শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
মক্কার কাছে হুতির ড্রোন ঠেকাল সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী

মক্কার কাছে হুতির ড্রোন ঠেকাল সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী

একটি হুতি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে। ড্রোনটি মঙ্গলবার মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার ভোরে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র স্থান এবং সেখানে থাকা মুসল্লি ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনের জন্য সেখানে সমবেত হন। আল-মালিকি দাবি করেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ বলেন, মক্কায় হামলার অভিযোগ ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে মক্কার ঘটনায় হুতিদের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে মক্কাসহ আরও কয়েকটি শহর রয়েছে। ইরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের এক সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এসব সতর্কতা জারি করা হলো। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তা সতর্কতার পর সৌদি আরব ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। মার্কিন নাগরিকদের জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের হুমকির কারণে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ওই এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে মুখ করে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি অংশ পরিবহন করা হয়। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি বড় হামলার দাবি করেছে হুতিরা। সোমবার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে তারা। হুতিদের ভাষ্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।  

সৌদির তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের ড্রোন হামলার দাবি

সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। হামলার পর ওই স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে হামলাটি হুথি বিদ্রোহীদের চালানো কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি রিয়াদ।রোববার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, একটি ড্রোনের মাধ্যমে জিজানের শোধনাগারটি ‘নির্ভুলভাবে’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি ড্রোনের অনুপ্রবেশের প্রতিক্রিয়াতেই এ হামলা চালানো হয়।সারি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তর ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি আরবের গোয়েন্দা ও নজরদারি ড্রোনের তৎপরতা দেখা গেছে। ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ জবাব হিসেবেই সৌদি আরামকোর স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ভোরে জিজানে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় আগুন লাগে এবং তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলা বা আগুন লাগার কারণ জানায়নি।তবে হামলায় শোধনাগারটির কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।     

সৌদির তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের ড্রোন হামলার দাবি

হুথিদের হামলার জবাবে ইয়েমেনে সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান

হুথিদের সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণহানির পর ইয়েমেনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার জবাবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির বিভিন্ন ঘাঁটি ও অবস্থান লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। শনিবার (৮ আগস্ট) মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি জানান, একাধিক ফ্রন্ট ও সামরিক অক্ষ বরাবর হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর ১৭ সদস্য নিহত হন। হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ এনে সেনা মুখপাত্র বলেন, গোষ্ঠীটি বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতি দুর্বল করা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো সংঘাত বৃদ্ধির জন্য হুতি ও তাদের পেছনের মদদদাতারা দায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে আক্রমণ অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী ‘দ্বিধাহীনভাবে’ জবাব দেবে। হুতিদের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবে জুলাইয়ের শুরু থেকেই সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।সূত্র: মিডল ইস্ট আই

হুথিদের হামলার জবাবে ইয়েমেনে সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream