সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম কমেছে। এর আগে দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত নীতির বিষয়ে নতুন ধারণা পেতে চান বিনিয়োগকারীরা। খবর রয়টার্স।
এদিন স্পট মার্কেটে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে নেমে আসে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে তা স্বর্ণের দামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হতে পারে। এতে ফেডারেল রিজার্ভের আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমবে এবং প্রকৃত সুদের হারের চাপও কিছুটা প্রশমিত হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও কমে আসা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এতে তেলের দাম ও মার্কিন ডলারের দর কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চুক্তির বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো মার্কিন ডলারের দর সোমবারও শক্ত অবস্থানে ছিল। ডলারের দর বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা এখন বুধবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য। এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের লেনদেনকারীরা অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ বলে মনে করছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা আরও কমেছে। এতে দেশটির অর্থনীতি নিয়ে পরিবারগুলোর মূল্যায়ন নেতিবাচক হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে অবশ্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ ডলার ১৮ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৫৯ ডলার ৬২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।