধাবী। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আমার সঙ্গে কাজ করছে। তারা যখন এই গল্প নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করল, আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারণ আমাদের সিনেমায় প্রচলিত গল্পের বাইরের একটি গল্প এটি। আমার বিশ্বাস, দর্শকের খুব ভালো লাগবে। এ ছাড়া উপন্যাসটি যিনি লিখেছেন, তিনিও মেধাবী তরুণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের এই মেধাবী তরুণদের সুযোগ দিলে তারা ভালো কিছু করবে।’ নির্মাতারা জানালেন, এখন চলছে সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ। আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হবে শুটিং। ২০২৭ সালের কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে কানাভুলা প্যারাডক্স মুক্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাজ-সাবিলার নতুন রসায়ন ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’

দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনেরাহ

সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনেত্রী। তিনি প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেছিলেন ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পেয়ে। ঢালিউডে অভিনয়দক্ষতা দিয়ে দ্রুতই নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নেন এই অভিনেত্রী। তবে এবার আর কেবল দেশের গণ্ডি নয়, তার ক্যারিয়ারে নতুন এক আন্তর্জাতিক মাইলফলক যোগ হতে যাচ্ছে।  তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে অফিশিয়াল সিলেকশন পেয়েছে।  বাংলাদেশের কোনো সিনেমা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বিশ্বের প্রাচীনতম এই উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে ।  এই ঐতিহাসিক অর্জনের অংশ হতে এবং সিনেমার অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে যোগ দিতে খুব শিগগিরই ইতালির ভেনিস শহরের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন সুনেরাহ। ভেনিসের মতো বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মে আমন্ত্রণ পাওয়াকে কেবল ব্যক্তি ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন না সুনেরাহ।  বরং আন্তর্জাতিক এই মঞ্চকে অভিজ্ঞতা অর্জনের এক নতুন ক্ষেত্র মনে করছেন তিনি। বিশ্বচলচ্চিত্রের নামীদামি নির্মাতা, আন্তর্জাতিক তারকা ও সিনেমা বিশেষজ্ঞদের সাথে এক ছাদের নিচে উপস্থিত থাকার এই সফর তার অভিনয় যাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।

দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনেরাহ

ভেনিসে বসছে তারার হাট, স্বর্ণসিহংয়ের দৌড়ে ২১ ছবি

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব ১৯৩২ সালে শুরু হয়েছিল। ৮৩তম আসর দোরগোড়ায় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এই উৎসবের। লালগালিচায় তারার হাট বসবে আজ ২ সেপ্টেম্বর থেকে, চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রবার্ট প্যাটিনসন, রুনি মারা, জর্জ ক্লুনি, পেনেলোপে ক্রুজের মতো তারকাদের। অস্কার ও বাফটাজয়ী নির্মাতা ড্যানি বয়েলের ‘ইনক’ এবারের উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে। এতে অভিনয় করেছেন জ্যাক ও’কনেল, গাই পিয়ার্স ও ক্লেয়ার ফয়। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে সিনেমাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এবার মোট ২১টি সিনেমা লড়ছে স্বর্ণসিহং পুরস্কারের জন্য। প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পাওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে মার্টিন ম্যাকডোনাগের ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’, ওয়ার্নার হারজোগের ‘বাকিং ফাস্টার্ড’, ফ্লোরিয়ান জেলারের ‘বাঙ্কার’, হিরোকাজু কোরে-এদার ‘লুক ব্যাক’, লি চ্যাং-ডংয়ের ‘পসিবল লাভ’ ইত্যাদি। মূল প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা ম্যাগি গিলেনহল। জুরি বোর্ডে আরও রয়েছেন তিউনিসিয়ার কাওথার বেন হানিয়া, ব্রিটিশ নির্মাতা ড্যানিয়েল ব্লুমবার্গ, ইতালির চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক ফ্রান্সেসকো কাসেটি, ফরাসি চলচ্চিত্রকার জাভিয়ার জিয়ানোলি, ইরানি বংশোদ্ভূত আফগান চলচ্চিত্রকার শহরবানু সাদাত এবং হংকংকের চলচ্চিত্র নির্মাতা জনি টু। উৎসবের সম্মানসূচক ‘গোল্ডেন লায়ন’ বা স্বর্ণসিংহ পাচ্ছেন ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ অভিনেত্রী বাসটিন। ভেনিস উৎসবের এবারের আসরটি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ। উৎসবের অরিজোন্তি কমপিটিশন বিভাগে জায়গা পেয়েছে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, যা জায়গা পেল ভেনিস উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে। রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া ডি’আর্টেমারে, জার্মানির আন্না ক্যাচকো, পর্তুগালের পেড্রো বোর্গস ও নরওয়ের ইনগার্ড লিল হটন। ৬ সেপ্টেম্বর ভেনিস উৎসবে দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড সিনেমার প্রিমিয়ার হবে। এ সময় নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন সিনেমার অভিনয়শিল্পী জাইনীন করিম, আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। অভিনেত্রী বাঁধন জানান, ৩ সেপ্টেম্বর ভেনিসের উদ্দেশে রওনা দেবেন তাঁরা। জানা গেছে, ভেনিস উৎসবের রেড কার্পেটে দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড সিনেমায় ব্যবহৃত ‘ঢাকা লাভ’ গানের মিউজিকের সঙ্গে শাড়িতে বাঙালি ঐতিহ্য তুলে ধরবেন সিনেমার কলাকুশলীরা। নির্মাতা জানিয়েছেন, দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড একটি মনস্তাত্ত্বিক হরর চলচ্চিত্র। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মেফেয়ার বিউটি পারলারকে কেন্দ্র করে গল্প। কথিত আছে, একসময় এই পারলারে একজন কনে রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রে জাইনীন নামের এক তরুণী বিয়ের প্রস্তুতির জন্য পারলারে আসে। সেখানে একের পর এক অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার মুখোমুখি হয় সে। রহস্য, মনস্তত্ত্ব এবং সুপারন্যাচারাল উপাদানের মধ্য দিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। ভেনিস উৎসব ছাড়াও সিনেমাটি ইতিমধ্যে নির্বাচিত হয়েছে টরন্টো ও বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

ভেনিসে বসছে তারার হাট, স্বর্ণসিহংয়ের দৌড়ে ২১ ছবি

ছয় সিনেমা বাতিল, প্রযোজক মেঘকে ব্যাখ্যা দিতে বলল বোর্ড

প্রতারণা ও মানহীনতার অভিযোগে প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘের প্রযোজিত ছয় সিনেমার সার্টিফিকেশন আবেদন বাতিল করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড।সিনেমাগুলো হলো—‘পরিণাম’, ‘রঙ্গশালা’, ‘রক্ত পিপাসা’, ‘রসু খাঁ’, ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ ও ‘বনদস্যু’। গত ৩০ জুলাই সিনেমাগুলো বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। এরপর ১২ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যায়ক্রমে সিনেমাগুলো যাচাই-বাছাই করেন বোর্ড সদস্যরা।বোর্ডের অভিযোগ, ‘পাহাড়ের আর্তনাদ’ ২০২২ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘যমজ ভূতের গল্প’-এর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। একইভাবে ‘বনদস্যু’ সিনেমার গল্প, সংলাপ ও দৃশ্য ২০২৩ সালে সার্টিফিকেট পাওয়া ‘আমার অরণ্য’ সিনেমার সঙ্গে মিলে গেছে।এ ছাড়া বাকি চার সিনেমায় অশ্লীল সংলাপ, মদ্যপান-ধূমপানের দৃশ্য, নিম্নমানের নির্মাণ ও কনটেন্টের অভিযোগ এনে এগুলোকে প্রদর্শনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।প্রতারণার অভিযোগে কেন প্রযোজকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বোর্ড।তবে অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মনজুরুল ইসলাম মেঘ বলেছেন, আগের দুটি সিনেমার স্বত্ব তিনি কিনেছেন। বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ছয় সিনেমা বাতিল, প্রযোজক মেঘকে ব্যাখ্যা দিতে বলল বোর্ড

অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েও কেন এত জনপ্রিয় শাবানা

বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শাবানা কেবল একজন নায়িকা নন; তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতীক, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের আবেগের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। রূপালী পর্দায় তাঁর অভিনয় লক্ষ কোটি দর্শকের মনে এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।শাবানা এমন একটি সময়ে অভিনয় করেছেন যখন চলচ্চিত্র ছিল বাঙালি পরিবারের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। মা, ভাবি, স্ত্রী কিংবা আত্মত্যাগী বোনের চরিত্রে তাঁর অভিনয় এতই নিখুঁত ও জীবন্ত ছিল যে সাধারণ মানুষ তাঁর চরিত্রের মধ্যে নিজেদের দুঃখ-সুখ ও জীবন সংগ্রাম খুঁজে পেত।পর্দার চরিত্র নির্বাচন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন—সবক্ষেত্রেই তিনি দারুণ শালীনতা বজায় রেখেছেন। ফলে তিনি কেবল তরুণ প্রজন্মের কাছেই নায়িকা ছিলেন না, বরং পরিবারের আবালবৃদ্ধবনিতার কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।ভাত দে, ছুটির ঘণ্টা, রাঙাভাবী, পেনশন, সত্য মিথ্যা কিংবা অবুঝ শিশু-র মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা তাঁকে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। ভাত দে সিনেমায় 'বাসন্তী' চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনন্য এক দৃষ্টান্ত। рекорд ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়।শুধু শান্ত ও আত্মত্যাগী চরিত্রই নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী নারীর চরিত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। গ্রামীণ বধূ থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত ও কর্মজীবী নারী—সব ধরনের রূপেই তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।ক্যারেরিয়ারের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অবস্থায় ১৯৯৮ সালে তিনি অভিনয়কে বিদায় জানান। খ্যাতি বা লাইমলাইটের লোভে পড়ে মানহীন কাজ করেননি। অন্তরালে গিয়েও নিজের সম্মান ও ব্যক্তিত্ব ধরে রাখা এবং নীরবে নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাওয়া তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।মূলত তাঁর অভিনয়শৈলী, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের কারণেই যুগের পর যুগ পার হলেও শাবানাকে সাধারণ দর্শক আজও ভুলতে পারেনি।

অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েও কেন এত জনপ্রিয় শাবানা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream